সি-সেকশনের বিষয়ে যে’সব গোপন তথ্য ডাক্তারের কাছ থেকেও জানতে পারবেন না।

সি-সেকশনের মধ্যে দিয়ে যাওয়া মায়েদের ক্ষেত্রে প্রসব ব্যাপারটা নেহাত সহজ নয়, বিশেষত শিশুর জন্মের জন্য অপারেশন ব্যাপারটাই একটা বড়সড় ঝক্কি। আজ্ঞে হ্যাঁ, সি-সেকশন একটা রীতিমত বড় সার্জারি আর এ ক্ষেত্রে মায়েদের ওপর বেশ একটা ঝড় বয়ে যায়। ডাক্তারের সঙ্গে কথাবার্তা বলে আপনি অ্যানেস্থেসিয়া, অপারেশনের আগে পরের নিয়মকানুন বা অন্যান্য অনেক বিষয়ে আগাম কিছু খবর নিয়ে রাখতেই পারেন। কিন্তু তবুও, সি-সেকশনের ব্যাপারে এমন অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য রয়েছে যা সহজে জানা যায় না, এমন কী সে’সব বিষয়ে ডাক্তাররাও সহজে মুখ খুলতে চান না।

অতএব নীচে দেওয়া রইল সি-সেকশনের ব্যাপারে পাঁচটা এমন তথ্য যা কোনও ডাক্তারও সচরাচর আপনাকে জানাবেন না। 

১। সি-সেকশন পদ্ধতিতেও ভ্যাজিনা জড়িত থাকে।

শিশুর জন্ম পদ্ধতি যেমনই হোক না কেন, মায়ের যোনিপথ সে পদ্ধতির সঙ্গে জড়িত থাকবেই। হ্যাঁ, সি-সেকশন হলেও। নর্মাল ডেলিভারির ক্ষেত্রে ভ্যাজিনাল ওয়াশ বা যোনিপথ পরিষ্কারের কাজটা করা হয়ে ডেলিভারির পরে। কিন্তু সি-সেকশনের ক্ষেত্রে ব্যাপারটা আলাদা। এ ক্ষেত্রে অপারেশন শেষের রক্তক্ষরণের কথা মাথায় রেখে;ভ্যাজিনাল ওয়াশ করা হয় অপারেশনের আগে। তা’ছাড়া সার্জারির আগে ও’খানে ক্যাথেটার ঢোকানো হবে, সে বিষয়েও আগে থেকে মানসিক প্রস্তুতি রাখা ভালো। 

২। টান অনুভব করা। 

অ্যানেস্থেসিয়ার জন্য আপনার পেট থেকে শরীরের সম্পূর্ণ নিম্নভাগ অবশ হয়ে থাকবে, আপনার তেমন কিছুই অনুভব করতে পারার কথা নয়। তবে আপনার সন্তানকে যখন তলপেট থেকে অপারেশনের মাধ্যমে বের করা হবে, তখন কিছুটা টান অনুভব করাটা অস্বাভাবিক নয়। 

৩। অপারেশনের সময় আপনাকে ঠাণ্ডায় কাঁপতে হতে পারে। 

অপারেশন থিয়েটারের তাপমাত্রা একটু নীচের দিকে রাখা হয় যা’তে বিভিন্ন অপারেশনের সময় থিয়েটারের পরিবেশ শীতল থাকে। সি-সেকশনের সময় যদিও নবজাতকের কথা ভেবে অপারেশন থিয়েটারের তাপমাত্রা বাড়ানো থাকে, তবুও; প্রায় অর্ধ-নগ্ন অবস্থায় আধ ঘণ্টা শুয়ে থাকা মানে আপনার গায়ে কনকনে ঠাণ্ডা লাগতেই পারে।

৪। অপারেশনের পর আপনার স্টুল সফ্‌নারের নিয়মিত প্রয়োজন হতে পারে। 

অপারেশনের পর মলত্যাগ একটা চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়াতে পারে। কারণ সি-সেকশনের পর তলপেটের ক্ষত সারতে সময় লাগে, কাজেই মলত্যাগের সময় তলপেটে বাড়তি চাপ পরা আদৌ অভিপ্রেত নয়। এই সময় স্টুল-সফ্‌নার আপনার জন্য বেশ কাজের জিনিস হয়ে দাঁড়াতে পারে। এ ছাড়া যে’টা করনীয় সে’টা হচ্ছে যথেষ্ট পরিমাণে জল খাওয়া। এই ব্যাপারে সাবধান হওয়াটা অত্যন্ত দরকারি যা’তে তলপেটে চাপ পড়ে আপনার অপারেশনের স্টিচ্‌ কোনও ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। 

৫। রক্তক্ষরণ থাকবেই।

নর্মাল ডেলিভারির মত আপনার শিশুর জন্ম যোনিপথ দিয়ে না হলেও, রক্তক্ষরণ ঘটবেই। কারণ প্ল্যাসেন্টা বাদ দেওয়ার পর ইউটেরিন ওয়ালের(uterine wall) বেশ কিছুটা সময় লাগে ক্ষত সারিয়ে উঠতে। তা’ছাড়া সি-সেকশন অপারেশনের পরের কয়েক সপ্তাহ জুড়ে সেই আস্তরণটা ঝরে যায় যা’তে ভর দিয়ে আপনার শিশু আপনার গর্ভে ন’মাস জুড়ে ছিল। তবে দুশ্চিন্তার কিছু নেই, এ’সব ক্ষেত্রে খুব বেশি মাত্রায় রক্তক্ষরণ হওয়ার কথা নয়। 

Translated by Tanmay Mukherjee

loader