প্রেগনেন্সির পর এই ৬টা কাজ করলে মহিলারা আর দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠতে পারবেন।

মহিলাদের শুধু প্রেগনেন্সির সময়ই দুশ্চিন্তা আর মানসিক চাপের মধ্যে দিয়ে যেতে হয় না, বরং শিশুর জন্মের পর অনেক ক্ষেত্রে দুশ্চিন্তা আর চাপ অনেক গুণ বেড়ে যেতে পারে। কিছু মহিলাদের ক্ষেত্রে প্রেগনেন্সির পর নেমে আসে ডিপ্রেশনের কালো ছায়া, যে'টাকে আমরা পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশন বলে থাকি। আর এই ডিপ্রেশনের প্রভাব শুধু যে মায়েদের শরীরে পড়ে তা নয়, এ'তে বাচ্চারাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। কারণ মায়েরা এই সমস্যায় ভোগা মানে তাঁরা শিশুদের দেখাশোনা ঠিকঠাক ভাবে করতে পারেন না। সে জন্য নিচে এমন কিছু টিপস দেওয়া রইল যেগুলো মেনে চললে মহিলারা পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশনের মত সমস্যা এড়িয়ে চলতে পারবেন আর শিশুকেও সঠিক যত্নে রাখতে পারবেন:

নিজেকে অন্তর থেকে ভালোবাসা।

অনেক মহিলার মনে হয় যে বাচ্চা হওয়া মানেই নিজের যাবতীয় শখ আহ্লাদ ভুলে যাওয়া। কিন্তু ব্যাপারটা কিন্তু আদৌ সে'রকম হওয়া উচিৎ নয়। শিশুর জন্মের পরেও মায়েরা নিজেদেরকে সব রকম ভাবে মেলে ধরতে পারেন আর নিজের সমস্ত ইচ্ছাপূরণের জন্য সমস্ত চেষ্টা তাঁদের অবশ্যই করা উচিৎ। আর এর জন্য সবচেয়ে জরুরী হচ্ছে নিজেকে যথেষ্ট সময় দেওয়া। সন্তান প্রসবের পরে মায়েদের উচিৎ পার্লারে গিয়ে পেডিকিওর, ম্যানিকিওর, ফুল বডি মাসাজ বা নতুন হেয়ার কাটের মাধ্যমে নিজের একটু যত্নআত্তি করা। নিজেকে এবং নিজের মনকে আনন্দে রাখা; এই সময়ে মহিলাদের এ'টাই লক্ষ্য হওয়া উচিৎ।

যতটা সম্ভব বিশ্রাম করা।

প্রেগনেন্সির সময় মহিলারা পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমোতে পারেন না। শিশুর জন্মের পরেও এই সমস্যা থেকেই যায় কারণ রাত্রে শিশুকে দেখাশোনা করার দায়িত্ব থাকে। রাত্রে বাচ্চাদের বারবার জেগে ওঠা মানে বাচ্চার সঙ্গে সঙ্গে মায়েদেরও ঘুম থেকে উঠতে হয়। সেই জন্য মায়েদের চেষ্টা করা উচিৎ দিনের বেলা বাড়তি ঘুমিয়ে রাতের ঘুমের অভাব যতটা সম্ভব পুষিয়ে নেওয়া। এ'তে মায়েদের শরীর সুস্থ আর চনমনে থাকবে।

বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে গল্পগুজব করা।

বন্ধুবান্ধব সকলেরই থাকে। বাচ্চার জন্মের পর মায়েদের উচিৎ বন্ধুবান্ধবকে বাড়িতে ডেকে এনে মন খুলে আড্ডা দেওয়া। অবশ্য ফোনেও আড্ডা চলতেই পারে।  এই আড্ডাগুলোয় স্মৃতি রোমন্থন বা প্রাণখোলা গল্প যেমন হবে, তেমনই মায়েদের মনের বিষণ্ণতাও সহজেই কেটে যাবে।

বরের সঙ্গে সময় কাটানো।

বাচ্চার জন্মের পরে মহিলারা নিজের বরের সঙ্গে নিয়মিত সময় কাটাতে পারলে তাঁদের মন ভালো থাকবে। এই সময়ে মহিলাদের চেষ্টা করা উচিৎ মাঝেমধ্যে শিশুকে দাদু দিদিমাদের কাছে রেখে বরের সঙ্গে ঘুরতে বেরোনো। এ'তে তাঁদের মন ভালো থাকবে আর দাম্পত্যও সুখের হবে।

এক্সারসাইজ করা।

দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠতে চাইলে নিয়মিত হালকা ব্যায়াম অত্যন্ত কার্যকরী হতে পারে। এ'তে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ফিট থাকবে আর মন থেকে মায়েরা থাকবেন চনমনে। বিশেষত ডিপ্রেশনের মোকাবিলা করতে এক্সারসাইজ বেশ উপযোগী টোটকা।

টিভি দেখা বা বই পড়া।

এক এক জনের এক এক রকম শখ, কেউ টিভি দেখতে ভালোবাসেন আবার কেউ ভালোবাসেন বই পড়তে। কাজেই অবসর সময়ে বোর না হয়ে মায়েদের উচিৎ নিজেদের পছন্দ মত টিভি দেখা, বই পড়া বা নিজেদের শখ অনুযায়ী অন্যান্য কাজ করা। এ'তে মনে অকারণ দুশ্চিন্তা এসে বাসা বাঁধবে না আর মায়েরা আনন্দে থাকবেন।

আর এ'গুলোর বাইরে যে'টা জরুরী সে'টা হচ্ছে নিজের বাচ্চার সঙ্গে আনন্দে সময় কাটানো, সুযোগ পেলেই বাচ্চার সঙ্গে খেলায় মেতে উঠুন আর ওর কার্যকলাপ মন দিয়ে লক্ষ্য করুন। তা ছাড়া মায়েদের উচিৎ নিজেদের পছন্দসই কোনও ক্রিয়েটিভ কাজের সঙ্গে নিজেকে যুক্ত রাখা।

 

Translated by Tanmay Mukherjee

loader