ওভারিয়ান ক্যান্সারের প্রাথমিক লক্ষণগুলো জানুন আর সচেতন হোন।

ওভারিয়ান ক্যান্সারের কথা আজকাল প্রায়ই শোনা যায়। অনেক মহিলা এই রোগের সঙ্গে লড়াই করে চলেছেন এবং প্রত্যেকের উচিৎ এই রোগের ব্যাপারে সচেতন হওয়া। ওভারিয়ান ক্যানসারে মহিলাদের ওভারির মধ্যে তৈরি হয় ছোট ছোট সিস্ট

আর এই সিস্ট গর্ভধারণের ক্ষেত্রেও সমস্যা তৈরি করতে পারে। তবে ওভারিয়ান ক্যানসারের প্রাথমিক লক্ষণগুলো সঠিক সময় চিহ্নিত করে চিকিৎসা শুরু করতে পারলে এই রোগের বিরুদ্ধে যুদ্ধজয় সম্ভব।

ওভারি থেকে এই ক্যান্সারের উৎপত্তি বলে সাধারণত এই রোগকে ওভারির ক্যান্সার বলা হয়। আর এই রোগের প্রভাবে প্রথমেই ক্ষতিগ্রস্ত হয় মহিলাদের প্রজনন ক্ষমতা।

ওভারিয়ান ক্যানসারের প্রাথমিক লক্ষণগুলো কী কী?

সাধারণত ওভারিয়ান ক্যান্সারের প্রাথমিক লক্ষণগুলো সহজে দৃষ্টিগোচর হয় না এবং এর ফলে ভবিষ্যতে মহিলাদের যথেষ্ট সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। নিচে দেওয়া রইল ওভারিয়ান ক্যান্সারের প্রাথমিক কিছু লক্ষণ যে’গুলো সম্বন্ধে আপনার সচেতন হওয়া উচিৎ আর সেগুলো নজরে পড়লেই যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া উচিৎ:

পেট ফুলে যাওয়া আর ব্যথা হওয়া।

খাওয়ার পরেই পেট ব্যথা হওয়া।

বার বার ইউরিন পাস হওয়া।

ইউরিন পাস করতে সমস্যা হওয়া।

সহজেই ক্লান্ত এবং পরিশ্রান্ত হয়ে ওঠা।

টক ঢেঁকুর ওঠা।

বুক জ্বালা ভাব।

কন্সটিপেশনের সমস্যায় ভোগা।

পিঠে ব্যথার সমস্যা।

যৌন মিলনের সময় ব্যথা অনুভূত হওয়া।

এই সবই হতে পারে ওভারিয়ান ক্যান্সারের লক্ষণ আর আপনার উচিৎ এগুলোর ব্যাপারে সতর্ক থাকা।

যদিও এ’টাও ঠিক যে উপরে যে উপসর্গগুলোর কথা বলা হয়েছে, সেগুলোর আদত কারণ ওভারিয়ান ক্যানসারই হতে হবে তার কোনও মানে নেই।  তবে এই লক্ষণগুলো নজরে পড়লেই আপনার কর্তব্য হচ্ছে ডাক্তারের কাছে গিয়ে সমস্যাগুলোর কথা খুলে বলা যা’তে ওভারিয়ান ক্যানসার হয়ে থাকলে সে’টা সময়মত চিহ্নিত করা যায়।

কোন মহিলাদের ওভারিয়ান ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা অন্যদের চেয়ে বেশি?

সে সব মহিলাদের পারিবারিক ইতিহাসে ওভারিয়ান ক্যানসারের রয়েছে, তাঁদের এই রোগের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। কোনও মহিলা যদি তিরিশ বছর বয়সের পর গর্ভধারণ করেন তাহলে সে ক্ষেত্রে তাঁর ওভারিয়ান ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা দ্বিগুণ হয়ে যায়। তাছাড়া যে’সব মহিলারা ব্রেস্ট ক্যান্সারে ভুগছেন তাঁদের ওভারিয়ান ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনাও বেশি থাকে। এ বাদে এমন বেশ কিছু রোগ আছে যেগুলো ভবিষ্যতে ওভারিয়ান ক্যান্সারের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে; যেমন ডায়াবেটিস, হাই ব্লাড প্রেশার, বাড়তি মেদ, অত্যধিক মানসিক চাপ, মেনোপজ বা অ্যানিমিয়া।

এই রোগ এড়িয়ে চলতে হলে কী কী করতে হবে?

সবসময় সতর্ক থাকা এবং কোনও সমস্যা হলেই পরীক্ষা করানো।

বিশেষত যে’সব মহিলাদের পারিবারিক ইতিহাসে ওভারিয়ান ক্যান্সার আছে, তাঁদের বাড়তি সাবধানতা অবলম্বন করা উচিৎ।

নিজের ওজনের ব্যাপারে সতর্ক থাকুন।

আপনার ওজন যদি আচমকা অনেকটা বড়ে যায় তবে সে’টাকে কিছুতেই স্বাস্থ্যকর নয়। আপনার বয়স আর উচ্চতা অনুযায়ী আপনার সঠিক ওজন কী হওয়া উচিৎ সে’টা জেনে রাখুন যা’তে বাড়তি ওজন সম্বন্ধে সচেতন থাকতে পারেন। আর বাড়তি মেদ জমলে তা ঝরিয়ে ফেলার সব চেয়ে ভালো উপায় হচ্ছে নিয়মিত এক্সারসাইজ করা।

নিজের খাওয়াদাওয়ার ব্যাপারে সাবধান থাকুন।

কোন মহিলার মধ্যে যদি ওভারিয়ান ক্যান্সারের প্রাথমিক লক্ষণগুলো দেখা দেয় তাহলে প্রথমেই থাকে নিজের খাবার ব্যাপারে সতর্ক হওয়া দরকার। স্বাস্থ্যকর খাবার পরিমিত পরিমাণে খাওয়াটাই হচ্ছে আদর্শ ডায়েট। মহিলাদের উচিৎ যথেষ্ট পরিমাণে শাকসবজি খাওয়া। ব্রকোলি, পালং শাক, বাঁধাকপি, ফুলকপি, টমেটো বা  গাজরের মত সবজি অত্যন্ত স্বাস্থ্যকর এবং উপকারী।

ওভারিয়ান ক্যান্সার ধরা পড়লে কী ভাবে চিকিৎসা করা সম্ভব?

সার্জারি।

ওভারিয়ান ক্যান্সারে ভোগা মহিলাদের চিকিৎসার জন্য সার্জারিই সবচেয়ে কার্যকরী উপায়।

কেমোথেরাপি।

এই পদ্ধতিতে ওষুধ ব্যবহার করে দেহের মধ্যের ক্যান্সারের সেলগুলোকে নষ্ট করে দেওয়া হয়।

হরমোন থেরাপি।

হরমোন থেরাপি ব্যবহার করে এস্ট্রোজেনকে ক্যান্সারের সেলগুলো পর্যন্ত পৌঁছতে দেওয়া হয় না। আর এস্ট্রোজেন কমিয়ে আনতে পারলে ক্যান্সারের সেলগুলোর বৃদ্ধি আটকে দেওয়া সম্ভব।

 

Translated by Tanmay Mukerjee

loader