নর্মাল ডেলিভারির জন্য যে ছ’টা কাজ মহিলাদের অবশ্যই করা উচিৎ।

প্রেগনেন্সি যে কোনও মহিলার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর সময় আর সবাই চান কোনও রকম সমস্যার সম্মুখীন না হয়ে, সহজ এবং নিশ্চিন্তভাবে এই দিনগুলো কাটিয়ে দিতে। বিশেষত সব গর্ভবতী মহিলারাই আন্তরিক ভাবে চান যে তাদের যেন নর্মাল ডেলিভারি হয়। সি-সেকশনের ব্যাপারে সকলেই স্বাভাবিক ভাবে একটু চিন্তিত হয়ে পড়েন। সি-সেকশনের পর মায়ের শরীর সম্পূর্ণ ভাবে সুস্থ হতে অনেক সময় লাগে, সে জন্য অনেকেই সি-সেকশনকে রীতিমত ভয় পান।  এ'সব ভয় আর দুশ্চিন্তাকে এড়াবার জন্য সব প্রেগনেন্ট মহিলাই চান নর্মাল ডেলিভারির মাধ্যমে শিশুর জন্ম দিতে।

নর্মাল ডেলিভারি সি-সেকশনের চেয়ে ভালো কেন?

নর্মাল ডেলিভারির ক্ষেত্রে শিশুর জন্ম যোনীর মাধ্যমে হয়, অন্যদিকে সি-সেকশন ডেলিভারির ক্ষেত্রে কিন্তু সার্জারির মাধ্যমে তলপেট চিরে গর্ভের শিশুকে বের করে আনা হয়। সি-সেকশনের তুলনায় নর্মাল ডেলিভারির ক্ষেত্রে মায়েদের অনেক বেশি যন্ত্রণা সহ্য করতে হয়। এবং সে যন্ত্রণা এতই প্রবল যে সকলের পক্ষে সে'টা সহ্য করা সম্ভব হয় না। কিন্তু নর্মাল ডেলিভারির ক্ষেত্রে শিশুর জন্মের কয়েকদিনের মধ্যেই মায়েদের শরীর সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠে। আর সব চেয়ে বড় কথা হচ্ছে নর্মাল ডেলিভারির ক্ষেত্রে শিশু ভূমিষ্ঠ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মায়েরা তাকে ব্রেস্টফীড করাতে পারেন, সে'টা মায়েদের জন্য খুব আনন্দদায়ক।   

প্রথমবার যারা মা হতে চলেছেন, তারা কি নর্মাল ডেলিভারির মাধ্যমে সন্তান প্রসব করতে পারবেন?

এ'টা মূলত নির্ভর করে গর্ভাবস্থার ওপর। মায়েদের গর্ভে শিশুরা কতটা সঠিক অবস্থানে রয়েছেন, তার ওপর অনেকটাই নির্ভর করে ডেলিভারি কী ভাবে হবে। গর্ভের সন্তান বা মায়েদের নিজের শরীর সম্বন্ধীয় কোনও সমস্যা বা রিস্ক না থাকলে, প্রথমবার প্রেগনেন্ট হওয়া মহিলারাও সহজেই নর্মাল ডেলিভারির মাধ্যমে সন্তানের জন্ম দিতে পারেন।

লেবারের (প্রসবের)জন্য সাধারণত কত সময় লাগে?

আপনার লেবারের দৈর্ঘ্য কতক্ষণ হবে এই প্রশ্নের কোনও নির্দিষ্ট উত্তর দেওয়া সম্ভব নয়। লেবারের দৈর্ঘ্য অনেক কিছুর ওপর নির্ভর করে যেমন –

এ’টা আপনার প্রথম ডেলিভারি কিনা।

এ’টা আপনার দ্বিতীয় ডেলিভারি হলে, আপনার প্রথম ডেলিভারিতে কত সময় লেগেছে।

আপনার সার্ভিক্স কতটা প্রসারিত হয়েছে।  

আপনার প্রসব যন্ত্রণা কতটা তীব্র হয়ে উঠেছে।

আপনার গর্ভের শিশুর অবস্থান ঠিক কেমন।

প্রসবের সময় জলের থলির ফাটা।

নর্মাল ডেলিভারির যার চান, তাঁদের জন্য কিছু টিপস:

যদি আপনি সত্যিই চান যে আপনার ডেলিভারি নর্মাল মাধ্যমেই হোক, তাহলে কয়েকটা বিষয়ে আপনার অবশ্যই খেয়াল রাখা উচিৎ। সে’গুলো হল:

এক্সারসাইজ:

