আপনি কি জানেন যে সি-সেকশনের পর পরই দ্বিতীয় সন্তানের প্ল্যান করা বেশ ক্ষতিকারক হতে পারে?

ভারতে যে সেলিব্রেটি মায়েদের সি-সেকশন হয়েছে, তাঁদের মধ্যে বেশির ভাগ মায়েরাই পরের প্রেগনেন্সির দিকে তড়িঘড়ি পা বাড়াননি এবং সে’টাই সুবিবেচনার লক্ষণ।
শিল্পা শেঠির কথাই ধরুন, ওঁর সি-সেকশন হয়েছিল এবং তারপরেও তিনি জনসমক্ষে
বলেছেন শারীরিক ভাবে তিনি আগের চেয়ে ঢের ভালো আছেন।
বিশ্বাস হচ্ছে না? তা’হলে এই লিঙ্কে গিয়ে দেখুন তিনি আদতে ঠিক কী বলেছেন।

অন্যদিকে পশ্চিমের দিকে তাকিয়ে দেখুন, অ্যাঞ্জেলিনা জোলী ঠিক এর উলটো কাজ করেছেন। জোলীর যমজ সন্তান নক্স আর ভিভিয়েনের জন্ম হয় শিলোর জন্মের ঠিক দু’বছরের মাথায়। এবং অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে বলতে হচ্ছে যে তার ফলাফল যে
খুব একটা ভালো হয়নি সে’টা অ্যাঞ্জেলিনার ভেঙে পড়া শরীর আর ক্লান্ত চেহারা দেখে স্পষ্ট বোঝা যায়।

অনেক সময় যখন কোনও মহিলা একটু বেশি বয়সে এসে প্রথম সন্তান প্রসব করেন (ধরুন তিরিশের পরে), সে ক্ষেত্রে অনেক সময় তাঁরা পরের ইস্যুর ব্যাপারেও
তাড়াহুড়ো করে ফেলেন। সে ইচ্ছেটা অমূলক নয় কিন্তু আমাদের বোঝা উচিৎ যে এই তাড়াহুড়োর কিছু গোলমেলে দিক আছে, বিশেষত মায়ের স্বাস্থ্যের দিক থেকে।

একবার সি-সেকশন হয়ে যাওয়ার পর প্রত্যেক মায়ের উচিত নিজেকে যথেষ্ট সময় দেওয়া যা’তে তিনি যথেষ্ট বিশ্রাম নিয়ে শারীরিক ও মানসিক ভাবে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠতে পারেন।

সি-সেকশনের পর দ্রুত পরের ইস্যুর সিদ্ধান্ত নিতে চলেছেন? সে ক্ষেত্রে এই পাঁচটা ঝুঁকি সম্বন্ধে আপনার অবহিত থাকা উচিৎ :

১. ইউটেরিন রাপচার (Uterine Rupture)

ইউট্রাসে ক্ষতর সম্ভাবনা অনেকটা বেড়ে যায় যদি সি-সেকশনের পর পরই কোনও মা ফের সন্তানসম্ভবা হন।

২. ফোলেট, আয়রন এবং ক্যালসিয়াম দ্রুত কমে যাওয়া।

একটা সি-সেকশন অপারেশনের পর একজন মায়ের এক বছরেরও বেশি সময় লাগে শারীরিক ভাবে সম্পূর্ণ সুস্থতা লাভ করতে। এ’টা জানা সত্ত্বেও যদি পরের ইস্যুর ব্যাপারে কেউ তাড়াহুড়ো করেন তাহলে সে ক্ষেত্রে তাঁর শরীরে ফোলেট, আয়রন এবং ক্যালসিয়ামের অভাব দেখা দিতে পারে (এই পদার্থগুলো গর্ভের সন্তানের স্বাস্থ্যের জন্যও অত্যন্ত জরুরী)।

৩. প্রবল শারীরিক ও মানসিক ক্লান্তি।

সন্তান জন্মের পর পরই মায়ের শরীরে জরুরী ভিটামিনগুলোর সরবরাহ কম থাকে এবং এর পর যখন সদ্যজাত শিশুর যত্ন নেওয়ার দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিতে হয়, তখন অনেক সময় মায়েদের দেহ ও মনে প্রবল ক্লান্তির ছাপ এসে পড়ে। এতে তাঁদের মনসংযোগ কমে যায় আর বিরক্তি বাড়ে।

৪. দুর্বল হৃদয়।

প্রেগন্যান্সির সময় সন্তানসম্ভবা মায়েদের দেহে রক্তের সরবরাহ প্রায় ৫০% বেড়ে যায় এবং এর ফলে হৃদ-যন্ত্রে বাড়তি চাপ পড়ে। সি-সেকশন হওয়ার দু’বছরের মধ্যে দ্বিতীয়বার অন্তঃসত্ত্বা হলে হৃদযন্ত্রের ওপর চাপ আরও বৃদ্ধি পায় এবং এর ফলে হৃদয় দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।

৫. লো লায়িং প্ল্যাসেন্টা (Low Lying Placenta)

লো লায়িং প্ল্যাসেন্টা বা প্ল্যাসেন্টা প্রেভিয়াতে প্ল্যাসেন্টা জঠরের নীচের দিকে থাকে আর যোনিদ্বার দিয়ে শিশুর ভূমিষ্ঠ হওয়ার পথে বাধা সৃষ্টি করে। এ ক্ষেত্রে প্রেগনেন্সির সময় অল্প রক্তক্ষরণও হতে পারে। সি-সেকশন হলে সেই সম্ভাবনা আরও বেড়ে যায় যদি মায়েরা চটজলদি দ্বিতীয়বার সন্তানসম্ভবা হয়ে পড়েন।

ডাক্তারদের মতে দু’টো সি-সেকশন ডেলিভারির মধ্যে দুই থেকে পাঁচ বছরের ফারাক থাকা উচিৎ।

সব থেকে ভালো হয় দ্বিতীয় সন্তানের প্ল্যানিং যদি প্রথম সন্তানের দু’বছর বয়স হওয়ার পরেই করা হয়। সে’টাই হবে আদর্শ সময়।

আপনার প্রেগন্যান্সির দিনগুলো সুস্থ ভাবে কাটুক, ভালো থাকুন।

Translated by Tanmay Mukherjee

loader