স্তন্যপানের পর মহিলাদের শরীরে কী কী পরিবর্তন দেখা যায়?

মা হওয়ার মত অনাবিল অভিজ্ঞতা খুব কমই আছে। নিজের সন্তানের মুখের হাসি প্রত্যেক মায়ের জন্যই সকালের নরম রোদ্দুরের মত আনন্দদায়ক। এ’টা ঠিক যে মা হওয়ার পথটা আদৌ সহজ নয়, কিন্তু সন্তানের জন্মের মুহূর্তটা প্রত্যেক মায়ের জীবনেই সবচেয়ে স্মরণীয় মুহূর্তগুলোর একটা। তবে মা হওয়ার আনন্দে ভেসে গিয়ে অনেক সময় মায়েরা নিজেদের শরীর স্বাস্থ্যের প্রতি অবহেলা করে ফেলেন, এবং সে’টা আদৌ অভিপ্রেত নয়। বিশেষ করে স্তন্যপানের ব্যাপারে কিছু কথা নতুন মায়েদের অবশ্যই জানা উচিৎ।  অনেক সময় দেখা যায় যে শিশুদের স্তন্যপান করানোর সময় মহিলারা নিজের স্বাস্থ্যের ব্যাপারে সতর্ক থাকেন কারণ তাঁরা জানেন যে সেই সময় তাঁদের সুস্থতার সঙ্গে শিশুর খাওয়াদাওয়ার যোগাযোগ রয়েছে। অথচ স্তন্যপান বন্ধ করার পর পরই দেখা যায় মায়েরা নিজেদের শরীরের প্রতি অবহেলা শুরু করে দিয়েছেন।  

সে বিষয়ে মায়েদের সতর্ক করতেই এই প্রবন্ধে দেওয়া রইল স্তন্যপান বিষয়ক এমন কিছু তথ্য যেগুলো সম্বন্ধে সব মায়েদের অবশ্যই সজাগ থাকা উচিৎ:

স্তন্যপানের পর শারীরিক গঠনে পরিবর্তন।

স্তন্যপান করানোর পর মহিলাদের শরীরের অনেক রকমের পরিবর্তন দেখা যায় যার মধ্যে অন্যতম হল দেশের মাংসপেশির ঢিলে হয়ে পড়া। অনেক মহিলারা ব্রেস্টফীডিংয়ের পর শারীরিক গঠনের পরিবর্তন-জনিত সমস্যায় ভোগেন আর এই সমস্যাগুলোর নিষ্পত্তি দ্রুত হওয়া দরকার নয়ত পরে আরও জটিলতা দেখা দিতে পারে।  এই ধরণের সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে যে’টা সবার আগে দরকার তা হল সঠিক ভাবে খাওয়াদাওয়া করা। আপনার দৈনিক ডায়েটে থাকা উচিৎ ডিম, সবুজ শাকসবজি এবং যথেষ্ট পরিমাণে স্যুপ জাতীয় খাবার।

ওজনের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি।

স্তন্যপান বন্ধ করার পর আপনার ওজন আচমকা অস্বাভাবিক ভাবে বেড়ে যেতে পারে। কারণ স্তন্যপান বন্ধ করার পরেও আপনার দেহে বাড়তি ফ্যাট বাসা বেঁধে থাকে। ব্রেস্টফীডিংয়ের সময় এই ফ্যাটই হয়ে উঠত এনার্জির উৎস। কাজেই ব্রেস্টফীডিং বন্ধ করার পরেই যদি দেখেন যে আপনার ওজন আচমকা অনেকটা বেড়ে গেছে তাহলে হতাশ হবেন না।  গর্ভাবস্থায় আপনার শরীরে মেদ বৃদ্ধি হতে থাকে নয় মাসের ওপর ধরে। কাজেই দেহকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসতেও ততটাই সময় দেওয়া উচিৎ। এই সময় ওজন কমানোর জন্য আপনার যে’টা দরকার সে’টা হল পুষ্টিকর খাবারদাবার খাওয়া আর নিয়ম করে ব্যায়াম করা। সব ঠিকঠাক চললে কিছুদিনের মধ্যেই আপনার বাড়তি ওজন ঝরে যাবে।

পিরিয়ডের সমস্যা।

যতদিন স্তন্যপান করানো হয় ততদিন আপনার পিরিয়ড হবে না, ব্রেস্টফীডিংয়ের এ’টা একটা ভালো দিকও বটে। কিন্তু অন্য দিকে; ব্রেস্ট ফীডিংয় বন্ধ করার পরেই আপনার পিরিয়ড ফের শুরু হয়ে যায় আর এই সময় অত্যধিক রক্তক্ষরণ বা অনিয়মিত পিরিয়ডের সমস্যায় আপনাকে ভুগতে হতে পারে। আর খেয়াল রাখবেন, আপনার শিশু যত বেশি ব্রেস্টফীড করবে, আপনার পিরিয়ড শুরু হতে ততটাই দেরী হবে।

অতিরিক্ত ক্যালোরি খরচ।

আপনি স্তন্যপান বন্ধ করা মাত্রই আপনার দেহের প্রয়োজন হয় অতিরিক্ত মাত্রায় ক্যালোরির। এই সময় আপনার খিদে দুর্দান্ত ভাবে বেড়ে যেতে পারে, কাজেই পেট ভরার জন্য আপনাকে খেতে হবে যথেষ্ট পরিমাণে কার্বস, চাল ইত্যাদি। আর কার্বসে ভরপুর ডায়েট মানে এই সময় আপনার উচিৎ নিয়মিত এক্সারসাইজ করা।

উপরের কথাগুলো সম্বন্ধে সচেতন থাকলে স্তন্যপান বন্ধ করার পরের সমস্যাগুলো আপনি সহজেই কাটিয়ে উঠতে পারবেন।

 

Translated by Tanmay Mukherjee

loader