৫টা বড় ভুল যা শিশুদের ঘুম পাড়ানোর সময় মায়েরা করে ফেলেন (আর সেগুলো এড়িয়ে চলার উপায়)।

নতুন মায়েদের নেহাৎ কম ঝক্কি সামলাতে হয় না। ক্রমাগত রক্তক্ষরণ,  শিশুকে ব্রেস্টফীড করানোর ঠিক বেঠিকগুলো বুঝে নেওয়া, শিশুর কান্নার কারণ বুঝতে শেখা; এমন হাজারো সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় নতুন মায়েদের। কিন্তু এই সমস্যাগুলো কাটতে না কাটতেই শুরু হয় অন্য যুদ্ধ। সেই যুদ্ধ হল নবজাতকের ঘুমের অভ্যাসকে সঠিক নিয়মে বাঁধার লড়াই।

দিন দুপুর বিকেল বা রাত; আপনার খোকাখুকুর ঘুম, খাওয়া, পটি থেমে থাকবে না, ওর যত্নে ঢিলে পড়লে চলবে না। এ’দিকে আপনার শিশুর ঘুম সঠিক নিয়মে না পড়লে আপনার ঘুমেরও দফারফা। দিনে আট ঘণ্টার ঘুম ক্রমশ অলীক স্বপ্ন মনে হতে পারে। তবে দুশ্চিন্তার কিছু নেই, কিছু সাধারণ ভুলচুক এড়িয়ে চলতে পারলেই  আপনার অর্ধেক চিন্তা দূর হয়ে যাবে। জানতে চান সেই ভুলগুলো কী কী?

১. অত্যন্ত ঝলমলে সাজানো ঘর।

সব মায়েরাই চান তার শিশুর ঘরটা রূপকথার মত সুন্দর হবে। রঙচঙে ওয়ালপেপার থেকে বাহারি আলো থেকে নাইট ল্যাম্প থেকে শিশুদের ডিজাইনার বিছানাপত্তর ; মায়েদের পছন্দের লিস্ট বেশ লম্বা হতেই পারে। কিন্তু যে কোনও বিষয়ের মতই শিশুর ঘর সাজানো নিয়েও বাড়াবাড়ি মোটেই অভিপ্রেত নয়। এবং এ’টা মায়েদের অবশ্যই খেয়াল রাখা উচিৎ।

ঘরে যত বেশি ঝকমকে জিনিসপত্র থাকবে,  আপনার শিশুর নজর সে সব দিকে তত বেশি যাবে এবং চোখে ঘুম থাকলেও সে ঘুমোতে চাইবে না। কাজেই শিশুর ঘর সাজানোয় বাহুল্য না আনাই ভালো এবং ঘরকে যতটা সম্ভব সাদামাঠা রঙে মুড়ে রাখুন।

২. কোনও নিয়ম না থাকা।

নিয়মানুবর্তিতা শুধু বড়দের জন্য নয়, ছোটদের জন্যেও জরুরী। ভেবে দেখুন, ব্রেকফাস্টের আগে ডিনার সেরে নিতে আপনার কেমন লাগবে? বিশ্রী, তাই তো? শিশুদের ক্ষেত্রেও ব্যাপারটা অনেকটা একই রকম। ওর ঘুমের জন্য একটা  নির্দিষ্ট সময় বেছে নিন এবং অন্তত সপ্তাহ দুয়েক সে নিয়ম মেনে চলুন। দেখবেন দিনের ঠিক সেই সময়গুলোতে আপনার শিশু কেমন আপনা থেকেই ঘুমিয়ে পড়ছে।

৩. শিশুদের ঘুমের জন্য সঠিক ভাবে প্রস্তুত না করা।

শিশুদের নিয়ে ঘুরতে বেরোবার সময় যেমন বহু রকম ভাবে প্রস্তুতি নিতে হয়, ওদের ঘুম পাড়ানোর ব্যাপারটাও অনেকটা সে’রকমই। প্রথমে দরকার ওদের জামাকাপড় পালটে আরামদায়ক কিছু পরিয়ে দেওয়া। এ সময়ই ওর ডাইপার বদলে নাইটক্রীম লাগিয়ে নিতে হবে। এর পর ঘরের আলো কমিয়ে দিয়ে মিউজিক প্লেয়ারে নরম সুরে ঘুমপাড়ানি গান চালিয়ে দিন বা নিজেই গেয়ে উঠুন। রাতে শিশুদের শুইয়ে ছোটদের গল্পের বই পড়ে শোনাবার আইডিয়াটাও বেশ ভালো। এ’গুলোতে আপনার শিশু ক্রমশ অভ্যস্ত হয়ে পড়বে আর বুঝতে শিখবে যে ঘুমের সময় কোনটা।

৪. অনেক রাত পর্যন্ত জেগে থাকা।

শিশু অনেক রাত পর্যন্ত জেগে থাকলে সে খিটখিটে হয়ে উঠবে এবং সে ক্ষেত্রে তাকে সামলানো আরও কঠিন হবে। অনেক সময় বাড়িতে অতিথি বন্ধুবান্ধব থাকলে শুতে যেতে দেরী হয় বটে। তবে একটু ভেবে দেখুন তো, আপনার নিজের যখন ঘুম পায়, তখন আপনার ইচ্ছে করে অন্যের সঙ্গে বসে গল্পগুজব করতে? নিশ্চয়ই নয়। তাহলে ভাবুন শিশুদের জন্য সে’টা কতটা কষ্টকর। এ’বার থেকে চেষ্টা করুন অতিথিদের খোলাখুলি জানিয়ে দিতে যে এ’বার আপনার খোকা বা খুকুর ঘুমের সময় হয়ে গেছে, চেষ্টা করুন আপনার শিশুর ঘুমের নিয়ম না ভাঙতে। শিশুর ঘুম পাওয়া মানেই ঢুলুঢুলু চোখ, একটানা হাই ওঠা আর খিটিখিটে ব্যবহার। এ’টাই আদর্শ সময় আপনার শিশুকে শুইয়ে দেওয়ার, এ’তে সে ক্রমশ আপনা থেকেই ঘুমিয়ে পড়তে শিখবে।

৫. ঘুমন্ত শিশুর কান্না শুনেই তাকে কোলে তুলে নেওয়া।

আমাদের অভ্যাস হল ঘুমের ঘোরে শিশুর কান্না শুনলেই তার কাছে ছুটে যাওয়া। কিন্তু এ’টা সবসময় সঠিক নয়। এ’তে আপনার শিশুও ক্রমশ অভ্যস্ত হয়ে উঠবে,  প্রতিবার ঘুম ভাঙলেই সে আশা করবে কেউ এসে তাকে সামাল দেবে। আর এই ব্যাপারটা একবার অভ্যাসে পরিণত হলে আর রক্ষে নেই। ঘুমের মধ্যে জেগে ওঠা একটা অত্যন্ত স্বাভাবিক ব্যাপার, বড়দের মত ছোটদেরও ঘুম মাঝেমধ্যে ভাঙতেই পারে। ওর দিকে ছুটে যওয়ার আগে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে দেখুন ও আবার নিজে থেকেই ঘুমিয়ে পড়ছে কিনা।

নতুন মায়েদের উদ্দেশ্যে একটাই কথা বলার আছে; শিশুদের ঘুমের সময়টাকে কুরুক্ষেত্র না ভেবে ওপরের সহজ সরল টিপ্সগুলো মেনে চলুন; আপনার শিশুর ঘুমের সমস্যা নিশ্চিত ভাবেই কেটে যাবে।

শুভেচ্ছা রইল।

Translated by Tanmay Mukherjee

loader