আপনার নবজাতক শিশুর অসুস্থ হয়ে পড়া আটকাতে এই ৬টা ব্যাপার খেয়াল রাখবেন।

নিজের অসুস্থতার জন্যই হোক বা নিজের সন্তানের শরীর খারাপের জন্য; ডাক্তারের কাছে আপনাকে মাঝেমধ্যেই হয়ত ছুটতে হয় আর ডাক্তার আপনার রোগ-বিচার করেন মূলত আর প্রাথমিক ভাবে আপনার মুখের কথা শুনে। কাজেই আপনি যদি ডাক্তারের কাছে যেতেই হয়, বিশেষত যদি আপনার নবজাতক সন্তানের অসুস্থতার কারণে আপনি ডাক্তারের কাছে গিয়ে থাকেন, তাহলে চেষ্টা করুন নির্দ্বিধায় সবকিছু খুলে বলতে।  অনেক সময় হয়ত মহিলারা ডাক্তারের কাছে কিছু সমস্যার কথা খুলে বলতে লজ্জা পান,  তার ফলে তাঁদেরকেই পরে হয়রান হতে হয়। নিজের এবং নিজের সন্তানের স্বাস্থ্যের বিষয়ে কয়েকটা ব্যাপারে সবার সজাগ থাকা উচিৎ, সে’গুলো হল:

শরীর স্বাস্থ্য বিষয়ক টিপস’য়ের জন্য প্রয়োজনের বেশি ইন্টারনেটে না ঘাঁটা।

আজকালকার যুগে যে কোনও শারীরিক সমস্যার ক্ষেত্রেই ডাক্তারের আগেও আমাদের প্রথম পরামর্শদাতা হচ্ছে ইন্টারনেট। আর অনেক ক্ষেত্রেই আমরা চোখ বন্ধ করে ইন্টারনেটের ওপর ভরসা করি। তবে সব সময় যদি আমরা ইন্টারনেটে সমাধান খুঁজে নিজেদের শারীরিক অসুস্থতার চিকিৎসা নিজেরাই করি, তাহলে সমস্যা দেখা পারে। বিশেষত নবজাতক শিশুদের ক্ষেত্রে এমন ইন্টারনেট ডাক্তারি বেশ বিপদজনক হতে পারে। এই কারণেই শিশুর যে কোনও রকম শারীরিক অসুবিধা দেখা দিলে প্রথমেই গুগল সার্চ না করে আগে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

সব সময় অ্যান্টিবায়োটিকের ওপর নির্ভরশীল থাকা।

অনেক সময় দেখা যায় আমরা ভাইরাল ফ্লু বা অন্যান্য কোনও সংক্রমণ সারিয়ে তুলতে চটপট অ্যান্টিবায়োটিক খেয়ে ফেলি; এ’টা কিন্তু আদৌ উচিৎ নয়। অ্যান্টিবায়োটিক হয়ত যে কোনও রোগ দ্রুত সারিয়ে তুলতে সাহায্য করতে পারে কিন্তু এ’তে ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণের সম্ভাবনাও বেড়ে যায়।

জ্বর হলেই ঘাবড়ে যাবেন না।

নবজাতক শিশুর অল্প জ্বর হলেই দেখা যায় যে বাবা মায়েরা অত্যন্ত বিচলিত হয়ে ডাক্তারের কাছে ছুটছেন। তবে শিশুদের ক্ষেত্রে জ্বর কিন্তু আদৌ কোনও বড় সমস্যা নয়। ঘটনা হল যে কোনও ছোটখাটো কারণেও বাচ্চাদের জ্বর হতে পারে। সর্দি, কাশি বা কফের সমস্যাও জ্বরের কারণ হতে পারে। তবে হ্যাঁ, আপনার শিশুর জ্বর যদি দু’দিনের বেশি থাকে তাহলে আপনার অবশ্যই উচিৎ নিজের পেডিয়াট্রিশিয়ানের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ করা।

সময়মত টিকা দেওয়া।

শিশুদের টিকা বা ভ্যাকিসনেসন একদম সময়মত দেওয়া উচিৎ।  যে কোনও বড় সমস্যা থেকে শিশুকে দূরে রাখতে টিকাগুলো সময়মত দেওয়া অত্যন্ত জরুরী। টিকার ব্যাপারে ডাক্তারের পরামর্শ পদে পদে মেনে চলতে হবে, এই ব্যাপারে সামান্য অবহেলাও আপনার শিশুর জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকারক হতে পারে।

শিশুকে সব সময় পরিষ্কার রাখা।

নিজের নবজাতক শিশুকে যতটা সম্ভব পরিষ্কার রাখার চেষ্টা করুন কারণ বেশির ভাগ সংক্রমণের মূল কারণ হল অপরিষ্কার দেহ এবং অপরিষ্কার পরিবেশ। কাজেই শিশুর কান থেকে নিয়ে পুরো শরীরকে সম্পূর্ণ ভাবে পরিষ্কার রাখাটা আপনার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বগুলির মধ্যে একটি। ময়লার সমস্ত উৎসকে নিজের সন্তানের থেকে দূরে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করুন।

নিয়মিত শরীরের চেকআপ করানো।

নিয়মিত হেলথ-চেকআপ শুধু আপনার শিশুর জন্যই নয়, আপনার জন্যও অত্যন্ত দরকারি। আচমকা কোনও শারীরিক সমস্যার কবলে পড়ে নাস্তানাবুদ হওয়ার চেয়ে নিয়মিত মেডিকাল চেকআপ করানো অনেক ভালো। নিজের কর্মব্যস্ততার মাঝখান থেকে অন্তত কিছুটা সময় বের করে মেডিকাল চেকআপ সবার করিয়ে নেওয়া উচিৎ’ এর ফলে অনেক অসুখবিসুখ এড়ানো যেতে পারে।

আর এ’সবের বাইরে বেশি দুশ্চিন্তা করার কোনও মানে হয় না। ওপরে বলা সহজ টিপগুলো মেনে চলতে পারলেই দেখবেন যাবতীয় সমস্যা এড়িয়ে চলা আদৌ খুব একটা কঠিন কাজ নয়। ভালো লাইফস্টাইল মেনে চলতে পারলে; আপনি এবং আপনার শিশু; দু’জনের সুস্থ ও সবল থাকবেন।

 

Translated by Tanmay Mukherjee

loader