যে মায়েদের নর্মাল ডেলিভারি হয়েছে তারা ডেলিভারির পর অল্প  সময়ের মধ্যে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠেন। কিন্তু অন্য দিকে যে সব মায়েদের সি-সেকশন হয়েছে, অপারেশনের পর তাঁদের অনেক দিন লাগে শারীরিক ভাবে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠতে। গর্ভাবস্থায় একটা জরুরী ব্যাপারে খেয়াল রাখতে পারলেই মায়েদের নর্মাল ডেলিভারির সম্ভাবনা অনেকটা বেড়ে যেতে পারে। সেই জরুরী ব্যাপারটা হচ্ছে এক্সারসাইজ। প্রেগনেন্সির সময় সঠিক ব্যায়ামগুলো নিয়মিত করতে পারলে যে শুধু নর্মাল ডেলিভারির সম্ভাবনা বাড়বে তাই নয়; মায়েদের অন্যান্য সমস্যারও সুরাহা হতে পারে যেমন; পিঠে ব্যথা, কোষ্ঠকাঠিন্য, গ্যাস বা অন্যান্য কিছু অসুবিধে। কোন এক্সারসাইজ করবেন? হাঁটাহাঁটি, সাঁতার আর যোগব্যায়াম হচ্ছে এই সময়ের জন্য আদর্শ। তবে হ্যাঁ, যে কোনও ধরণের ব্যায়াম শুরু করার আগে অবশ্যই নিজের ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করে নিন।

সঠিকভাবে খাওয়াদাওয়া করা।

শুধু প্রসবের সময় নয়, প্রেগনেন্সির প্রথম দিন থেকেই খাওয়াদাওয়ার ব্যাপারে যে অত্যন্ত সতর্ক থাকা উচিৎ সে’টা বলাই বাহুল্য। খেয়াল রাখা উচিৎ যাতে গর্ভবতী মায়েদের খাবারে থাকে যথেষ্ট পরিমাণে ভিটামিন, প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, ওমেগা ফ্যাটি অ্যাসিড বা অন্যান্য জরুরী উপাদান। এই সমস্ত উপাদান প্রেগনেন্ট মহিলাদের নিজেদের সুস্থতা ও এনার্জির জন্য যতটা দরকারি, ততটাই প্রয়োজনীয় তাঁর গর্ভের সন্তানের সুস্থতা ও বেড়ে ওঠার জন্য।

মানসিক চাপ থেকে দূরে থাকা।

প্রসবের সময় মহিলারা নানা রকম চিন্তার মধ্যে থাকেন, আর এই সব দুশ্চিন্তা থেকেই শুরু হয় মানসিক চাপ। কিন্তু এ’টা মনে রাখা দরকার যে এই সময় প্রেগনেন্ট মহিলাদের মানসিক চাপ যত প্রবল হবে, তাঁদের প্রসব-জনিত সমস্যাগুলোও তত বাড়বে। এই সময় আপ্রাণ চেষ্টা করুন নিজের মন মেজাজ যতটা সম্ভব শান্ত রাখতে। এই সময়ে আপনি নিজেকে যতটা দুশ্চিন্তা ও মানসিক চাপ থেকে সরিয়ে রাখতে পারবেন; আপনি ততটাই ভালো থাকবেন।

যতটা সম্ভব তরল-পান করা।

প্রেগনেন্সির সময় মায়েদের উচিৎ যতটা সম্ভব জল বা অন্যান্য তরল পদার্থ পান করা। এই সময় মহিলারা নিজেদের যতটা হাইড্রেটেড রাখতে পারবেন, তাঁদের নর্মাল ডেলিভারির সম্ভাবনা ততটাই বাড়বে। এই সময় প্রেগনেন্ট মহিলাদের শরীরে জলের অভাব আদৌ অভিপ্রেত নয়। কাজেই জল ছাড়াও মায়েদের উচিত যথেষ্ট পরিমাণে অন্যান্য তরল পদার্থ পান করা (যেমন স্যুপ জুস ইত্যাদি)।

ব্রীদিং টেকনিকের ব্যাপারে সতর্ক হওয়া।

প্রেগনেন্সির সময় মায়েদের বাড়তি শ্বাস নেওয়ার প্রয়োজন এবং তার জন্য সঠিক ভাবে নিঃশ্বাস নেওয়াটা দরকারি। প্রেগনেন্ট মায়েদের উচিৎ কিছু সহজ ব্রীদিং টেকনিক নিজেদের আয়ত্তে রাখা। গর্ভের শিশুর সম্পূর্ণ বিকাশের জন্য প্রয়োজন পর্যাপ্ত অক্সিজেন। কাজেই মায়েদের উচিৎ গভীর ভাবে নিঃশ্বাস নেওয়ার অভ্যাস করা, এ’তে আপনার নর্মাল ডেলিভারির সম্ভাবনাও অনেকটা বেড়ে যায়।

নিয়মিত ভাবে পেরিনিয়াল মেসেজ করা।

গর্ভবতী মায়েদের উচিৎ নিয়মিত পেরিনিয়াল মাসাজ করা, বিশেষত প্রেগনেন্সির সপ্তম মাস থেকে। এই মাসাজেও আপনার ডেলিভারি নর্মাল প্রক্রিয়ায় হওয়ার সম্ভাবনা বাড়বে।

তবে আপনি যদি প্রেগনেন্ট হন, তাহলে এই টিপসগুলো অনুযায়ী কিছু করার আগে অবশ্যই আপনার ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলুন যা’তে আপনার ডাক্তার আপনার গর্ভাবস্থা আর সমস্যাগুলোর কথা মাথায় রেখে আপনাকে সঠিক পরামর্শ দিতে পারেন।

 

Translated by Tanmay Mukherjee

loader