কোনও রকম সুরক্ষা ছাড়াই সেক্স করে ফেলেছেন? চটপট রান্নাঘরে চলে যান কারণ সমাধান সে’খানেই থাকতে পারে।

হরমোনের চাহিদায় অনেক কিছু ঘটে যেতে পারে আর গত রাত্রে কি তেমনই কোনও কারণে আপনি বেসামাল হয়ে পড়েছিলেন? অভিজ্ঞতাটা হয়ত বেশ আনন্দদায়ক ছিল কিন্তু পরের দিন আপনার চিন্তিত হয়ে ওঠাটাও অস্বাভাবিক নয়। যৌনমিলন যে শুধু ‘সেফ’ সময়েই ঘটবে তার কোনও নিশ্চয়তা নেই। আবেগের বশবর্তী হয়ে কখনও কখনও বেঠিক সময়েও সেক্স ঘটে যেতেই পারে এবং তারপর অযাচিত প্রেগনেন্সির দুশ্চিন্তায় আপনার ঘাড়ে চেপে বসবেই।

বাজারে হরেক রকমের গর্ভ-নিরোধক রয়েইছে তবে কিছু ঘরোয়া টোটকাতেও উপকার পেতে পারেন। আপনার রান্নাঘর থেকেই এমন কিছু জিনিস আপনি সহজে পেতে পারেন যে’গুলো গর্ভ-নিরোধকের কাজ করতে পারে।

১। গর্ভ-নিরোধক বড়ি।

ঘরোয়া টোটকার কথা বলার আগে জানিয়ে রাখা উচিৎ যে কোনও রকম সুরক্ষা ছাড়া সেক্স করে ফেলার পর সবচেয়ে সহজ এবং ভরসাযোগ্য উপায় হল গর্ভ-নিরোধক বড়ি।  এ’টা দোকানে সহজেই পাওয়া যায় এবং যৌনমিলনের পর একটা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এ’গুলো খাওয়া উচিৎ ( সাধারণত যৌনমিলনের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে)। আপনার ক্ষেত্রে যদি যৌনমিলন নিয়মিত ঘটে থাকে, তাহলে গর্ভ-নিরোধক বড়ি খাওয়ার আগে ডাক্তারের পরামর্শ নিন কারণ যাতে কোনও রকমের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ায় আপনাকে ভুগতে না হয়।

২। পিরিয়ডে দেরী হওয়ার অন্যান্য কারণগুলো সম্বন্ধে সচেতন হয়ে উঠুন।

পিরিয়ডে দেরী হওয়া মানেই যে আপনি প্রেগনেন্ট তার কোনও মানে নেই। স্পার্মসেল আর ডিম্বাণুর মিলন অত সহজে ঘটে না। কাজেই পিরিয়ডে দেরী হওয়ার অন্যান্য কারণগুলোও সম্বন্ধেও নিজেকে সচেতন রাখুন। মানসিক চাপ বা টেনশনের ফলেও পিরিয়ডে দেরী হতে পারে।

৩। ঝাল আর মশলাদার খাবার।

ঝাল আর মশলাদার খাবার শরীরের উষ্ণতা বৃদ্ধি করে এবং আপনার পিরিয়ড সাইকেলকে ত্বরান্বিত করে। কাজেই আনপ্রটেক্টেড সেক্সের পর একটানা ঝাল আর মশলাদার খাবার খেয়ে যেতেই পারেন।

৪। পাকা পেঁপে।

যদি আপনি নিশ্চিত হন যে আপনি সুরক্ষা ছাড়াই সেক্স করেছেন এবং সে’টা ‘সেফ’ সময়ে ঘটেনি; তা’হলে আপনার উচিৎ যথেষ্ট পরিমাণে পাকা পেঁপে খাওয়া। এ’তে অবাক হওয়ার কিছুই নেই। পেঁপে শুধু আপনার ত্বকের জন্যেই উপকারী নয়, পেঁপে আপনার শরীরের প্রচুর পরিমাণে উষ্ণতা যোগ করে এবং পিরিয়ড এগিয়ে আনতে সাহায্য করে। পেঁপেতে রয়েছে এমন সব পুষ্টিগুণ যা দ্রুত গতিতে ইস্ট্রোজেন (oestrogen) হরমোন তৈরি করতে সাহায্য করে। এর ফলেও পিরিয়ড দ্রুত হয় এবং অযাচিত প্রেগনেন্সির ভয় কাটিয়ে ওঠা যায়।

