আপনার শাশুড়িমা কি আপনাকে ভালোবাসেন না আপনাকে সহ্য করতে পারেন না? জেনে নিন।

কখনও খেয়াল করে দেখেছেন যে “শাশুড়িমায়ের দুর্ব্যবহার”য়ের হিসেবে কোনোদিন মেয়ের মাকে ধরা হয় না? আসলে সে’টাও পুরুষ তান্ত্রিক সমাজেরই একটা দিক। নববধূদের ওপরেই শুধু থাকে একটা নতুন সম্পর্ককে আপন করে নেওয়ার এবং মানিয়ে নেওয়ার যাবতীয় দায়িত্ব। আর এই সম্পর্কটা এমন একজনের সঙ্গে যে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই সবজান্তা, সর্ব বিষয়ে যার অগাধ জ্ঞান এবং যিনি সর্বত্র বিরাজমান।

এই রীতিনীতি এ’বারে পালটে ফেললেই সকলের মঙ্গল। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় যে শাশুড়িদের দাবিদাওয়া এবং চাহিদার শেষ নেই। তাঁদের মতামত অনেক ক্ষেত্রেই তাঁদের ছেলের বৌয়ের মতামতের সঙ্গে মেলে না এবং এঁদের মানিয়ে চলা মোটে সহজ কাজ নয়। ব্যাপারটা রীতিমত জটিল হয়ে ওঠে তখন যখন এই মতপার্থক্যগুলো বিভিন্ন আলোচনা এবং পরিস্থিতিতে বারবার উঠে আসে। অনেক ক্ষেত্রে শাশুড়িদের মতামত, রাগ ভালোবাসা বা তাঁদের ভালোমন্দ বিচার বুঝে উঠতে একজন পুত্রবধূর অনেক সময় লেগে যায়। শাশুড়ির মতামতগুলোকে ঠাহর করতে অনেকের বছর দশেক লেগে যাওয়াও অস্বাভাবিক নয়; তদ্দিনে গেরস্থালী অনেকটাই এগিয়ে গেছে, হয়ত ছেলেমেয়েরাও বড় হয়ে উঠতে শুরু করেছে।

তবে চিন্তা নেই, আমাদের হাতে রয়েছে শাশুড়ির দাপটের বুনো ওলকে ঘায়েল করার জন্য বাঘা তেঁতুল উপায়। কী সেই উপায়? জেনে নিন।

মানুষটাকে চিনতে শিখুন:

সবার চরিত্রেরই নিজস্ব কিছু দিক আছে আর একজন মানুষের ব্যবহারের বিচার করার আগে তাঁর পরিস্থিতি এবং জীবনধারাকে ভালো করে চিনতে শেখাটা জরুরী। শাশুড়িমাকে চিনতে চেষ্টা করুন, প্রয়োজনে অন্যের সাহায্য নিন। আপনার স্বামীর সাহায্য নিতে পারেন, কোনও আত্মীয়র সাহায্যও নিতে পারেন; তবে সবচেয়ে ভালো হয় যদি আপনি খোদ সেই মানুষটির সঙ্গে কথা বলে তাঁকে বুঝতে চান। শাশুড়ির জীবনের বিশেষ ঘটনাগুলো, ওঠাপড়াগুলো চিনে নিন যতটা সম্ভব। জানুন তাঁর জীবনে সবচেয়ে বেশি প্রভাব কোন মানুষগুলোর বা কোন ঘটনাগুলোর।

যেমনঃ

–   তাঁর ছেলেমেয়েদের জন্ম কবে এবং কী ভাবে হয়েছে? তখন পরিস্থিতি কেমন ছিল? কখনও কি তাঁকে নিয়ে কোনও হাসি ঠাট্টা হয়েছে?

–   তিনি কি কখনও অভাবে দিন কাটিয়েছেন? সে সময় তিনি কেমন ছিলেন? ক্রমবর্ধমান দায়িত্বগুলোই বা তিনি কেমন করে সামলেছিলেন?

