যে ৬’টা ঘরের কাজ প্রেগন্যান্ট মহিলাদের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক!

ঘরে হোক বা বাইরে, নারী সর্বত্রই দশভুজা। বিভিন্ন কাজেকর্মে তাঁর দাপিয়ে বেড়ানোর ইচ্ছেটাও তাই অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু প্রেগন্যান্সির সময় তাঁর দেহ সমস্ত রকম কাজকর্মের ঝড় সামাল দিতে সক্ষম নাও হতে পারে। বিশেষত এই লেখায় যে ছ’টা ঘরের কাজের কথা উল্লেখ করা আছে, সে’গুলো প্রেগন্যান্ট মহিলাদের স্বাস্থ্যের পক্ষে রীতিমত ক্ষতিকারক হতে পারে। কাজেই পড়ুন এবং নিজের পরিচিত মহলে এই তথ্যগুলো ছড়িয়ে দিন। 

( CureJoy থেকে সংগৃহীত)

১। বাথরুমের সাফাই। 

বাথরুম সাফ করতে রকমারি কেমিকালের প্রয়োজন হয় আর বিপদটা সে’খানেই। প্রেগন্যান্ট অবস্থায় বিষাক্ত কেমিকালের গন্ধ বা ধোঁয়া নিজের শরীরে প্রবেশ না করতে দেওয়াই ভালো। প্রেগন্যান্ট মায়েদের জন্য একটা সহজ ফর্মুলা বাতলে দেওয়াই যায় “কোনও কিছুর গন্ধ অত্যন্ত কড়া মনে হচ্ছে? তবে সে’টাকে এড়িয়ে চলুন”। অতএব বাথরুম সাফাইয়ের কাজটা অন্য কাউকে করতে দিন। তবে একান্তই যদি নিজেকে বাথরুম সাফ করতে হয় তা’হলে লেবুর রস, সাদা ভিনিগার আর বেকিং সোডা মিশিয়ে নিজের বাথরুম ক্লীনিং ফর্মুলা তৈরি করে ফেলুন। আর হ্যাঁ, এমন বেশ কিছু বাথরুম ফ্রেশনার আছে যার সুবাসেও থাকতে পারে ক্ষতিকারক কেমিক্যাল, সেগুলোর থেকেও সাবধান হওয়াটা জরুরী।

২। ভ্যাকুম ক্লীনিং আর ঘর মোছা। 

প্রেগনেন্সির সময় শুয়ে বসে কাটানো বেশ আরামদায়ক ব্যাপার। যে’টা আদৌ আরামদায়ক নয় সে’টা হল ঘরবাড়ি  ঝাড়পোছ ধোয়ামোছা করে  প্রবল পিঠ ও পা ব্যথায় জেরবার হয়ে পড়াটা।  প্রেগন্যান্ট অবস্থায় ভ্যাকিউম ক্লীনার চালালে বা ঘর মুছলে যন্ত্রণাদায়ক সায়াটিকার  (sciatica – পিঠ, পা, নিতম্বে অসহ্য যন্ত্রণা) কবলে পড়ে ভুগতে হতে পারে। প্রেগন্যান্সির সময় এমন কোনও কাজই করা উচিৎ নয় যা করতে হলে সামনের দিকে ঝুঁকতে হতে পারে, কারণ এ’তে পিঠের ব্যথা বাড়ার সমূহ সম্ভাবনা। প্রেগনেন্সির সময় ওজন বেড়ে যায় এবং তা’তে সায়াটিকা (sciatica)য় আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনাও বেড়ে যায়। কাজেই প্রেগনেন্সির সময় অন্তত ঘর মোছা বা কার্পেট সাফ করার মত ব্যাপারগুলোর থেকে নিজেকে দূরে রাখুন। রিল্যাক্স করুন, ভালো থাকুন।

