শীতকালে যে’সব তেলে মালিশ করলে আপনার শিশুর শরীর গরম থাকবে।

শুধু শীতকালেই নয়, বারো মাসই শিশুদের ভালো ভাবে মালিশ করাটা দরকারি। একজন নবজাতকের ক্ষেত্রে নিয়মিত ব্রেস্টফীড করানো যতটা জরুরী, তাকে যত্ন করে মালিশ করাও ততটাই জরুরী। মালিশের ফলে শিশুদের মাংসপেশি মজবুত হয়। আর শীতকালে মালিশ করলে শিশুদের শরীরে আসে উষ্ণতা। নিচে বিভিন্ন রকমের তেলের উল্লেখ করা হল যা দিয়ে মালিশ করলে শিশুরা উপকৃত হবে।

সর্ষের তেল।

শীতকালে সর্ষের তেল হল সবচেয়ে কার্যকরী। আপনি চাইলে সর্ষের তেলে জায়ফল মিশিয়ে উষ্ণ গরম করে নিয়ে তারপর তা দিয়ে শিশুর গা মালিশ করতে পারেন। এ'তে শিশুর হাড় মজবুত হবে এবং তাদের শরীরে আসবে উষ্ণতা। অবশ্য অনেকে গরমকালে শিশুর মালিশের জন্য সর্ষের তেলের ব্যবহার করেন না।  

বাদামের তেল।

শীতকালে শিশুর জন্য বাদামের তেলও বেশ উপকারী। বাদাম তেলের মালিশে শিশুর শরীর হয়ে ওঠে মজবুত আর তাদের গায়ের রঙও উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। কাজেই বছরের এই সময়টা আপনি আপনার শিশুর মালিশ বাদাম তেলে দিয়ে করতেই পারেন।

নারকোল তেল।

আজকাল বেশির ভাগ মায়েরা নারকোল তেল ব্যবহার করে শিশুর গা মালিশ করছেন কারণ এর ফলে বডি ড্রাই হয় না আর খুস্কির মত সমস্যাও কেটে যায়। শীতকালে শিশুদের মালিশের জন্য নারকোল তেলের ব্যবহার করা যেতে পারে।

অলিভ অয়েল।

আজকাল মায়েরা অনেকেই নিজের নবজাতক শিশুকে শুরু থেকেই অলিভ অয়েলে মালিশ করেন। এ'তে শিশুর গায়ের রঙ ফর্সা হয়ে ওঠে। আর তাছাড়া অলিভ অয়েলের ব্যবহারে শরীরের সংক্রমণ রোধ করার ক্ষমতাও বৃদ্ধি পায়।

মালিশ করার সময় কোন বিষয়গুলোর খেয়াল রাখা উচিৎ?

নবজাতক শিশুদের মালিশ করার সময় নিম্নলিখিত ব্যাপারগুলোর কথা অবশ্যই মাথায় রাখা উচিৎ:

খুব দ্রুত আর জোরে মালিশ করবেন না।

যখন আপনি শিশুকে মালিশ করবেন তখন খেয়াল রাখবেন যাতে শিশুর নরম শরীরে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ না করে ফেলা হয়। কারণ এর ফলে শিশুর মাংসপেশির ওপর বাড়তি চাপ পড়তে পারে আর তার ফলে শিশুর ক্ষতি হতে পারে। শিশুকে যতটা সম্ভব হালকা হাতে মালিশ করুন।

তেল মালিশ করার সময় চোখে যেন তেল না যায়।

বাজারে যে সব হার্বাল তেল পাওয়া যায় তা'তে এমন অনেক সামগ্রী থাকে যা শিশুর চোখে গেলে জ্বলুনি শুরু হতে পারে। কাজেই মালিশ করার সময় সতর্ক থাকুন যাতে আপনার শিশুর চোখে তেল না যায়।

মালিশ করার পর পরই শিশুকে স্নান করিয়ে দেবেন না।

মালিশ করা হলেই শিশুকে স্নান করিয়ে দেবেন না যেন। মালিশের পর অন্তত ১০ থেকে ১৫ মিনিট অপেক্ষা করুন আর শিশুকে নিজের মনে খেলতে দিন। তারপর ওকে নিয়ে যান স্নান করাতে। এ'ছাড়া আরও একটা বিষয়ে আপনার খেয়াল রাখা উচিৎ; সে'টা হল শিশুকে স্নান করানোর জন্য অবশ্যই উষ্ণ গরম জল ব্যবহার করা উচিৎ। এর ফলে শিশুর ত্বকে স্নানের পরেও তেল লেগে থাকবে না।

ভালোভাবে মালিশ করতে পারলে শিশুরা আরাম-বোধ করে এবং শান্ত থাকে। কাজেই নবজাতক শিশুদের দিনে অন্তত চার থেকে পাঁচবার অবশ্যই মালিশ করুন। এ'তে শিশুদের মাংসপেশি হবে মজবুত।

 

Translated by Tanmay Mukherjee

loader