সাধারণত যে কারণগুলোর জন্য রাত্রিবেলা শিশুদের বার বার ঘুম ভেঙে যায়।

রাত্রিবেলা নবজাতক শিশুদের বার বার ঘুম ভেঙে যাওয়া কোনও অত্যাশ্চর্য ব্যাপার নয়। অনেক শিশুর ক্ষেত্রে দেখা যার যে তারা কোলে দিব্ব্যি ঘুমিয়ে আছে অথচ বিছানায় শুইয়ে দিলেই জেগে উঠছে। সে ক্ষেত্রে বিচলিত না হয়ে বরং আপনার শিশুর ঘুম ভাঙার কারণগুলো বোঝার চেষ্টা করা উচিৎ। শিশুদের রাতে না ঘুমনোর বিভিন্ন রকমের কারণ হতে পারে, কেউ হয়ত দিনের বেলায় বেশি ঘুমোচ্ছে, কারুর হয়ত মাঝরাত্তিরে খিদে পাচ্ছে, কারুর হয়ত রয়েছে শারীরিক বা মানসিক বিকাশ ঘটিত কারণ বা অন্যান্য সমস্যা যার ফলে তারা রাতের বেলায় সহজে ঘুমোতে চায় না অথবা বার বার জেগে ওঠে। সেই সব সমস্যার কথা মাথায় রেখেই নিচে এমন কিছু টিপস দেওয়া হল যেগুলো মানলে আপনার শিশুর ঘুমের সমস্যা দূর করা সম্ভব।  

রাতে শিশুদের ঘুম না আসার কারণগুলো কী কী হতে পারে?

সাধারণত যেই সব কারণের জন্য শিশুরা রাতের বেলা জেগে থাকে সেগুলো হলঃ

ন্যাপি ভিজে যাওয়ার জন্য।

নবজাতকরা অনেকবার মূত্রত্যাগ করে যার কারণে ন্যাপি ঘন ঘন ভিজে যায় আর স্বাভাবিক ভাবেই তারা ভেজা ন্যাপিতে ঘুমোতে চাইবে না। ঘুমের মধ্যেও ন্যাপির ভেজাভাবে বিরক্ত হয়ে শিশুরা কেঁদে উঠতে পারে।

খিদে পেলে।

বড়দের তুলনায় নবজাতকদের বেশি খিদে পায়। সাধারণত এই বয়সের শিশুদের রাত্রে পাঁচ থেকে ছয় বার দুধ খাওয়ানোর দরকার পড়ে। তাছাড়া এই সময় আপনার শিশু সম্পূর্ণ ভাবে মায়ের বুকের দুধের ওপর নির্ভরশীল। কাজেই ওদের সঠিক সময় মত খাওয়ানো অত্যন্ত দরকারী।

অন্য কোনও ধরণের সমস্যা বা অসুবিধে হলে।

এই বয়সে শিশুরা তাদের যাবতীয় অসুবিধের কথা কেঁদে জানান দেয়। অতএব শিশুদের কান্নার কারণ বোঝাটা অত্যন্ত জরুরী; হয়ত সে পেট ব্যথা বা কান ব্যথার মত সমস্যায় ভুগছে আর সেই সমস্যা দূর না হওয়া পর্যন্ত সে কিছুতেই ঘুমোতে পারবে না।

শিশুরা রাতে বারবার উঠলে আপনাকেও তার সঙ্গে সঙ্গে উঠতে হয় আর সে ফের না ঘুমনো পর্যন্ত আপনার শোওয়ার কোনও উপায় থাকে না। ফলে আপনার মধ্যে জমা হয় ক্লান্তি। এই সমস্যা থেকে বাঁচতে হলে নিজের শিশুকে শোওয়ানোর সময় নিচের টিপসগুলো অবশ্যই মনে রাখবেন:

শিশুকে খালি পেটে শোওয়াবেন না।

আপনার নবজাতক শিশুর বয়স এক মাসের কম হলে তার দিনের মধ্যে দশ থেকে আঠেরো ঘণ্টা ঘুমনো উচিৎ। আর এই সময় শিশুরাই ঠিক করে নেয় তাদের ঘুমনোর সাইকেল কেমন হবে। ওই বয়সে শিশুদের পাকস্থলী এতটাই ছোট থাকে যে এক এক বারে শিশুরা বেশি পরিমাণে খেতে পারে না। কাজেই নিয়ম করে তাদের না খাওয়ালে খিদের তাড়নায় তাদের ঘুম ভেঙে যেতে পারে। আপনার উচিৎ নিয়ম মেয়ে করে ঘন ঘন শিশুকে দুধ খাওয়ানো যাতে সে হঠাৎ খিদেয় কষ্ট না পায়। এতে তাদের ঘুমও ভালো হবে।

শোওয়ার আগে মালিশ করুন।

এই সময় শিশুদের দিনে পাঁচ থেকে ছ'বার তেল মালিশ করা উচিৎ। এ'টা একদিকে যেমন শিশুদের হাড়ের বিকাশের জন্য কার্যকরী, অপরদিকে এ'তে তাদের রাতের ঘুমও ভালো হয়। বিশেষত রাতে শোওয়ানোর আগে শিশুর গা হাত পা অবশ্যই ভালোভাবে মালিশ করবেন, এতে তাদের ঘুম গভীর হবে।

ভেজা ন্যাপি পালটে দেওয়া।

আগেই বলা হয়েছে যে রাতে শিশুদের বার বার ঘুম ভাঙার অন্যতম কারণ হচ্ছে ভেজা ন্যাপি। ভেজা ন্যাপিতে শিশুরা অস্বস্তি বোধ করে এবং তাদের ঘুম বারবার ভেঙে যায়। কাজেই রাতে সময় মত ওদের ন্যাপি পালটে দেওয়াটা অত্যন্ত জরুরী যাতে ভেজাভাবের জন্য ওদের ঘুম নষ্ট না হয়।

শিশুকে নিজের কোলে তুলে নিন।

রাতের দিকে শিশুর একান্তই ঘুম না এলে তাদের কোলে নিয়ে আদর করে ঘুম পাড়াতে চেষ্টা করুন। কোলের উষ্ণতায় শিশুরা আরামবোধ করে এবং এ'তে তাদের ঘুমোতে সুবিধে হবে।

সন্ধের সময় শিশুকে ঘুমোতে না দেওয়া।

শিশু একটু বড় হলে চেষ্টা করুন সে সন্ধের সময় যাতে ঘুমিয়ে না পড়ে। কারণ সন্ধের সময় ঘুমিয়ে নিলে রাতের দিকে শিশুদের সহজে ঘুম না আসাটাই স্বাভাবিক। অনেক বাচ্চাই সন্ধেবেলা ঘুমোতে চায় কিন্তু আপনাকে চেষ্টা করতে হবে সেই অভ্যাস থেকে ওকে দূরে রাখতে। দরকার হলে ওদের সঙ্গে খেলুন বা বাইরে ঘুরতে নিয়ে যান, কিন্তু সন্ধের দিকে কিছুতেই শিশুদের ঘুমোতে দেবেন না।

তবে অনেক বাচ্চার এমনিতেই রাতে ঘুম আসতে চায় না, তারা নিজের মনে হাত পা ছুঁড়ে খেলতে থাকে। খেলতে খেলতে এক সময় তারা ক্লান্ত হয়ে আপনা থেকেই ঘুমিয়ে পড়ে। সে ক্ষেত্রে শিশুদের নিজের মন চুপচাপ খেলতে দিন।  

 

Translated by Tanmay Mukherjee

loader