৫টা টিপস যা আপনার সন্তান প্রসবের অভিজ্ঞতাকে করে তুলতে পারে অনেক সহজ!

“আমায় ষোল ঘণ্টা প্রসব বেদনা সহ্য করতে হয়েছে”।
“বটে? আমায় চব্বিশ ঘণ্টা সহ্য করতে হয়েছে”!

আপনার ডিউ ডেট যত এগিয়ে আসবে, এই ধরণের হাড় কাঁপানো গল্প আপনাকে তত বেশি করে শুনতে হবে। তবে আপনার চিন্তা দূর করতে রইল ৫টা এমন টিপস যা আপনার প্রসব যন্ত্রণাকে কিছুটা হলেও লাঘব করতে পারবে।

এই টিপসগুলো কী ভাবে কাজ করে তার সুস্পষ্ট কোনও ব্যাখ্যা না থাকলেও, এই টিপসগুলো বহু যুগ ধরে ব্যবহৃত হচ্ছে এবং এ’তে বহু মহিলা উপকৃত হয়েছেন। এই ঘরোয়া টোটকাগুলো মেনে চলতে পারলে প্রসব যন্ত্রণা কমে আসে, অন্যান্য প্রসব ঘটিত সমস্যা এড়ানো যায় এবং সি-সেকশনের দুশ্চিন্তাও দূর হতে পারে।

প্রেগনেন্সির শেষ সপ্তাহটা সব থেকে কঠিন আর যাবতীয় দুশ্চিন্তা এই সময়ই ঘনীভূত হয়। এই সময় আপনার ভালো থাকার জন্য আপনার স্বামীর সমর্থন ও ভালোবাসা অত্যন্ত জরুরী।

ডাক্তারদের অন্ধ বিশ্বাস করে ঠকবেন না। আজকের যুগে অনেক ডাক্তারদেরই ব্যবসার কথা ভাবতে হয় এবং বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই সে ব্যবসা ঘটে আপনার ভালোমন্দের তোয়াক্কা না করে। এই অসাধু ব্যবসার কারণেই আজকাল আকছার দেখা যাচ্ছে অদরকারেও ঘটছে সি-সেকশন ডেলিভারি বা বাবা মায়েদের ওপর তৈরি হচ্ছে অকারণ চাপ।

এমন বহু টোটকা রয়েছে যে’গুলো ব্যবহার করে যুগযুগান্তর ধরে সন্তানসম্ভবা মায়েরা প্রসবের সময় উপকৃত হয়েছেন। এ’সব টিপসগুলো আজ থেকে বহু বছর আগেও ব্যবহৃত হয়েছে, আজও হচ্ছে এবং এ’তে মায়েদেরর মঙ্গলও হচ্ছে। অতএব স্রেফ যৌক্তিকতায় আটকে না থেকে এগুলো সম্বন্ধে অবহিত হোন এবং চেষ্টা করুন এগুলো মেনে চলতে।

১. গরম স্যুপ খাওয়া।

প্রথম কন্ট্রাকশন অনুভব করার সঙ্গে সঙ্গে আপনার স্বামী বা সঙ্গে রয়েছেন এমন কাউকে বলুন আপনাকে গরম স্যুপ করে দিতে। উষ্ণ স্যুপ এ সময় আদর্শ কারণ এ’তে আপনার শরীর প্রসবের জন্য প্রস্তুত হয়।

২. ক্যাস্টর অয়েল মিশিয়ে কফি পান করুন।

ঘণ্টাখানেক পর এক কাপ কফিতে এক চামচ ক্যাস্টর অয়েল মিশিয়ে পান করুন। ক্যাস্টর অয়েল মেশানো কফি যে তেমন সুস্বাদু হবে না সে’টা বলাই বাহুল্য, তবে হাসপাতাল মুখো হওয়ার আগে এই পানীয় আপনার শরীরকে সঠিক ভাবে প্রসবের জন্য প্রস্তুত করবে।

৩. দুই চামচ ঘি মেশানো এক কাপ সিমুই (সিমুইয়ের পায়েস)।

আরও এক ঘণ্টা পর এক কাপ সিমুই বা দুধে দুই চামচ ঘি মিশিয়ে খেয়ে ফেলুন। এতে নাকি যোনিপথ প্রসবের জন্য আরও পিচ্ছিল হয়ে ওঠে তবে সে’টা ঠিক কী ভাবে হয় সেই প্রক্রিয়াটা স্পষ্ট নয়।

৪. হাঁটাহাঁটি।

প্রসব যন্ত্রণা ওঠার পর তিন ঘণ্টা কেটে গেলে আর বসে থাকবেন না। যতটা সম্ভব হাঁটুন বা পায়চারি করুন। হাঁটাহাঁটি আপনার পেলভিক মাসলে চাপ সৃষ্টি করে এবং সুতীক্ষ্ণ প্রসব যন্ত্রণাকে সামান্য হলেও কম করে।

৫. মাঝে মধ্যে হাঁটু ভাঁজ করে (উবু হয়ে) বসুন।

হাঁটাহাঁটির মাঝে কন্ট্রাকশন অনুভূত হলে মিনিট খানেকের জন্য উবু হয়ে বসুন, এ’তে পেলভিক মাসল শিথিল হয় এবং প্রসব তুলনামূলক ভাবে সহজ হয়ে আসে।

ঠিক এই উপদেশগুলোই আমাদের দিদিমা-ঠাকুমারা দিয়ে থাকেন এবং বহুযুগ আগে থেকে ভারতীয় মহিলারা এই নিয়মগুলোয় অভ্যস্ত। আগে যখন আজকের মত সহজে ডাক্তার পাওয়া যেত না আর শিশুর জন্ম বেশির ভাগ ক্ষেত্রে বাড়িতেই হত, মহিলারা এই পদ্ধতিগুলোই ব্যবহার করতেন সন্তানপ্রসবের সময়।

তবে হ্যাঁ, আধুনিক স্বাস্থ্য বিজ্ঞানের প্রতি আমাদের গভীর আস্থা রয়েছে এবং দেশের সরকার ও স্বাস্থ্যব্যবস্থার প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ যে আজকাল শিশুর জন্ম হাসপাতালে হওয়াটাই বাধ্যতামূলক (বিশেষত বার্থ সার্টিফিকেটের জন্য)। এ’তে মা আর সন্তান দু’জনের স্বাস্থ্যই সুরক্ষিত থাকে।

কিন্তু দিদা-ঠাকুমাদের এই আদি অকৃত্রিম টোটকাগুলো ব্যবহারে কোনও ক্ষতি তো নেই। টিপসগুলো মেনে চলুন, নিশ্চিতভাবে উপকৃত হবেন।

Translated by Tanmay Mukherjee

loader