গর্ভাবস্থায় যে ঝুঁকিগুলো সম্বন্ধে সব মহিলাদের অবশ্যই জানা উচিৎ।

প্রেগনেন্সির সময় মহিলাদের অনেক ব্যাপারে সাবধানী হতে হয়, বিশেষত তার শরীরের মধ্যে ঘটে চলা বিভিন্ন পরিবর্তনগুলো সম্বন্ধে তাঁকে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতেই হয়। এবং এই সতর্কতাগুলো খুবই জরুরী কারণ আজকালকার যুগে অনেক মহিলাকেই হাই রিস্ক প্রেগনেন্সির মধ্যে দিয়ে যেতে হয়। এবং প্রেগনেন্সির সময় মহিলারা যথেষ্ট সতর্ক না থাকলে তাঁদের নিজেদের এবং গর্ভের সন্তান; উভয়ের স্বাস্থ্যই ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। যে সব মহিলাদের হাই রিস্ক প্রেগনেন্সির মধ্যে দিয়ে যেতে হয়; তাঁদের আরও বেশি সতর্ক থাকতে হয়। শুধু তাই নয়, প্রেগনেন্সির সময় মহিলাদের উচিৎ নিয়মিত ডাক্তারদের পরামর্শ নেওয়া এবং ডাক্তারের কথা মত চলা যাতে প্রেগনেন্সি বিষয়ক যাবতীয় ঝুঁকি থেকে দূরে থাকা যায়। গর্ভাবস্থার বিভিন্ন রকমের ঝুঁকি থাকে আর সেগুলো সম্বন্ধে সঠিক তথ্য জেনে রাখাটা অত্যন্ত জরুরী; তেমনই কিছু ঝুঁকির কথা এ'খানে বলা রইল যে'গুলোর ব্যাপারে প্রেগন্যান্ট মায়েদের সতর্ক থাকা উচিৎ:

জেস্টেশনাল ডায়েবেটিসঃ

জেস্টেশনাল ডায়াবেটিস (যে ডায়াবেটিসে মহিলারা প্রেগনেন্সির সময় আক্রান্ত হন) তখন হয় যখন গর্ভবতী মহিলাদের রক্তে চিনির (গ্লুকোজ) পরিমাণ অত্যধিক বেড়ে যায়। এর মানে আপনার শরীরের মধ্যে যখন যথেষ্ট পরিমাণে ইনসুলিন হরোমন তৈরি হয় না, তখন সেই পরিস্থিতিতে ব্লাড শুগারের স্তর অনেকটা বেড়ে যেতে পারে। আর অত্যধিক ব্লাডশুগারে গর্ভবতী মা এবং তাঁর গর্ভের সন্তান, দু'জনেই ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে। এই জন্য প্রেগনেন্সির সময় মহিলাদের উচিৎ নিজেদের যতটা সম্ভব সাবধানে এবং যত্নে রাখা।

প্রিএক্ল্যাম্পসিয়াঃ

গর্ভাবস্থায় মহিলাদের যে'সব সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়, সে’গুলোর মধ্যে অন্যতম জটিল সমস্যা হচ্ছে রক্তচাপ বা ব্লাডপ্রেশারের বেড়ে যাওয়া। এই বেড়ে যাওয়া রক্তচাপ প্রেগনেন্ট মহিলার জন্য যেমন অস্বাস্থ্যকর, তেমনই তাঁর গর্ভের সন্তানের জন্যও অত্যন্ত ক্ষতিকারক কারণ এ’তে তার বেড়ে ওঠা বিঘ্নিত হয়। সাধারণত দেখা যায় মহিলারা এই সমস্যায় ভুগতে শুরু করেন প্রেগনেন্সির ২০ সপ্তাহের মাথায়। ব্যাপারটা বেশ গুরুতর আর এমন সমস্যা দেখা দিলেই গর্ভবতী মায়েদের উচিৎ অবিলম্বে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া।

গর্ভে যমজ শিশু:

