ডেলিভারি রুমে যাওয়ার আগে যে পাঁচটা ব্যাপার মহিলাদের অবশ্যই জানা উচিত।

যে মহিলারা প্রথমবারের জন্য মা হতে চলেছেন তাঁদের মনের মধ্যে স্বাভাবিক ভাবেই অসংখ্য প্রশ্নের আনাগোনা থাকে। আর এই প্রশ্নগুলোকে সঠিক ভাবে মোকাবিলা করাটাও অত্যন্ত দরকারি। এই সময়টা মহিলাদের জন্য এমনিতেই যথেষ্ট কঠিন, কাজেই মনের মধ্যে দ্বিধাদ্বন্দ্ব যত কম রাখা যায় ততই ভালো। প্রেগনেন্সির মধ্যে সবচেয়ে জটিল সময় হল প্রসবের মুহূর্ত আর এই সময়টাকে ঘিরে মায়েদের মনে অনেক রকমের প্রশ্ন থাকে।  ডেলিভারি রুমে গিয়ে কী কী ঘটবে, তা নিয়ে দুশ্চিন্তা হওয়াটা অস্বাভাবিক নয়। ডেলিভারির বিষয়ে তেমনই কিছু প্রশ্নের উত্তর সাজিয়ে দেওয়া হল এই প্রবন্ধে। নিচের তথ্যগুলো সেই সব মহিলাদের জন্য অত্যন্ত জরুরী যারা প্রথম বারের জন্য মা হতে চলেছেন।

প্রসব বেদনা

প্রসব বেদনা শিশুর জন্মের ক্ষেত্রে মায়েদের অভিজ্ঞতার এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হতে পারে আর সব মায়েদেরই এর জন্য প্রস্তুত থাকা উচিৎ। নর্মাল ডেলিভারির ক্ষেত্রে মায়েদের প্রসব বেদনা সহ্য করতে হয় আর এই ব্যথা বেশ কয়েক ঘণ্টা বা তারও বেশি সময় ধরে থাকতে পারে। প্রসব বেদনা কম করার জন্য ডাক্তাররা আপনাকে গভীর ভাবে নিঃশ্বাস নেওয়ার কথা বলবেন। তাছাড়া লোকাল আর ইন্ট্রাভেনাস ওষুধ বা ইনজেকশনের মাধ্যমেও আপনার ব্যথা কমানো যেতে পারে।

ডাক্তারের ওপর ভরসা রাখুন

ডেলিভারির রুমের ভিতরে আপনার সমস্ত সমস্যার সমাধান বাতলে দেবেন ডাক্তারই; কাজেই চেষ্টা করুন তার ওপর সম্পূর্ণ ভরসা রাখতে। ডাক্তারবাবুই ঠিক করবেন যে আপনার ডেলিভারি নর্মাল হবে না সিজারিয়ান, সে ব্যাপারেও আপনার উচিৎ নিজেকে মানসিক ভাবে প্রস্তুত রাখা।  অনেক সময় দেখা যায় ডাক্তাররা শুরু থেকে নর্মাল ডেলিভারির জন্য মায়েদের প্রস্তুত করলেও শেষ মুহূর্তে হিসেব এ’দিক ও’দিক হয়ে যেতে পারে; শিশুর অসুস্থতা বা মায়ের শারীরিক অবনতি ঘটলে ডাক্তার অপারেশনের  কথা বলতে পারেন যা’তে শিশু এবং মা দু’জনেই সুস্থ থাকে।

ডেলিভারি রুমের ভিতরে নিম্নাঙ্গের পরীক্ষা।

যারা প্রথম বারের জন্য মা হচ্ছেন তাঁরা সঠিক ভাবে জানেন না যে ডেলিভারি রুমের ভিতরে ঠিক কী কী ঘটতে পারে। মায়েদের একটা ব্যাপার জানা জরুরী; ডেলিভারি রুমের ভিতরে ডাক্তার এবং নার্সেরা তাঁদের নিম্নাঙ্গ বার বার পরীক্ষা করে দেখতে পারেন। প্রসবের সময় গর্ভের শিশুর অবস্থান বোঝার জন্য সে’টা খুবই দরকারি। কাজেই সে ব্যাপারে লজ্জা পেলে চলবে না, সব গর্ভবতী মহিলার ক্ষেত্রেই এমনটা হয়ে থাকে।

নিজে ওপর ভরসা রাখুন।

সন্তান প্রসবের গুরুদায়িত্ব সামাল দেওয়া সহজ নয়। তবে সে দায়িত্ব সামলানো সহজ হয়ে আসবে যদি আপনি নিজের ওপর ভরসা রাখতে পারেন। লেবার রুমে ঢুকলে আপনার মনে নানা রকম দুশ্চিন্তা ভিড় করবেই, সে’টাই স্বাভাবিক। নিজের ওপর ভরসা রাখুন, মনকে শক্ত করুন। নিজের মনকে সামলে রাখতে পারলেই আপনার লেবার রুম চ্যালেঞ্জ অনেকটা সহজ হয়ে আসবে।

আপনার গর্ভের সন্তানের কথা ভাবুন।

নিজের ব্যাপারে দুশ্চিন্তা না করে নিজের গর্ভের সন্তান ও তার জন্মের সুন্দর মুহূর্তটি নিয়ে ভাবুন। যে অপার্থিব মুহূর্তটির জন্য আপনার নয় মাসের দীর্ঘ অপেক্ষা, আর অল্প সময়ের মধ্যেই সেই বহু আকাঙ্ক্ষিত মুহূর্তটি আপনার জীবনে আসতে চলেছে।

এই সময় নিজের মনকে মাতৃত্বের আগামী দিনগুলোর ভাবনায় আর আনন্দে ভরিয়ে রাখুন। কারণ কিছুদিনের মধ্যেই মা ডাকের মাধুর্যে আপনার জীবন সম্পূর্ণভাবে বদলে যেতে চলেছে।

 

Translated by Tanmay Mukherjee

loader