শিশুদের তেল মালিশ আর স্নান করানোর চিরাচরিত ভারতীয় উপাদানগুলো

একজন সদ্যজাতের প্রথম স্নান প্রায় একটা আনন্দ উৎসব বলা যেতে পারে। বাড়ির প্রত্যেকে এই ব্যাপারটাকে নিয়ে মেতে ওঠে। আমাদের দেশে সদ্যজাতকে প্রথম স্নান করানোর পদ্ধতিতে অনেক ঐতিহ্যগত নিয়মকানুন আর সংস্কার মিশে রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে কিছু কিছু কুসংস্কারও দেখা যায় তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই সেগুলোর কোনও কুপ্রভাব থাকে না। অনেক ক্ষেত্রে শিশুদের প্রথম মালিশ করেন কোনও দাইমা বা আয়া এবং তাঁরা মালিশ করেন রীতিমত শক্ত হাতে; সে’টা দেখে আশঙ্কিত হয়ে পড়াটাও অস্বাভাবিক নয়। তবে আশঙ্কা অমূলক কারণ তাঁদের হাতের মালিশ আদতে শিশুদের জন্য আদর্শ। এরপর মূল স্নানের ব্যাপারটা ঘটে অন্যান্য রীতিনীতি মেনে যেমন শিশুকে কাজল পরানো, সুগন্ধি জলে গা ধুইয়ে দেওয়া ইত্যাদি।

প্রথম মা হওয়ার পরই সবাইকে ডাক্তার বা আত্মীয়স্বজন জানিয়ে দেন যে প্রথম মাস খানেক সাবানের ব্যবহার করা অনুচিত। অনেক ভারতীয় পরিবার আবার শিশুর জন্মের পর এক বছর পর্যন্ত তার গায়ে সাবান স্পর্শ করান না। সাবান না ছুঁইয়ে কি শিশুদের স্নান করানো সম্ভব? আমাদের দেশে শিশুদের স্নান করানোর সময় যে গুরুত্বপূর্ণ উপাদানগুলো বহুযুগ ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে, তার একটা লিস্ট দেওয়া হল। এর কোনও একটার ব্যবহারে হয়তো আপনার সদ্যজাত সন্তানের স্নান আরও উপভোগ্য ও আরামদায়ক হয়ে উঠবে।

মালিশের জন্য:

–   রসুন আর মেথি মেশানো গরম সর্ষের তেল দিয়ে মালিশ করলে শিশুরা বেশ উপকৃত হয়। এর মূল কারণ হচ্ছে রসুন ব্যাকটেরিয়া নষ্ট করে এবং মেথির প্রভাব শরীরের জন্য আরামদায়ক। অনেক বাড়িতে সর্ষের তেল জোয়ানের সঙ্গে গরম করে শিশুর গায়ে মাখানোর রীতি আছে কারণ অনেকের বিশ্বাস এ’তে শিশুদের কলিক-পেন কমে।

–   দুধের সর, বেসন আর হলুদ তেলে মিশিয়ে শিশুদের মালিশ করা যেতে পারে। অনেকের বলেন সদ্যজাতের গায়ে জন্মের সময়ে যে রোম থাকে, সেগুলো এ’তে ঝরে যায় আর ত্বকে বাড়তি ঔজ্জ্বল্যও আসে। কিন্তু সর, বেসন আর হলদে তেলে মিশিয়ে মিহি ভাবে মাখাটা দরকারি নয়তো খরখরে ব্যসন-গুঁড়োর জন্য আপনার শিশুর গায়ে দাগ বসে যেতে পারে।

–   নারকোলের দুধ থেকে তেল বের করেও সে’টা শিশুকে মাখানো যায়। টাটকা নারকোল থেকে দুধ বের করে সে’টা অল্প আঁচে ফুটিয়ে নিয়ে তেল বের করা যায়। এ’তে সামান্য কিছু অসুবিধে অবশ্য রয়েছে; এ কাজের জন্য প্রচুর পরিমাণে সময় আর নারকোল ব্যয় করতে হয়।

যা ব্যবহার করবেন না:

–   টী ট্রি (tea tree) তেলের মত এসেনশিয়াল অয়েল ব্যবহার না করাই ভালো কারণ বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এই তেলগুলো বেশ কড়া আর অত্যধিক ঘন হয়।

–   আপনার শিশুর ত্বক কি খুব অনুভূতিপ্রবণ? অল্পে ফেটে যায়? সে ক্ষেত্রে মালিশের জন্য সর্ষের তেল, অলিভ অয়েল বা ঘি ব্যবহার না করাই ভালো।

শিশুকে স্নান করানোর জন্য আপনি যা ব্যবহার করতে পারেন:

–   গোটা মুগডাল গুঁড়ো করে দুধের সঙ্গে মিশিয়ে।

–   রিঠা আর আমলা পেষাই করে ঘরেই বানিয়ে নিন আপনার শিশুর শ্যাম্পু।

–   কাঁঠাল পাতা সেদ্ধ করে রাতভর রেখে দিন আর পরের দিন শিশুর স্নানে ব্যবহার করুন। কাঁঠালে রয়েছে জরুরী ম্যাগনেসিয়াম যা আপনার শিশুর দেহকে ক্যালসিয়াম শুষে নিতে সাহায্য করে।

–   আপনার শিশু ডাইপার র‍্যাশে ভুগছে? মুলতানি মাটি আর দুধ মিশিয়ে ওকে মাখালে সুফল পেতে পারেন।

–   মুসুর ডাল গুঁড়ো করে জলে বা দুধে মিশিয়ে আপনার শিশুকে স্নানের সময়ে গায়ে মাখালে উপকার পেতে পারেন।

বিধিবদ্ধ সতর্কতা – শিশুর ত্বকে নতুন যে কোনও কিছু লাগানোর আগে আপনার প্রেডিয়াট্রিশিয়ানের পরামর্শ অবশ্যই নিন। আর শিশুর গায়ে অ্যালার্জি দেখলে কোনও রকম দেরী না করে আগে ডাক্তারের কাছে ছুটুন।

Translated by Tanmay Mukherjee

Open in app
loader