শরীরের গঠন যেমনই হোক না কেন, শাড়ি পরুন নিখুঁত ভাবে।

ভারতীয় নারীর সবচেয়ে প্রিয় পোশাক হল শাড়ি আর হবে নাই বা কেন? শাড়ির ঝলকে গা ভাসানোর জন্য প্রতিটা দিনই আদর্শ, প্রতিটা মুহূর্তই মনোরম। আর শাড়ির সব চেয়ে বড় গুণ হল  এ’তে আধুনিকা থেকে আটপৌরে, সকলকেই মনে হয় তিলোত্তমা অপরূপা। তবে সঠিক শাড়ি নির্বাচন আর শাড়ি পরার সঠিক ধরণ, এই দু’টোর ওপর আপনার সাজের সৌন্দর্য অনেকটাই নির্ভর করে।  আপনার শরীরের ‘শেপ’ই ঠিক করে দেবে আপনি কী শাড়ি পরবেন এবং কেমন ভাবে পরবেন। 

১। আপেল আকৃতির দেহ।

কাপড়ের ধরণ: আপনার বুক, কোমর আর পেট ভারি হলে জানবেন যে আপনার দেহের আকৃতি অনেকটা আপেলের মত। আপনার উচিৎ সিল্ক বা সুতির শাড়ি পরা যাতে কাপড় শরীরের সঙ্গে দৃষ্টিকটু ভাবে লেপটে না থাকে।

প্যাটার্ন: ঘন এবং চওড়া এমব্রয়ডারি আপনার জন্য আদর্শ। 

শাড়ি পরার স্টাইল: অত্যধিক জবরজংওলা স্টাইল এড়িয়ে সহজ ভাবে শাড়ি পরুন। আলগা করে জড়িয়ে নিন আঁচল, ও’তেই আপনাকে মানাবে ভালো। লম্বা ব্লাউজ পরতে পারেন কারণ এ’তে আপনার কোমর ঢাকা থাকবে।

২।  পিয়ার (Pear) আকৃতির দেহ।

কাপড়ের ধরণ: শরীরের ঊর্ধ্বভাগের তুলনায় আপনার নিতম্ব কি বেশ  চওড়া? আমাদের সাজেশন অনুযায়ী আপনার বেছে নেওয়া উচিৎ শিফন বা জর্জেট; এ’রকম শাড়িই আপনার বডি-টাইপের সঙ্গে বেশি মানানসই হবে। 

প্যাটার্ন:  শাড়ির গায়ে ছোট ছোট প্রিন্ট থাকলে আপনাকে দিব্যি মানাবে। এমব্রয়ডারি বা দুর্দান্তে কন্ট্রাস্টের শাড়ির পাড়েও আপনাকে বেশ দেখাবে। 

শাড়ি পরার স্টাইল: আঁচল সামনের দিকে রেখে জড়িয়ে নিন। মার্মেডের মত পরলে আপনার শরীরের নীচের দিকে অকারণ দৃষ্টি আকর্ষণ করা হবে, সে’টা এড়িয়ে চলাই ভালো। 

৩। স্থূল দেহ: 

কাপড়ের ধরণ: শিফন বা সিল্কের শাড়ি আপনি নিশ্চিন্তে পরতে পারেন। কড়কড়ে সুতির শাড়ি বা এমন কোনও মোটা কাপড়ের শাড়ি যা’তে আপনাকে আরও ভারিক্কি দেখায়; সে’সব এড়িয়ে চলাই ভালো। বরং হ্যান্ডলুমের শাড়ি আপনার কাছে জুতসই ঠেকতে পারে। 

প্যাটার্ন: হালকার রঙের বদলে ডীপ শেড পরুন; এ’তে আপনাকে স্লিম দেখাবে। এর সঙ্গে চলতে পারে ছোট ছোট প্রিন্ট। 

শাড়ি পরার স্টাইল: সঠিক ভাবে শাড়ি পরাটা জরুরী। সাধারণ ভাবেই শাড়ি পরুন কিন্তু পারলে আঁচলটা সামান্য আলগা রাখুন, এ’তে বাড়তি মেদ ঢাকা পড়বে। আর ব্লাউজটা ফুল হাতা এবং লম্বাটে হলেই ভালো। 

৪। রোগাটে। 

কাপড়ের ধরণ: সুতি, সিল্ক বা নেট; এ’গুলোতে আপনাকে ভরাট দেখাবে। টাইট ফিটিং কাপড় বা গায়ের সঙ্গে লেপটে যায় এমন কিছু বাদ দেওয়াই ভালো; এ’তে আপনাকে আরও রোগাটে দেখাবে। 

প্যাটার্ন: আপনি রোগা হলে সরু পাড় আর ছোট প্রিন্টে আপনাকে একটু বাড়তি লম্বা দেখাবে এবং তা’তে আপনার সৌন্দর্য বাড়বে। ক্যাটক্যাটে প্রিন্ট বা অত্যধিক রংচঙে পাড়ওলা শাড়ি বাদ দেওয়াই ভালো। 

শাড়ি পরার স্টাইল: চিরকালীন স্মার্ট স্টাইলটা আপনার জন্য মন্দ নয়; আঁচল প্লীট করে কাঁধে পিন করে নিন, আপনাকে মানাবে ভালো। স্লিভলেস ব্লাউজে আপনার হাতকে বেশ রোগা দেখাতে পারে, অতএব পাফ্‌ড স্লিভ বা নেটের স্লিভ বেছে নিতে পারেন।

৫। তম্বী। 

কাপড়ের ধরণ: নিশ্চিন্তে নিজেকে  জর্জেট, শিফন বা নেটে মুড়ে ফেলুন, “তোমার দেহের ভঙ্গিমাটি যেন বাঁকা সাপ” ব্যাপারটা স্পষ্ট হয়ে উঠুক।

প্যাটার্ন: ডীপ্‌ রঙের শাড়ি হলে তা’তে থাকুক একটু এমব্রয়ডারি আর শাড়ির রঙ হালকা হলে তা’তে দরকার চওড়া পাড়। তন্বী দেহ যখন, আপনি নিশ্চিন্তে ঝকঝকে রঙের মধ্যে দুর্দান্ত সব প্রিন্ট বেছে নিতেই পারেন।  

শাড়ি পরার স্টাইল: নিখুঁত প্লীটে শাড়ি পরুন, আপনার নিখুঁত ফিগারে সে’টা বেশ মানানসই হবে। বাটারফ্লাই আঁচল বা ছোট প্লীটের আঁচলেও দারুণ মানাবে আপনাকে। বাড়তি গ্ল্যামার চাইছেন? নিশ্চিন্তে পরুন স্লিভলেস বা ব্যাকলেস ব্লাউজ।  

Translated by Tanmay Mukherjee

loader