–   তাঁর জীবনের স্বপ্নগুলো আর চাওয়াপাওয়াগুলোকে চিনতে ও বুঝতে চেষ্টা করুন।

শাশুড়ির চরিত্রের এই দিকগুলো বুঝতে পারলেই আপনার অর্ধেক সমস্যা দূর হয়ে যাবে। তাঁকে ভালো করে চিনতে পারলে তাঁকে রাগতে না দেওয়ার চেষ্টাগুলো আরও সহজ হয়ে উঠবে।

আর এইখানে দেওয়া রইল একটা সহজ চেকলিস্ট। এ’টা দিয়েই হিসেব করে নিন আপনার শাশুড়িমা আপনাকে সত্যিই কতটা ভালোবাসেন:

১। উনি কি আপনার সঙ্গে সময় কাটাতে সচেষ্ট থাকেন সবসময়? আপনাকে বুঝতে উনি আগ্রহী?

উনি আপনাকে কখনও জিজ্ঞেস করেছেন যে আপনি কী খেতে ভালোবাসেন? বা আপনার শৈশব কেমন কেটেছে? আপনার চায়ে আপনার কতটা দুধ বা চিনি পছন্দ, সে’দিকে ওনার খেয়াল রয়েছে কি?

হ্যাঁ – তিনি আপনাকে ভালোবাসেন।

না – তিনি আপনাকে তেমন পছন্দ করেন না।

২। তিনি কি আপনাকে অন্য মেয়েদের বা অন্য পুত্রবধূদের সঙ্গে তুলনা করেন?

অন্যদের চরিত্র বা ব্যবহারের প্রশংসা করে কি তিনি আপনাকে আদর্শ পুত্রবধূ হয়ে ওঠার উপদেশ দেন?

না – তিনি আপনাকে ভালোবাসেন।

হ্যাঁ – তিনি আপনাকে তেমন পছন্দ করেন না।

৩। তিনি কি আপনার হয়ে কথা বলেন?

ঘরে বা বাইরে, আপনার শাশুড়ি কি আপনার রুচি এবং পছন্দের পক্ষে সওয়াল করেন? তিনি কি আপনার সিদ্ধান্তগুলো সম্মান করে আপনার হয়ে এগিয়ে আসেন?

হ্যাঁ – তিনি আপনাকে ভালোবাসেন।

না – তিনি আপনাকে তেমন পছন্দ করেন না।

৪। তিনি কি আপনার ছেলেমেয়ের প্রতি যথেষ্ট যত্নশীল?

আপনার শিশুকে কিছুক্ষণ দেখাশোনা করতে হলে কি আপনার শাশুড়িই আপনার সেরা ভরসা? ছেলেমেয়ে মানুষ করার ব্যাপারে আপনার ধ্যানধারণাগুলো কি উনি সম্মান করেন আর সেই মতই আপনার সন্তানদের সঙ্গে ব্যবহার করেন? উনি কি আপনার সন্তানদের আপনার বিরুদ্ধে কখনও কিছু বলেন না?

হ্যাঁ – তিনি আপনাকে ভালোবাসেন।

না – তিনি আপনাকে তেমন পছন্দ করেন না।

৫। উনি আপনার জীবনের বিশেষ দিনগুলো মনে রাখেন?

উৎসবের দিনগুলোয় যদি আপনারা এক সঙ্গে না থাকেন, তাহলে কি তিনি আপনাকে ফোন করে কখনও জানিয়েছেন যে আপনাকে ছাড়া তাঁর খারাপ লাগছে? সন্তানের জন্মের পর আপনার কাজে ফিরে যাওয়ার প্রথম দিনটা কি উনি সযত্নে মনে রেখেছেন? আপনার শরীর খারাপ থাকলে কি উনি আপনার নিয়মিত খোঁজখবর রাখেন?

হ্যাঁ – তিনি আপনাকে ভালোবাসেন।

না – তিনি আপনাকে তেমন পছন্দ করেন না।

Translated by Tanmay Mukherjee

loader