অদ্ভুত কিম্ভুত কিছু ভূতের গল্প – ভূত চতুর্দশীর জন্যে তৈরী তো আপনি?

কালীপুজোর ঠিক আগের রাতটা যেন ভয়াবহ | সেদিন কালীপুজোর মতো অমাবস্যা নয় ঠিকই কিন্তু সেদিন কালীপুজোর মতো বাজি, আলোর রোশনাইও থাকেনা | থাকে কেমন একটা ভারী অন্ধকার | আমরা সেদিন ১৪ প্রদীপ বা চোদ্দটা মোমবাতি জ্বালাই | কেউ বলে এতে চোদ্দ পুরুষের আত্মা খুশি হয় আবার কেউ বলে এই চোদ্দটি বাতির আলোয় অশরীরী আত্মারা আমাদের কাছে আসতে পারেনা |

কিন্তু কারা এই অশরীরী আত্মা? ৩৩০ কোটি ভগবান আমাদের, সেখানে ৩৩০ কোটি ভূতও কি থাকতে পারেনা? কিন্তু ৩৩০ কোটি ভূতের কথা বলা মুশকিল | কিছুটা আমরা বলতে পারি | ভূতে বিশ্বাস করেন বা নাই করেন, জেনে নিন আমাদের বাঙালিদের কত বিভিন্ন রকমের ভূতপ্রেত নেমে আসে এই ভূত চতুর্দশীর রাত্রে |

আন্দাউলি – এই ভূত রাতের অন্ধকারে আপনাকে দিশাহারা করে দিতে পারে |

আলেয়া – রাতের অন্ধকারে জ্বলে ওঠা এই আলো আবার হঠাৎই নিভে যায় | তারপর জ্বলে ওঠে আবার | আর এই ভাবে দপদপ করতে করতেই এ মানুষকে টেনে নিয়ে যায় বিপদের দিকে |

অমৌর – এই ভূত কমবয়েসী, অবিবাহিতা মেয়েদের পছন্দ করে, আর একবার ভর করলে মেয়েরা বাকশূন্য হয়ে উঠে শুধু নীরব ভাবে এদিক ওদিক তাকিয়ে থাকে |

আরজুরি – রাস্তাঘাটে অপবাদে মৃত্যু হলে মানুষ আরজুরি ভূত হয়ে যায় | তারপর এরা অন্য মানুষকেও একই পরিণতির দিকে টেনে নিয়ে যেতে চায় |

বুনি – বাঁশে থাকা পেত্নী |

ব্রহ্মদৈত্য – ব্রাহ্মণ ভূত | সাদা ধুতি, পৈতে ও কাঠের খড়ম পরে এরা বাড়ির ছাদে ছাদে ঘুরে বেড়ায় কিন্তু ভুলেও মাটিতে পা ফেলেনা |

চুড়েল – চুড়ি পড়া পেত্নী |

একঠেঙে – যে ভূতের জীবদ্দশায় একটা পা কাটা গেছে |

এঁঠো ভূত – খাবার পর মুখ হাত না ধুলে বা এঁঠো বাসন না ধুলে এই ভূত ধরে |

আঁশ পেত্নী – কাঁচা মাছ পাবার জন্যে জেলেদের পেছনে ঘোরে এরা | ছোটবেলায় আমরা যে ভূতের গল্প পড়তাম যাতে পেত্নীরা নাকি সুরে “একটা মাছ দে না” বলতো, মনে পড়ে? তারা এই ধরণের পেত্নী |

কানি পিশাচী – নিয়মিত জামাকাপড় না কাচলে এই ভূত ধরে |

কমজোরি ভূত – ছাপোষা বাঙালি মরে গিয়ে এই ভূত হয় |

কুনো ভূত – ঘরের অন্ধকার, অপরিষ্কার কোনে থাকে এই ভূত |

গোহিলি – খুব ভয়ঙ্কর ভূত এরা | মানুষের মাথা ঘাড়ের ওপর ১৮০ ডিগ্রী বনবন করে ঘুরিয়ে দিতে পারে এরা |

গলাশি – গলায় দড়ি দিয়ে যারা মরে তারা এই ভূত হয়ে যায় |

গোভূত – গরু মরে গেলে গোভূত হয়ে যায় |

গুবাসী – রাস্তার ধারে ঝঁহপঝাড়ে লুকিয়ে থাকে এই ভূত |

গুল – মরা মানুষের শরীরে ভর করে এই ভূত |

গোবেগা – বাছুর মরে গিয়ে গোবেগা ভূত হয়ে যায় | তারপর এরা পূর্ণিমা অমাবস্যাতে খোলা মাঠেঘাটে হাম্বা হাম্বা করতে করতে ছুটে বেড়ায় |

গুয়ে পেত্নী – গায়ে দুর্গন্ধওলা পেত্নী এরা |

হাঁড়ি ভূত – এরা থাকে নোংরা ডোবাতে | মানুষকে টেনে নামিয়ে প্রথমে ডুবিয়ে দিয়ে তারপর রক্ত খায় এরা |

জগ্গি বুড়ি – জঙ্গলের পাশে যে পুকুর থাকে তাতে কালো পাথর সেজে লুকিয়ে থাকে এই ভূত | পুকুরে মানুষ নামলেই তাকে টেনে নামিয়ে ডুবিয়ে দেয় এরা |

ঝাপড়ি – এরা নিচু ডালে বসে থাকে আর যেই কেউ নিচ দিয়ে যায় এরা তার মাথায় টোকা দেয় | মেজাজ খারাপ থাকলে মলত্যাগও করে দিতে পারে |

মামদো – বড় মনের মুসলমান ভূত |

নিকষ – জলে থাকা ভয়ঙ্কর ভূত |

নিশি – একটা মাথা কাটা ডাব নিয়ে রাতের অন্ধকারে ঘোরে এরা | আপনার খুব পরিচিত কারুর গলায় আপনার নাম ডাকে আর যেই কেউ সাড়া দেয়, টুক করে ডাবের মাথাটা বন্ধ করে আপনার আত্মা চুরি করে নেয় | তাই রাত্রে কেউ ডাকলে চারবার ডাক শুনে তবেই সাড়া দিতে হয় কারণ নিশি মাত্র তিনবার ডাকে |

পেঁচো – শিশুদের ওপর ভর করে এই ভূত |

ফেঁশেরা – গলায় ফাঁসি পড়া অপরাধীরা এরম ভূত হয় |

প্রেত – মানুষ মারা যাবার পর যদি সব আচার না মানা হয় তবে সে প্রেত হয়ে যায় |

রশি ভূত – দুপুরে ভরা পেট খেয়ে কোনো ফাঁকা, জনমানবহীন জায়গাতে গেলে এই ভূত ধরে |

রংকিনী – খুব ভয়ঙ্কর, ক্ষুদার্ত, এবং গরিব পেত্নী

শাঁখচুন্নি – সধবা মেয়ের হাতে শাঁখা পড়া পেত্নী |

সাহেব ভূত – বিদেশী লোকের ভূত |

এছাড়াও কিন্তু ভূত আছে | সেই অদ্ভুত, কিম্ভূতদের কথা তো সত্যজিৎ রায় আমাদের বলে গেছেন | সুতরাং এই ভূত চতুর্দশীতে চোদ্দ প্রদীপ জ্বালাতে ভুলবেন না যেন!

 

 

loader