গর্ভের শিশুদের এই পাঁচটা ব্যাপার রীতিমত অপছন্দ, বিশ্বাস না হলে নিজে পরখ করে দেখুন।

নিজের প্রেগনেন্সির খবর পাওয়া মাত্রই আপনার মনে জুড়ে শুধু নিজের গর্ভের সন্তানের চিন্তা থাকবে, সে’টাই স্বাভাবিক। আর সে’টাই হওয়া উচিৎ কারণ গর্ভের শিশুর সুস্থ ভাবে বেড়ে ওঠার জন্য মায়ের সচেতনতা অত্যন্ত দরকারী। আর সে জন্যেই আপনার জেনে রাখা উচিৎ যে আপনার কিছু অভ্যাস আপনার গর্ভের শিশুর জন্য সবিশেষ অসুবিধের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। আজ্ঞে হ্যাঁ, মায়েদের বেশ কিছু অভ্যাস গর্ভের শিশুর জন্য চরম বিরক্তিকর হয়ে ওঠে।

এ’টা প্রমাণিত সত্য যে ভূমিষ্ঠ হওয়ার  আগেই শিশুদের মনের ভাবনা আর ইন্দ্রিয়ের বিকাশ ঘটতে শুরু করে। শুধু তাই নয়, গর্ভের শিশু খুশি, নির্লিপ্তি, রাগ এমন কী দুঃখও অনুভব করতে পারে। তাছাড়া  এই সময়ে শিশুদের মন অত্যন্ত সংবেদনশীল হয়, এমনকি বিভিন্ন চিন্তায় তাঁদের মানসিক চাপগ্রস্ত হয়ে পড়াটাও আশ্চর্যের কিছু নয়।

গর্ভের শিশু নিজের মায়ের মনের ভাবনা চিন্তা বা আনন্দ দুঃখের তরঙ্গ দিব্যি বুঝতে পারে। কেন এমনটা হয়? কারণ এই সময় বিভিন্ন হরোমন মায়ের শরীর থেকে প্ল্যাসেন্টার মাধ্যমে শিশুর শরীরে পৌঁছয়।

নিচে এমন কিছু বিষয়ে বলা রইল যেগুলো শিশুরা একদমই পছন্দ করে না এবং সে’গুলোর জন্য তারা রীতিমত অস্বস্তি বোধ করতে পারেঃ

পা ছোঁড়া।

গর্ভের মধ্যে শিশুরা পা ছুঁড়ে আপনার অন্তরে তার নিজের উপস্থিতির স্পষ্ট ভাবে জানান দিতে চায়।  আর এ’টা আপনি স্পষ্ট ভাবে টেরও পাবেন। গর্ভের শিশুর পা ছোঁড়া তার মায়ের সঙ্গে তার সম্পর্ক দৃঢ় হওয়ার পথে প্রথম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। অনেক সময় গর্ভের শিশুর এই পা ছোঁড়া অনুভব করতে চেয়ে আপনি অনেক রকম ভাবে চেষ্টা করবেন, কিন্তু তা’তে যদি শিশুর তরফ থেকে কোনও প্রতিক্রিয়া না পাওয়া যায়, তাহলে চেষ্টা বেশিক্ষণ না করাই ভালো।  

উজ্জ্বল আলো।

গর্ভের শিশুর সঙ্গে যোগযোগ করার জন্য এ’টা হল এক আজব এবং কষ্টকর পদ্ধতি। আপনি হয়ত জানেন যে গর্ভে শিশুর চোখ বোজা থাকলেও, আপনি যদি  নিজের পেটের ওপর ফ্ল্যাশ লাইট নিক্ষেপ করেন তাহলে সে রশ্মির তেজ আপনার গর্ভের শিশু অনুভব করতে পারে। আপনি যেমন চোখ বন্ধ করেও সূর্যের রশ্মি অনুভব করতে পারেন, আপনার গর্ভের শিশুর ক্ষেত্রেও ব্যাপারটা ঠিক তেমনই। শিশু জেগে থাকলে এই আলোর প্রত্যুত্তরে নড়াচড়া করে নিজের উপস্থিতি জানান দেবে ঠিকই, কিন্তু সে ঘুমিয়ে থাকলে এই আলো তার কাছে অস্বস্তিকর ঠেকবে।

আপনার কণ্ঠস্বর শুনতে পাওয়া।

দ্বিতীয় ট্রাইমেস্টার থেকে গর্ভের শিশু শব্দ চিনতে শেখে; যেমন সুর, চিৎকার ইত্যাদি। আর তারা এই শব্দগুলো চিনতে পারে বলেই জন্মের পর গর্ভের বাইরে এসে সে বাইরের জগতের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারে। সাধারণত দেখা যায় যে যত জোরে শব্দ হবে, গর্ভের শিশুর প্রতিক্রিয়াও ততটাই স্পষ্ট হবে। আশেপাশে গান বাজলে অনেক সময় প্রেগনেন্ট মহিলারা বুঝতে পারেন যে তাঁদের পেটের মধ্যে সন্তানের নড়াচড়া শুরু হয়ে গেছে। ঠিক তেমনই আপনি যখন কথা বলেন, তখন সে শব্দের তরঙ্গ আপনার গর্ভের শিশু অনুভব করতে পারে। অনেক গবেষণায় দেখা গেছে যে মায়ের কণ্ঠস্বর শুনলে গর্ভজাত শিশুর হার্টবিট বেড়ে যায়। অর্থাৎ আপনি কথা বললেই আপনার গর্ভের সন্তানের সচেতন হয়ে ওঠে।

আপনার দুঃখে আপনার শিশুও বিমর্ষ হয়ে পড়ে।

আপনার কোনও কারণে মন খারাপ হলে বা আপনি মানসিক চাপ অনুভব করলে সেই দুঃখ বা চাপ আপনার শিশুও অনুভব করে। এবং আপনি যদি একটানা বিভিন্ন কারণে মানসিক চাপে থাকেন বা বিমর্ষ হয়ে পড়েন, তাহলে তার কুপ্রভাব আপনার গর্ভের শিশুর ওপরও পড়বে। আপনি বিষাদে থাকলে বিষাদজনিত যাবতীয় হরোমোন আপনার দেহ থেকে তরল পদার্থের মাধ্যমে আপনার শিশুর দেহে প্রবেশ করে যাতে সে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

ঝাল খাওয়া।

আপনি যে খাবারই খান, তার স্বাদ আপনার গর্ভের শিশুও পায় কারণ গর্ভাবস্থায় কিছুদিনের মধ্যেই শিশুরা স্বাদ চিনতে করতে শিখে যায়। আপনি যাই খান তার স্বাদ আর পুষ্টিগুণ অ্যামনিওটিক ফ্লুয়িডের মাধ্যমে আপনার শিশুর শরীরে পৌঁছে যায়। কাজেই প্রেগনেন্সির দিনগুলোতে বেশি তেল মশলা বা ঝাল দেওয়া খাবার না খাওয়াই ভালো।

 

Translated by Tanmay Mukherjee

loader