কোনও মহিলার গর্ভে যদি যমজ শিশু থেকে থাকে তাহলে সে ক্ষেত্রে বাড়তি কিছু প্রেগনেন্সি বিষয়ক সমস্যা থাকতে পারে। সেই সব মহিলাদের বিশেষ যত্নের মধ্যে থাকা দরকার এবং ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী সমস্ত সতর্কতা মেনে চলা উচিৎ।

আম্বিলিকাল কর্ডের বড় হয়ে যাওয়া:

প্রেগনেন্সির সময় প্ল্যাসেন্টা আর আম্বিলিকাল কর্ডের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। গর্ভের শিশু নিজের প্রয়োজনীয় অক্সিজেন এবং যাবতীয় পুষ্টিগুণ এই আম্বিলিকাল কর্ডের মাধ্যমেই সংগ্রহ করে। কিন্তু প্রসবের আগে বা প্রসবের সময় যখন এই প্ল্যাসেন্টা বা আম্বিলিকাল কর্ড গর্ভাশয় থেকে বাইরে বেরিয়ে আসে তখন পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠতে পারে। কখনও কখনও এই আম্বিলিকাল কর্ড যোনীর মাধ্যমে বেরিয়ে এসে ভ্রূণের জন্য অবরোধের সৃষ্টি করতে পারে যা মা এবং শিশু দু’জনের জন্যেই বিপদজনক। এমন পরিস্থিতিতে পড়লেই দেরী না করে ডাক্তারের কাছে ছুটে যাওয়া উচিৎ।

গর্ভের শিশুর সঠিক ভাবে বেড়ে না ওঠা:

গর্ভে শিশুর বেড়ে ওঠার হার স্বাভাবিকের থেকে কম হওয়া মানেই প্রেগনেন্সিতে জটিলতা চলে আসা। এই সব ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্ক থাকা প্রয়োজন আর নিয়মিত ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে সেই মত চলা উচিৎ।

এক্টোপিক প্রেগনেন্সিঃ

এক্টোপিক প্রেগনেন্সি হচ্ছে এমন একটা পরিস্থিতি যে’খানে গর্ভের শিশুর বিকাশ বাধাপ্রাপ্ত হয়। কী ভাবে এই পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে? এ'টা তখন ঘটে যখন ভ্রূণ ইউট্রাসের বদলে ফ্যালোপিয়ান টিউবের ভিতরে বেড়ে উঠতে শুরু করে। এ’টা মা এবং  মায়ের গর্ভের শিশু দু’জনের জন্যই অত্যন্ত ক্ষতিকারক। কাজেই এ’মন পরিস্থিতিতে সবার আগে দরকার ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়ার।

হাই রিস্ক প্রেগনেন্সির সময় বিভিন্ন জটিলতা কাটিয়ে ওঠার জন্য কী কী করা উচিৎ?

যখনই আপনি জানতে পারবেন যে আপনার প্রেগনেন্সি হাই রিস্ক  বা অত্যন্ত ঝুঁকি সম্পন্ন,  তখন এ বিষয়ে সমস্ত জটিলতার কথা বিষদে জানতে এবং সে’গুলো সামাল দিতে তৎক্ষণাৎ ডাক্তারের পরামর্শ নিন আর তাঁর কথা মতই চলুন।  আর আপনার যদি কোনও ক্ষতিকারক নেশা থেকে থাকে, যেমন সিগারেট খাওয়া বা মদ্যপান, তাহলে সেগুলোও অবিলম্বে ত্যাগ করুন কারণ এই সব নেশা আপনার প্রেগনেন্সির ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।

আর শুধু তাই নয়, এই সময় আপনার সামান্য অসতর্কতাও নানা রকম বিপদ এবং জটিলতার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে যেমন; সঠিক সময়ের অনেক আগে শিশুর জন্ম, জন্মের সময় শিশুর ওজন কম থাকা, এমন কী শিশুমৃত্যুর মত ভয়াবহ ঘটনাও ঘটতে পারে।

 

Translated By Durga Mohanakrishnan

loader