৩। কাপড়জামা কাচাকাচি। 

প্রেগন্যান্ট অবস্থায় কাপড়জামা কাচা ঠিক কতটা ক্ষতিকারক জানেন? এর ফলে হতে পারে হাই ব্লাড প্রেশার বা অসময়ে ঘটে যেতে পারে প্রসববেদনা। প্রেগন্যান্সির সময় এই কাজটা আপনাকে এড়িয়ে চলতেই হবে নইলে সমূহ বিপদ। ঝুঁকে পড়ে কাপড়জামার বালতি তুলতে গেলে আপনার পিঠে বাড়তি চাপ পড়বে। যদি কাচা-ধোয়া করতেই হয়, তাহলে পরিবারের অন্য কাউকে বলুন আপনাকে ভারি বালতি তুলতে বা কাপড়জামা মেলতে সাহায্য করতে। আশা করা যায় যে একজন প্রেগন্যান্ট মহিলাকে সাহায্য করতে কেউই পিছপা হবেন না।   

৪। পোষা জন্তু-জানোয়ারের নোংরা সাফ করা। 

কড়া কেমিকালের মতই পোষা কুকুর বেড়ালের মল-মূত্রের মধ্যেও রয়েছে এমন কিছু উপাদান যা প্রেগন্যান্ট মহিলাদের জন্য ক্ষতিকারক। যেমন ধরুন বেড়ালের মলের মধ্যে দিয়ে খুব সহজেই ইনফেকশন ছড়িয়ে পড়তে পারে যা আপনার শিশুর জন্য ক্ষতিকারক। আপনি প্রেগন্যান্ট হলে কুকুর বা বেড়ালের নোংরা সাফ করার দায়িত্বটা  এই সময় অন্তত বাড়ির অন্যদের সামলাতে দিন। আর নিজেকে যদি করতেই হয় তাহলে গ্লাভস আর মাস্ক পরে করুন; ইনফেকশন যতটা সম্ভব বাঁচিয়ে চলা যায় আর কী। সাফাই হয়ে গেলে ভালো করে হাত ধুয়ে ফেলুন। 

৫। ভারী ওজন বওয়া।  

প্রেগন্যান্সির সময় ভারী ওজন বয়ে বেড়ানো অনুচিত। ডাক্তাররা অবশ্য এ বিষয়ে সঠিক ভাবে বলতে পারবেন যে ঠিক কতটা ওজন আপনি দুশ্চিন্তা না করে বইতে পারেন। তবে এ’টুকু ঠিক যে খুব ভারী কোনও কিছু এ সময় বয়ে না বেড়ানোই মঙ্গল। এ সময় পেট যত বড় হবে পিঠের ওপর চাপ তত বাড়বে। বাড়তি ওজন বইলে এ সময় পিঠের অবস্থা করুণ হয়ে উঠতেই পারে, কাজেই যথাযথ সাবধানতা অবলম্বন করুন। মেঝে থেকে ভারী কিছু তুলতে হলে দুম করে ঝুঁকে না পড়ে উবু হয়ে বসে সাবধানে তুলতে চেষ্টা করুন। 

৬। সিলিং ফ্যান বা পর্দা সাফ করা। 

প্রেগন্যান্সির সময় মহিলাদের হাঁটাচলার স্টাইল পালটে যায় কারণ এ সময় তাঁদের সেন্টার অফ গ্র্যাভিটি পালটে যায়।  ফলে এ সময় আপনার হঠাৎ পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও অনেকটা বেড়ে যায়, বিশেষত ওঠানামার সময়। মই বা চেয়ার বেয়ে উঠে সিলিং ফ্যান ও পর্দা সাফ করার মত দুরূহ কাজ আদৌ করা উচিৎ নয়। প্রেগন্যান্সির সময় উটকো বিপদ এড়াতে এ’সব কাজ বাড়ির অন্য কাউকে করতে বলুন। 

Translated by Tanmay Mukherjee

loader