প্রসবের সময় এপিডিউরাল নেওয়ার ১১টা ভয়ঙ্কর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া।

অপার স্বস্তি। আর যন্ত্রণাহীন প্রসব। যে কোনও প্রসবিনীর জন্যেই এপিডিউরাল একটা আশীর্বাদ, এ নিয়ে কোনও দ্বিমত থাকতে পারে না। এপিডিউরাল প্রায় যেন দেবদূতের মত; নারীর যন্ত্রণা দূর করতেই যার এই পৃথিবীতে অবতারণা। তবে বিধির বিধান অত সহজে খণ্ডন করা সম্ভব নয় বোধ হয়। । এপিডিউরাল ঠিক ততটা যন্ত্রণাহীন নয় যতটা আমরা ভেবে থাকি।  কিওরজয় (CureJoy)-য়ের একটা লেখায় এপিডিউরালের ১১টা ভয়ানক পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার কথা বলে হয়েছে যে’গুলোর কথা সাধারণত মায়েদের মাথায় থাকেনা যখন তাঁরা ডাক্তারকে এপিডিউরাল দেওয়ার কথা বলেন। তবে সবার আগে আমাদের জানা দরকার, এপিডিউরাল কী?

প্রেগনেন্সির সময় এপিডিউরালঃ 

সন্তান প্রসবের সময় এপিডিউরাল হচ্ছে যন্ত্রণা কমানোর সবচেয়ে ভালো এবং প্রচলিত উপায়। আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের বেশির ভাগ হাসপাতালে এ’টা ব্যবহার করা হয়। এ ক্ষেত্রে সাধারণত লোকাল অ্যানেস্থেটিক ব্যবহৃত হয় যে’টা ইঞ্জেক্ট করা হয় মেরুদণ্ডের এপিডিউরাল অঞ্চলে (স্পাইনাল কর্ডের চারপাশের শক্ত আস্তরণের পাশে) যা’তে সমস্ত যন্ত্রণাদায়ক অনুভূতিকে আটকে দেওয়া যায়।   

এ’টা কি সত্যিই দরকারি?

এর কোনও সহজ উত্তর দেওয়া সম্ভব নয়। প্রত্যেক মানুষের যন্ত্রণা সহ্য করতে পারার ক্ষমতা আলাদা। কাজেই প্রসবের সময় কোন মায়ের যদি মনে হয় যে তাঁর প্রসব যন্ত্রণা অসহ্য হয়ে উঠছে তাহলে তিনি এপিডিউরাল পদ্ধতির দিকে ঝুঁকতেই পারেন। 

প্রসবের সময় এপিডিউরাল – এ’টা কী ভাবে কাজ করে?

আর পাঁচটা লোকাল অ্যানেস্থেটিক যে’ভাবে কাজ করে, এপিডিউরালও সে’ভাবেই প্রভাব বিস্তার করে। যে নার্ভগুলোর মাধ্যমে যন্ত্রণার সংকেত ইউট্রাস আর সার্ভিক্স থেকে মগজের দিকে যায়; সে’গুলোকে ব্লক করে দেওয়াই এপিডিউরালের কাজ। এই ইঞ্জেকশন দেওয়া হয় পিঠের নীচের দিকে এবং এ’তে শরীরের নীচের দিক সম্পূর্ণ অবশ হয়ে আসে। তবে শরীর অবশ হতে শুরু করলেও মায়েদের জ্ঞান পুরোমাত্রায় থাকে।  

প্রসবের সময় এপিডিউরাল দেওয়ায় যে সব পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে: 

এপিডিউরালের উপকারিতা নিয়ে কোন সন্দেহর অবকাশ নেই কিন্তু প্রসবের ক্ষেত্রে এর কিছু ক্ষতিকারক দিকও আছে। এপিডিউরাল ব্যবহারে এই ব্যাপারগুলো ঘটতে পারে: 

১।  এ’তে গর্ভের শিশুর অবস্থান পালটে গিয়ে ভ্যাজিনাল প্রক্রিয়ায় জন্মের সম্ভাবনা চারগুণ কমে আসতে পারে। 

২।  এর ফলে মায়ের সিন্থেটিক অক্সিটোসিনের প্রয়োজন তিনগুণ বেড়ে যেতে পারে।

৩।  এপিডিউরাল নিলে মায়ের সি-সেকশনের মাধ্যমে সন্তান জন্ম দেওয়ার সম্ভাবনা আড়াই গুণ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। 

৪। সাংঘাতিক রকমের পেরিনিয়াল টিয়ারে (perineal tear) আঘাতপ্রাপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা তিন গুণ বেড়ে যায়। 

৫। এ’তে সন্তান প্রসবের ক্ষেত্রে অনেক সময় প্রয়োজনের চেয়ে বেশি সময় লাগতে পারে। 

৬। এর ফলে অনেক রকমের জটিলতা দেখা দিতে পারে এবং সে’সব জটিলতা কাটাতে ইন্সট্রুমেন্টাল ডেলিভারির প্রয়োজন হতে পারে; যেমন ফোরসেপের ব্যবহার। এবং এ’সবের ফলে আঘাত, এপিসিওটমি (episiotomy), ভ্যাজিনাল ক্ষত দেখা দিতে পারে। তাছাড়া এক্ষেত্রে নবজাতক শিশুর মুখে আঘাত বা খুলির হাড়ে চোট কিংবা মাথার ভিতর রক্ত জমে যাওয়ার আশঙ্কাও থেকে যায়। 

৭। এ’তে সন্তান প্রসবের পর তলপেটে বা পেলভিক অঞ্চলে বিভিন্ন জটিলতা দেখা দিতে পারে। 

৮। অনেক সময় দেখা যায় এপিডিউরাল দেওয়ার পর গর্ভজাত সন্তানের হার্টরেট কমে আসে। তার কারণ ওষুধের প্রভাব মুক্ত হতে বড়দের চেয়ে শিশুদের অনেক বেশি সময় লাগে। 

৯। এ’র ফলে মায়েদের জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়; যার প্রভাব শিশুর ওপরেও পড়তে পারে। 

১০। যে’সব মায়েরা এপিডিউরাল নিয়েছেন, দেখা যায় যে অনেক সময় তাঁরা নিজেদের সন্তানের সঙ্গ যথেষ্ট সময় কাটাতে পারছেন না। এপিডিউরালের ডোজ যত কড়া হবে, মায়েরা ততটাই কম সময় পাবেন নিজের শিশুর সঙ্গে কাটানোর জন্য। 

১১। যে মায়েরা প্রসবের সময় এপিডিউরাল ব্যবহার করেছেন, তাঁদের ব্রেস্টফীডিং করানোর ক্ষেত্রে সমস্যার মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা দ্বিগুণ।  

আপনি কি প্রথম বার মা হতে চলেছেন? এপিডিউরাল নেওয়া উচিৎ হবে কি হবে না, সে বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারছেন না? আপনার উচিৎ আপনার ডাক্তার বা গাইনোকলজিস্টের সঙ্গে কথা বলা। এপিডিউরালের উপকারিতা এবং অসুবিধেগুলো সম্বন্ধে আপনার ডাক্তারই আপনাকে সঠিক ভাবে বুঝিয়ে বলতে পারবেন। 

Translated by Tanmay Mukherjee

loader