গর্ভাবস্থায় যমজ শিশু থাকলে মায়েরা কোন কোন পদ্ধতিতে তা জানতে পারবেন!

মাতৃত্ব প্রত্যেক মহিলার জীবনে এমন এক অনন্য খুশির স্রোত বয়ে আনে যে তা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। মায়ের গর্ভে একজন সন্তানই বেড়ে উঠুক বা যমজ সন্তান; মাতৃত্বের আনন্দ স্রোত একই রকম ভাবে বয়ে চলে। তবে যে সব মহিলারা প্রথম বারের জন্য মা হতে চলেছেন, তাঁদের মনের মধ্যে অনেক সময় বিভিন্ন রকমের দুশ্চিন্তা এসে জড়ো হয়। বিশেষত যাদের গর্ভে যমজ সন্তান থাকে, তাঁদের চিন্তা আরও বেশি থাকে।

কী ভাবে যমজ গর্ভাবস্থার পরিস্থিতি তৈরি হয়?

কোনও মহিলার গর্ভে দু'জন সন্তানের ভ্রূণ বেড়ে ওঠাই হল যমজ গর্ভাবস্থা। এ ক্ষেত্রে দু'টো ভ্রূণের বিকাশই এক সঙ্গে এবং একই গতিতে ঘটে। যমজ ভ্রূণের সৃষ্টি একটা ডিম্বাণুর থেকেও হতে পারে আবার দু'টো আলাদা ডিম্বাণুর সঙ্গে স্পার্মসেলের মিলনেও হতে পারে।

নন আইডেন্টিকাল - একটাই ডিম্বাণু থেকে দু'টো ভ্রূণ সৃষ্টি হলে সে ক্ষেত্রে তাদের আইডেন্টিকাল ট্যুইন বলা হয়। এ'টা কী ভাবে ঘটে? যখন একটা ডিম্বাণুর সঙ্গে স্পার্ম সেল মিলিত হয়ে দু'খণ্ডে বিভক্ত হয়ে দু'টো ভ্রূণের সৃষ্টি করে যা থেকে যমজ শিশুর জন্ম হয়, তখন তাদের আইডেন্টিকাল ট্যুইন বলা হয়।

নন আইডেন্টিকাল - এদের ডিজায়গোটিক ট্যুইনও বলা হয়। এই ক্ষেত্রে দু'টো দু'টো ডিম্বাণু দু'টো আলাদা শুক্রাণুর সঙ্গে মিলিত হয়ে দু'টো ভ্রূণ তৈরি করে। আর এ ক্ষেত্রে দু'টো ভ্রূণই আলাদা ভাবে তৈরি হয় আর তাদের জেনেটিক গঠনও একে অপরের চেয়ে আলাদা হয়।

যমজ গর্ভাবস্থার কারণ।

যে সব মহিলা গর্ভ-নিরোধক ওষুধ ব্যবহার করেন বা যারা ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন ব্যবহার করে গর্ভবতী হন, তাঁদের যমজ গর্ভধারণের সম্ভাবনা বেড়ে যায়। এর কারণ ফার্টিলিটির ওষুধ  মহিলাদের দেহে এক সঙ্গে অনেকগুলো ডিম্বাণু সৃষ্টি করতে সাহায্য করে। যার ফলে একের বেশি ডিম্বাণুর সঙ্গে শুক্রাণু মিলে একাধিক জাইগোট সৃষ্টির সম্ভাবনা বেড়ে যায়। তা ছাড়া মহিলারা যখন ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন পদ্ধতিতে গর্ভধারণ করতে চান তখন ডাক্তারেরা তাঁদের গর্ভাশয়ে অনেকগুলো ফার্টিলাইজড এগ স্থাপন করেন যাতে অন্তত একটা ভ্রূণ তৈরি হতে পারে। কিন্তু এর ফলে মাল্টিপল প্রেগনেন্সির সম্ভাবনাও অনেকটাই বেড়ে যায়।

এ'ছাড়াও বেশ কিছু ক্ষেত্রে মহিলাদের যমজ শিশুর জন্ম দেওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায় যেমন:

যদি সেই মহিলার বয়স ৩৫ বছরের বেশি হয়।

যদি সেই মহিলা গর্ভ-নিরোধক ওষুধ বন্ধ করার পর পরই গর্ভবতী হন।

যদি সেই মহিলা এর আগে যমজ শিশুর জন্ম দিয়ে থাকেন।

যদি সেই মহিলার পারিবারে যমজ শিশুর জন্ম আগে ঘটে থাকে, বিশেষত মায়ের দিকে।

প্রেগনেন্সির কোন মাসে জানা যায় যে মহিলার গর্ভে যমজ শিশু আছে কি না?

সাধারণত চার থেকে ছয় মাসের মাথায় যমজ শিশুর অবস্থান স্পষ্ট ভাবে বুঝতে পারা যায়। বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে যমজ শিশুর উপস্থিতি প্রেগনেন্সির শুরুর দিকেই জানা নাও যেতে পারে। তেমন পরিস্থিতিতে সাধারণত প্রেগনেন্সির পাঁচ নম্বর মাসের স্ক্যান দেখে ডাক্তাররা নিশ্চিত ভাবে বলতে পারবেন যে প্রেগন্যান্ট মহিলার গর্ভে ক'টা ভ্রূণ বেড়ে চলেছে।

যমজ গর্ভাবস্থার লক্ষণগুলো কী কী?

অস্বাভাবিক হারে ওজন বৃদ্ধি।

প্রয়োজনের বেশি খিদে পাওয়া।

স্পটিং আর ব্লীডিংয়ের সমস্যা।

সকালের দিকে অতিরিক্ত মাথা ঘোরা আর গা বমি ভাব।

শরীরের আকারে পরিবর্তন।

অল্পেতেই ভীষণ ক্লান্ত হয়ে পড়ার মত লক্ষণও দেখা দিতে পারে।

যমজ গর্ভাবস্থায় কী কী বিপদ হতে পারে?

সাধারণত দেখা যায় যে সিঙ্গল প্রেগনেন্সির তুলনায় যমজ গর্ভাবস্থায় বিপদের সম্ভাবনা বেড়ে যায়। এই অবস্থায় কী কী বাড়তি বিপদ থাকতে পারে?

ব্লাড প্রেশারের সমস্যা আর তার ফলে প্রিক্ল্যাম্পসিয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যাওয়া।

গর্ভপাতের মত গুরুতর সমস্যাও হতে পারে।

নবজাতকদের বিভিন্ন বার্থ ডিফেক্টের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

অতএব, আপনার গর্ভে যদি যমজ শিশু থাকে তাহলে আপনার অবশ্যই উচিৎ নিয়মিত ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া যাতে কোনও রকম অযাচিত সমস্যাকে আপনি এড়িয়ে চলতে পারেন।

 

Translated by Tanmay Mukherjee

loader