আপনার গর্ভে বেড়ে ওঠা সন্তান ছেলে না মেয়ে? জানতে উৎসুক হলে এই পদ্ধতিগুলো ব্যবহার করতে পারেন।

সবার আগে একটা কথা স্পষ্ট ভাবে বলে নেওয়া দরকার। এই প্রবন্ধে কিন্তু ছেলে বা মেয়ের মধ্যে তফাৎ খোঁজার কোনও চেষ্টা হচ্ছে না। এ’খানে স্রেফ এমন কিছু পদ্ধতির কথা বলা হচ্ছে যে’গুলোর মাধ্যমে আপনি আন্দাজ করতে পারবেন যে আপনার গর্ভের সন্তানটি ছেলে না মেয়ে। বিশেষত যেই সব মহিলারা যারা প্রথম বারের জন্য মা হতে চলেছেন তাঁদের এই বিষয়ে অপরিসীম আগ্রহে থাকে। সেই আগ্রহের কথা ভেবেই এই প্রবন্ধে আমরা এমন কিছু পদ্ধতির কথা বলব যে’গুলোর মাধ্যমে আপনারা আন্দাজ করতে পারবেন গর্ভের শিশুটি ছেলে না মেয়ে।

স্কালের আকৃতির মাধ্যমে চিনতে পারা।

এই পদ্ধতিতে আপনি গর্ভের শিশুর খুলির আকার এবং আকৃতি দেখে বুঝে নিতে পারবেন গর্ভের শিশুটি ছেলে না মেয়ে। ফরেনসিক অ্যানথ্রপলজি অনুযায়ী লিঙ্গ নির্ধারণের জন্য গর্ভের শিশুর মাথার খুলির আকৃতি বিচারই হল শ্রেষ্ঠ পদ্ধতি। কারণ পুরুষের খুলি সাধারণত আকারে বড় হয় আর তার থুতনি কিছুটা চৌকা মত হয়। অন্যদিকে মহিলাদের খুলি কিছুটা গোলগাল হয় আর মাথার ওপরের দিকটা সরু হয়।

বেকিং সোডা টেস্ট।

বেকিং সোডা ব্যবহার করেও আপনি জানতে পারবেন আপনার গর্ভের শিশুটি ছেলে না মেয়ে।  এর জন্য আপনাকে সহজ একটা কাজ করতে হবে; দুই চামচ বেকিং সোডা নিয়ে আপনার সকালের ইউরিনে ভালো করে মিশিয়ে দিন। মেশানোর পরে যদি সেই মিশ্রণে বুদ্বুদ তৈরি হয় তাহলে জানবেন যে আপনার গর্ভের সন্তানটি ছেলে। অন্যদিকে যদি দেখেন যে মেশানোর পরেও ইউরিনে কোনও পরিবর্তন ঘটছে না, তা’হলে জানবেন আপনার গর্ভে রয়েছে কন্যা সন্তান।

মর্নিং সিকনেস।

মর্নিং সিকনেসে আপনাকে কতটা ভুগতে হচ্ছে; সে’টা বিচার করেও বলে দেওয়া যায় আপনার গর্ভের সন্তানটি ছেলে না মেয়ে। অনেকে বিশ্বাস করেন যে সকালের দিকে নিয়মিত খুব বমি পেলে বা গা গুলিয়ে উঠলে বুঝতে হবে আপনার গর্ভে রয়েছে কন্যাসন্তান। অপরদিকে যদি দেখেন যে আপনার মর্নিং সিকনেসের সমস্যা তেমন গুরুতর নয়, তা’হলে বুঝতে হবে আপনি একটি ছেলের জন্ম দিতে চলেছেন।

মুড এবং মনমেজাজে পরিবর্তন।

যদি প্রেগনেন্সির সময় আপনার মুডে ক্রমাগত পরিবর্তন হতে থাকে তা’হলে আপনার গর্ভে কন্যা সন্তান থাকার সম্ভাবনা বেশি। কারণ গর্ভে কন্যা সন্তান থাকা মানেই আপনার দেহে গার্ল হরমোনগুলো বেশি পরিমাণে তৈরি হচ্ছে এবং তার ফলে আপনার মুড স্যুইংও বেশি হচ্ছে। অন্যদিকে এই সময় যদি আপনার মন মেজাজ একটানা ভালো থাকে আর আপনি হাসিখুশি থাকেন, তাহলে সম্ভবত আপনার গর্ভে রয়েছে পুত্র সন্তান।   

মায়ের আরও সুন্দর হয়ে ওঠা।

আমাদের দিদিমা ঠাকুমাদের মতে গর্ভবতী মহিলারদের রূপ আর সৌন্দর্য বৃদ্ধি পাওয়া মানে তাঁদের মেয়ে হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। আবার অন্যদিকে যদি আপনার চেহারা ফ্যাকাসে হয়ে ওঠে এবং আপনার রূপ আর জেল্লা কমে আসে; তা’হলে বুঝতে হবে আপনার পুত্র সন্তান লাভের সম্ভাবনা অনেক বেশি।

বেশি বা কম খিদে পাওয়া।

প্রেগনেন্সির সময় কি আপনার খিদে বেশি করে পাচ্ছে? সে ক্ষেত্রে আপনার গর্ভের সন্তানটির ছেলে হওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই বেড়ে যায়।  আবার অন্যদিকে যদি আপনার খিদে কমে আসে আর যদি ক্রমাগত ক্লান্ত বোধ করতে থাকেন, তাহলে সম্ভবত আপনি কন্যা সন্তানের জন্ম দিতে চলেছেন।

শোওয়ার ধরণ।

প্রেগন্যান্ট মহিলাদের ঘুমোনোর সময় শোওয়ার পজিশন দেখেও অনেক সময় গর্ভের শিশুর লিঙ্গ নির্ধারণ সম্ভব। গর্ভবতী মহিলারা যদি বেশির ভাগ সময় বাঁ দিকে পাশ ফিরে শুয়ে থাকেন তাহলে তাঁদের ছেলে হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। কিন্তু যদি গর্ভবতী মহিলারা বেশির ভাগ সময় ডান পাশ ফিরে শুয়ে থাকেন তা’হলে তাঁর গর্ভের সন্তানটি সম্ভবত মেয়ে।

তবে হ্যাঁ, এই পদ্ধতিগুলোর পক্ষে তেমন কোন দৃঢ় প্রমাণ নেই। আর আমাদের সকলের মনে রাখা উচিৎ যে বৈষম্যমূলক কারণে ভ্রূণের লিঙ্গ নির্ধারণ করা আইনত অপরাধ।

 

Translated by Tanmay Mukherjee

loader