যোনি সম্বন্ধে কিছু চমকে দেওয়ার মত তথ্য

যোনি থেকে রক্তপাত ঘটে, একজন শিশু সাধারণত জন্মের সময় যোনিপথ দিয়ে বেরিয়ে আসে এবং যোনি একজন নারীর যৌন-উত্তেজনার মূল ধারকও বটে।  এগুলো বাদেও যোনির ব্যাপারে এমন কিছু তথ্য রয়েছে যা জানলে আপনি হয়ত চমকে উঠবেন ।

যৌন সঙ্গম ও শিশুর জন্মে যোনির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা সর্বজনবিদিত। কিন্তু তা সত্ত্বেও যোনি সম্বন্ধে মানুষের মনে বহু অস্পষ্ট ধারণা রয়েইছে। নারীর এই ‘গোপন’ অঙ্গ সম্বন্ধে পাঁচটি বিশেষ তথ্য এখানে তুলে ধরা হল:

১। কোনও মহিলা নিজের ভ্যাজিনা দেখতে পারেন না।

প্রথমত, আপাত দৃষ্টিতে সবাই যে’টাকে ভ্যাজিনা বলে মনে করেন সে’টা আদতে তা নয়। নারীর গোপনাঙ্গের যে অংশটি দৃষ্টিগোচর (ইংরেজিতে যাকে বলে  Geneitalia) সে’টা আদতে ভাল্‌ভা (Vulva বা স্ত্রী যোনিদ্বার)।  ভ্যাজিনার আকৃতি অনেকটা নলের মত (৩/৪ ইঞ্চি চওড়া আর ২-৪ ইঞ্চি লম্বা) যে’টা যোনিদ্বারকে সারভিক্সের (cervix) সঙ্গে যুক্ত করে। কাজেই বসে, শুয়ে বা দাঁড়িয়ে; ভ্যাজিনাকে কোনও ভাবেই প্রত্যক্ষ করা সম্ভব নয়।

২। সবচেয়ে মাংসল অঙ্গ।  

যোনিদ্বার এবং মূল যোনি (বা ভ্যাজিনা) আসলে নারী দেহের অন্যতম মাংস পুষ্ট অঙ্গ। এ কারণেই আপনার যোনি যৌনসংগম বা শিশুজন্মের সময় সহজেই সম্প্রসারিত হয়। শুনে অবাক হতে পারেন যে যৌনসংগমের সময় যোনি সম্প্রসারিত হয়ে লম্বায় প্রায় ১০ থেকে ২০ সেন্টিমিটার আর চওড়ায় প্রায় আড়াই ইঞ্চি  পর্যন্ত হয়ে যেতে পারে। এ’বার বুঝতে পারছেন তো আপাত দৃষ্টিতে সংকীর্ণ যোনিদ্বার দিয়েও কী’ভাবে একজন শিশু ভূমিষ্ঠ হতে পারে?

৩। সব নারীর সতীচ্ছদ থাকে না।

সতীচ্ছদ বা হাইমেন হচ্ছে যোনিদ্বারের সামনের পাতলা আবরণটুকু। অনেকেই অক্ষত সতীচ্ছদের সঙ্গে কুমারীত্বকে জুড়ে ফেলেন। তাদের ধারণা হচ্ছে যে একমাত্র যৌনসংগমেই হাইমেন ছিঁড়ে যেতে পারে কিন্তু ঘটনা হচ্ছে যে বেশির ভাগ নারীর দেহেই হাইমেন আদৌ থাকে না। আর যাদের হাইমেন আছে, তাঁদের সতীচ্ছদ অক্ষত না থাকার মূলে যৌনমিলন ছাড়াও অন্য অনেক রকম কারণ থাকতে পারে যেমন শারীরিক কসরত , দৌড়ঝাঁপ বা হরমোন ঘটিত সমস্যা। কাজেই মনে রাখবেন যে অক্ষত হাইমেন বা প্রথম যৌনমিলনের সময় রক্তক্ষরণের সঙ্গে কুমারীত্বের বিশেষ যোগাযোগ নেই। প্রথাগত অবৈজ্ঞানিক ধারণা নিয়ে সবাইকে যাচাই করার প্রবণতাটা বন্ধ হওয়া দরকার।

৪। জি-স্পট সত্যিই আছে!

আজ্ঞে হ্যাঁ, সত্যিই আছে। জি-স্পট হচ্ছে যোনির সেই অংশ যে’টা যোনিদ্বার এর কাছেই থাকে আর এক নারীর জন্য প্রবল যৌনতৃপ্তির উৎস হতে পারে।  স্নায়ু প্রাচুর্যের জন্য জিস্পট অত্যন্ত যৌন সংবেদনশীল আর নারীর যৌনতৃপ্তির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ । অতএব জেনে রাখুন যে জি-স্পট কোনও আষাঢ়ে গল্প নয়, রীতিমত সত্যি।

৫। যোনি আপনা থেকেই পিচ্ছিল হয়ে থাকে।

আপনি ঠিকই পড়েছেন। যোনি পিচ্ছিল না হলে সঙ্গমের সময় নারীর যৌনতৃপ্তি সম্ভব হয় না তবে সে’টা হওয়ার জন্য নারী কিন্তু অন্যর ওপর নির্ভরশীল নয়। বিশেষ এক ধরনের গ্ল্যান্ড, যাকে বলে বার্থোলিন গ্ল্যান্ড (Bartholin’s glands) নারী দেহে থাকে।  এই গ্ল্যান্ড থেকে নিঃসৃত হয় এক ধরনের পিচ্ছিলকারক পদার্থ যা’তে যোনিপথ যৌনসংগমের সময় ভেজা থাকে। এ ক্ষেত্রে যদি কোনও নারী সমস্যার সম্মুখীন হলে তৎক্ষণাৎ ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিৎ।

ছবি সূত্র। seventeen.com

Translated by Tanmay Mukherjee

loader