এই পাঁচটা কারণে মহিলাদের গোপনাঙ্গে হতে পারে চুলকানি এবং অন্যান্য সমস্যা

মহিলাদের গোপনাঙ্গে চুলকানির সমস্যা প্রায়ই দেখা দেয় এবং এ'টা খুব একটা ভয়ানক কিছু নয়। তবে জটিলতা তৈরি হয় যখন ব্যাপারটাকে অবহেলা করা হয়। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় এই ধরণের সমস্যা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেলেও মহিলারা লজ্জায় এ বিষয়ে কারুর সঙ্গে কথা বলতে সাহস পান না। কিন্তু এই ধরণের সমস্যার মুখোমুখি হলেই মহিলাদের উচিৎ নিজের ডাক্তারের সঙ্গে খোলাখুলি কথা বলা এবং যথাযথ চিকিৎসা করানো।

কী কী কারণে যোনিতে চুলকানি হতে পারে?

মহিলাদের ক্ষেত্রে এই ধরণের সমস্যা সাধারণত ঈস্ট ইনফেকশনের কারণে দেখা দেয়; এর ফলে মহিলাদের গোপনাঙ্গে চুলকানি , জ্বালা বা এক ধরণের তরল পদার্থ  ক্ষরণ হতে পারে। তবে এ'টাও ঠিক যে মহিলাদের ক্ষেত্রে এই ধরণের সমস্যা খুব অস্বাভাবিক কিছু নয়, দেখা গেছে যে ১০০ জনের মধ্যে ৮০ জন মহিলাদেরই এমন ধরণের ইনফেকশনের সম্মুখীন হতে হয়েছে। আপনারা হয়ত জানেন না যে এই ধরণের সংক্রমণ ক্যান্ডিডা এল্বিক্স নামক এক জীবাণুর জন্য হয়ে থাকে।

এই সংক্রমণের লক্ষণগুলো কী কী? তেমন একটা লিস্ট নিচে দেওয়া রইল:

যোনিতে চুলকানি - ঈস্ট ইনফেকশনের সবচেয়ে প্রাথমিক লক্ষণগুলোর মধ্যে অন্যতম হলে গোপনাঙ্গে চুলকানি এবং তার সঙ্গে জ্বালা ধরানো অনুভূতি।

যোনিস্রাব - তাছাড়া এর কারণে যোনি থেকে নিঃসৃত হতে পারে সাদা, ঘন এবং গন্ধ-বিহীন এক ধরণের তরল পদার্থ, এ'টাকেই যোনিস্রাব বলা হয়।

যোনিতে ব্যথা - ইউরিন পাস করার সময় ব্যথা আর চামড়ায় জ্বালাভাব অনুভূত হওয়া।

যোনি লাল হয়ে যাওয়া - যোনির আশপাশ লাল হয়ে যাওয়া আর একধরণের চিড়বিড়ে অস্বস্তি অনুভূত হওয়া।

যৌনমিলনের সময় ব্যথা - ঈস্ট ইনফেকশনের অন্যতম লক্ষণ হচ্ছে যৌনমিলনের সময় মহিলাদের গোপনাঙ্গে ব্যথা।

এছাড়া আরও অনেক কারণে এই সমস্যাগুলো ঘনীভূত হতে পারে। সেই সবগুলো নিচে বলা রইল:

শরীরের সংক্রমণ রোধ করার ক্ষমতা কমে যাওয়া এর একটা অন্যতম কারণ হতে পারে। তাছাড়া ডায়াবেটিসের মত রোগ শরীরে থাকলে এই ধরণের সমস্যার মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। হরোমোনাল সমস্যার কারণেও এই ধরণের সমস্যা বৃদ্ধি পেতে পারে। সে জন্য এই ধরণের সমস্যা দেখা দিলেই আপনার উচিৎ ডাক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করা।

সুগন্ধি পদার্থ আর লুব্রিক্যান্টস

অনেক সময় মহিলারা চুলকানি আর দুর্গন্ধ থেকে রেহাই পেতে বিভিন্ন রকমের সুগন্ধি পদার্থ আর লুব্রিক্যান্ট ব্যবহার করে থাকেন যেগুলো উপকারের বদলে এই সব সমস্যা আরও বাড়িয়ে তোলে। তার কারণ এই ধরণের প্রোডাক্টে সাধারণত প্রচুর পরিমাণে কেমিকাল থাকে যা আপনার জন্য ক্ষতিকারক হতে পারে।

ভুল ভাবে মিলনে লিপ্ত হওয়া

কিছু ক্ষেত্রে মহিলারে ভুল ভাবে মিলনে লিপ্ত হলেও চুলকানির মত সমস্যা দেখা দিতে পারে। কখনও অবশ্য ড্রাইনেসের জন্যও চুলকানি দেখা দিতে পারে।

ভুল অন্তর্বাস বেছে নেওয়া

অনেক সময় মহিলারা ফ্যাশন মেনে চলতে গিয়ে ভুল অন্তর্বাস বেছে নেন এবং যার ফলে তাঁরা ভুগতে থাকেন গোপনাঙ্গে চুলকানি আর জ্বালার মত সমস্যায়। সে কারণেই পোশাক সব সময় সুতির হওয়া উচিৎ আর যত ঢিলাঢালা থাকে ততই মঙ্গল।

এই ধরণের সমস্যা এড়িয়ে চলতে হলে আপনার কী কী করা উচিৎ?

নিজের প্রাইভেট পার্টকে সব সময় পরিষ্কার রাখার চেষ্টা করুন।

চেষ্টা করুন সব সময় সুতির অন্তর্বাস ব্যবহার করতে আর সেগুলো যেন ব্যবহারের সময় পরিষ্কার থাকে।

নারকোল তেল লাগালে গোপনাঙ্গের চুলকানি কম হয়।

অনেক সময় অ্যালার্জিক রিয়্যাকশনের জন্য এই ধরণের সমস্যা হতে পারে। চেষ্টা করুন গোপনাঙ্গে কোনও কড়া গন্ধওলা পারফিউম, লোশন বা সাবান ব্যবহার না করতে।

আর এই সব কিছু বাদে যে'টা আপনার অবশ্যই করা উচিৎ সে'টা হল নিজের খাওয়া দাওয়ার ব্যাপারে সতর্ক থাকা, তা'তেও এই ধরণে অস্বাস্থ্যকর সমস্যা এড়ানো যেতে পারে।  

 

Translated by Tanmay Mukherjee

loader