৫। আনারস।

আনারসে এমন কিছু এনজাইম আছে যা দ্রুত পিরিয়ড ঘটাতে সাহায্য করে। আনারসের জুস খেতে পারেন অথবা স্যালাডে দিয়েও খেতে পারেন। তবে ব্যাপারটা কার্যকরী হতে হলে আপনাকে প্রচুর পরিমাণে আনারস খেতে হবে। প্রেগনেন্সি আটকানোর নিরাপদ পদ্ধতিগুলোর মধ্যে এ’টা হচ্ছে অন্যতম।  

৬। ডালিম।

ডালিমে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে আয়রন আর এমন কিছু উপাদান যা শরীরের মধ্যের প্রাকৃতিক ভিটামিন আর মিনারেলের পরিমাণ বাড়িয়ে তুলতে সাহায্য করে যাতে পিরিয়ড ত্বরান্বিত হয়। ডালিমের জুসে গুড় মিশিয়ে দিনে ৩ থেকে ৪ বার খেলেও পিরিয়ড তাড়াতাড়ি হতে পারে।

৭। তিল।

এই সমস্যার সমাধানে আপনার মা দিদিমারাও তিলের কথা বলবেন! দু’চামচ তিল এক কাপ গরম জলে ভিজিয়ে নিন। দশ মিনিট ভেজানোর পর জলটা উষ্ণ থাকতেই খেয়ে ফেলুন। সুফল পেতে দিনে দু’বার এ’টা খাওয়া দরকার। এ’টা নিয়মিত খেলে ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে হয়ে যেতে পারে পিরিয়ড।

৮। গুড়।

অযাচিত প্রেগনেন্সির চিন্তা মিষ্টি ভাবেও দূর করতে পারেন। গুড় মেটাবোলিজমে সাহায্য করে আর শরীরের হরমোন লেভেলকে স্বাভাবিক করে তোলে। জলখাবারের আগে খালি পেটে; তিলের সঙ্গে গুড় মিশিয়ে খেতে পারেন বা অথবা গুড় আর আদার রস মিলিয়ে তৈরি করে নিন সুস্বাদু সরবত; এ’টা শরীরের জন্যও উপকারী আর মেনস্ট্রুয়েশনও হবে তাড়াতাড়ি।

৯। আদা আর পার্সলে।

পার্সলেতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার আর এ’টা নারী-দেহের জন্য অত্যন্ত পুষ্টিকর। আদার রস আর পার্সলে মিশিয়ে দিনে দুই থেকে তিন বার খান; এ’তে পিরিয়ড হবে তাড়াতাড়ি এবং অযাচিত প্রেগনেন্সি এড়ানো যাবে। কী ভাবে? এ’তে রয়েছে অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট যা ইউট্রাসকে প্রসারিত করে আর পিরিয়ডকে ত্বরান্বিত করে । এ’টা অত্যন্ত সুস্বাদু, কাজেই পিরিয়ড না হওয়া পর্যন্ত নিয়মিত খেয়ে যেতেই পারেন।

১০। ভিটামিন সি।

পিরিয়ডে দেরীর ক্ষেত্রে ভিটামিন সি খুবই কার্যকরী টোটকা হতে পারে। আপনার উচিৎ সেই সব ফল খাওয়া যা’তে রয়েছে যথেষ্ট পরিমাণে ভিটামিন সি। ভিটামিন সি আপনার ইউটেরাইন আস্তরণে ইস্ট্রোজেন তৈরি করতে সাহায্য করে, এর ফলে মেনস্ট্রুয়েশন ঘটে তাড়াতাড়ি।

 

Translated by Tanmay

loader