শিশুর শরীরের কোন অংশে সবচেয়ে বেশি ঠাণ্ডা লাগে?

শীতের সময় একজন নবজাতক শিশুকে সবচেয়ে বেশি সাবধানে রাখা দরকার। এর মূল কারণ একজন নবজাতক শিশুর শরীরের ইমিউনিটি ততটা মজবুত নয় এবং সর্দি জ্বরের প্রকোপের সঙ্গে সঠিক ভাবে যুঝতে না পেরে তারা সহজেই কাবু হয়ে পড়তে পারে।  আর শীতের সময় এই নবজাতক শিশুদের সুস্থ রাখার জন্য তাদের সাবধানে রাখাটা অত্যন্ত জরুরী। নবজাতকদের শরীরের কিছু অংশে বেশি ঠাণ্ডা লাগে, সে’গুলো হল:

মাথা।

নবজাতক শিশুদের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ঠাণ্ডা লাগার সম্ভাবনা তাদের মাথায় আর মাথায় ঠাণ্ডা লাগলে তার প্রভাব পড়ে গোটা শরীরে। কাজেই শীতের দিনগুলোতে নিজের নবজাতক শিশুর মাথা যতটা সম্ভব ঢেকে রাখতে চেষ্টা করুন। পারলে রাত্রিবেলা শোওয়ার সময়ও শিশুর মাথায় টুপি পরিয়ে রাখুন। তবে নবজাতকের মাথায় পরানোর জন্য শুধু সুতির টুপিই ব্যবহার করুন। উলের টুপিতে শিশুদের মাথায় র‍্যাশের সমস্যা দেখা দিতে পারে আর তাতে শিশুরা বেশ অস্বস্তি অনুভব করতে পারে।  

পা।

আপনি নিশ্চয়ই অনেক সময় খেয়াল করে দেখেছেন যে শীতের সময় শিশুর পা বরফের মত ঠাণ্ডা হয়ে যায়। আসলে এই বয়সের বাচ্চারা প্রচুর হাত পা ছোড়াছুঁড়ি করে এবং তার ফলে তাদের হাত পা প্রায়ই চাদর বা কম্বলের বাইরে থাকে। কাজেই চেষ্টা করুন বাচ্চাদের পায়ে যতটা সম্ভব মোজা পরিয়ে রাখতে। তবে রোদে বেরোনোর সময় শিশুর পা থেকে মোজা খুলে দেওয়াই ভালো।

হাত

পায়ের মতই, নবজাতক শিশুদের হাতেও রীতিমত ঠাণ্ডা লাগতে পারে। সেই জন্য আপনার উচিৎ শিশুর হাতে সুতির দস্তানা পরিয়ে রাখা। তবে রাতে শোওয়ার সময় হাতের দস্তানা খুলে দেওয়াই উচিৎ কারণ ঘুমনোর সময় হাতের তালু ঢাকা থাকলে অনেক শিশু অস্বস্তি বোধ করতে পারে।

নাক।

শীতের সময় নবজাতক শিশুর নাক বরফের মত ঠাণ্ডা হয়ে যাওয়া অস্বাভাবিক নয়। এই সময় আপনার উচিৎ হালকা গরম হাতে শিশুর নাকে সেঁক দেওয়া। অথবা চেষ্টা করুন শিশুর ঘরকে যতটা সম্ভব উষ্ণ রাখতে। কারণ নাকে ঠাণ্ডা লাগা মানে শিশুদের নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া। আর যদি শিশুর নাক বন্ধ হয়ে যায় তাহলে পুরনো তোয়ালে তোষকের নিচে রেখে শিশুর মাথার দিকটা সামান্য উঁচু করে দিন।

নবজাতক শিশুকে ঠাণ্ডা থেকে বাঁচানোর জন্য কী করবেন?

শীতকালে শিশুদের ঠাণ্ডা লাগতে না দেওয়ার জন্য সহজ কিছু সাবধানতা অবলম্বন করা উচিৎ, সেইগুলো হল:

উষ্ণ সর্ষের তেল মালিশ।

নিজের শিশুর গায়ে উষ্ণ সর্ষের তেল মালিশ করুন। এ’তে শুধু শিশুর সর্দির সমস্যাই দূর হবে না, এর ফলে আপনার নবজাতকের শরীর গরমও থাকবে। আপনি চাইলে উষ্ণ সর্ষের তেলে অল্প জায়ফল মিশিয়ে নিতে পারেন কারণ জায়ফল গরম, উপকারী আর শিশুর গায়ে মালিশ করার জন্যও কার্যকরী। 

স্তন্যপান।

আমরা সবাই জানি শিশুদের অন্তত এক বছর বয়স পর্যন্ত মায়ের দুধ খাওয়ানো উচিৎ। ব্রেস্টফীডিংয়ে শিশুদের ইমিউনিটি মজবুত  হয় আর বিভিন্ন অসুখবিসুখের মোকাবিলায় তাদের সাহায্য করে। ব্রেস্ট ফীডিং শিশুদের সর্দিকাশি বা অন্যান্য সংক্রমণ মোকাবিলা করতে বিশেষ ভাবে সাহায্য করে।

উষ্ণ জলে স্নান।

আপনার শিশুকে উষ্ণ জলে স্নান করান তবে খেয়াল রাখবেন ওকে স্নান করানোর সময় ঘরের দরজা জানালা যেন বন্ধ থাকে। আর স্নানের পরেই শিশুকে শুকনো তোয়ালে দিয়ে জড়িয়ে নিন যাতে ঠাণ্ডা হাওয়া ওর গায়ে না লাগে।

রোদে বসিয়ে রাখুন।

শীতের সময় শিশুর শরীরকে গরম রাখার সব চেয়ে ভালো উপায় হচ্ছে তাদের রোদে বসিয়ে রাখা। এ’তে যেমন শিশুদের শরীর গরম থাকবে, তেমনই ওরা হাত পা ছুঁড়ে খেলা করে আনন্দেও থাকবে।

এই সব সহজ পদ্ধতিগুলো অবলম্বন করে আপনি নিজের নবজাতক শিশুকে শীতকালে ঠাণ্ডার কবল থেকে দূরে রাখতে পারবেন।

 

Translated by Tanmay Mukerjee

loader