শাশুড়িমায়েরা জানেন কি আপনার বৌমা প্রেগনেন্সির সময় আপনার থেকে কী ধরণের কথাবার্তা প্রত্যাশা করে?

প্রত্যেক মহিলার জীবনে প্রেগনেন্সি খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা অধ্যায়, সে’টা প্রথম বারে জন্যই হোক বা দ্বিতীয় বারের জন্য। আর যে মহিলারা নিজের শ্বশুর শাশুড়ির সঙ্গে থাকেন তাঁদের জিজ্ঞেস করলেই জানতে পারবেন যে  নিজের শ্বশুর বা শাশুড়ির থেকে তাঁদের কিছু বিশেষ প্রত্যাশা থাকেই। আর মহিলাদের এই প্রত্যাশা অনেকটাই বেড়ে যায় প্রেগনেন্সির দিনগুলোতে। এমনিতেই শাশুড়ি আর বৌয়ের সম্পর্কে বিভিন্ন রকমের টানাপোড়েন থাকাটা আশ্চর্যজনক নয় আর বৌমার গর্ভাবস্থায় ব্যাপারটা আরও জটিল হয়ে উঠতেই পারে যদি শাশুড়িমা নিজের বৌয়ের প্রত্যাশাগুলো সঠিক ভাবে বুঝতে না পারেন।

প্রেগনেন্সির সুসংবাদ পাওয়া মাত্রই ঘরের বৌয়েরা আশা  করেন যে তাঁদের শাশুড়িও এই খবর পেয়ে উচ্ছ্বসিত হয়ে উঠবেন। সুসংবাদটা জানিয়ে শাশুড়ির কাছ থেকে কেমন ধরণের কথা শুনতে চান তাঁদের বৌমারা? জেনে নিন।

১। “আমি ভীষণ খুশি হয়েছি, তোমার জন্য রইল অজস্র শুভেচ্ছা”।

বৌমার প্রেগনেন্সির খবর পেয়ে শাশুড়ি বৌমাকে শুভেচ্ছা ও আশীর্বাদ জানাবেন সে’টা স্বাভাবিক। কিন্তু এই বিশেষ সময়ে মহিলারা নিজের শাশুড়ির কাছ থেকে শুকনো শুভেচ্ছার বাইরে গিয়ে আরও আন্তরিক কিছু আশা করেন যেমন “এই সুখবরে পেয়ে আমার যে কী প্রচণ্ড আনন্দ হচ্ছে’ বা ‘আমার আর তর সইছে না, কবে যে আমি তোমার ছোট্ট সোনামণিকে দেখতে পাবো!’। এই ধরণের কথা শুনতে যে কোনও গর্ভবতী মহিলারাই ভালো লাগবে। আসলে কোনও মহিলা যদি জানতে পারেন যে তাঁর প্রেগনেন্সির খবর পেয়ে কেউ তাঁর মতই খুশি হয়েছে ,তাহলে তাঁর ভালো লাগবেই। সে’টাই স্বাভাবিক আর শাশুড়ি আর বৌমা যদি নিজেদের আনন্দ ভাগ করে নিতে পারেন; তাহলে তার চেয়ে সুন্দর আর কীই বা হতে পারে।

২। “তুমি খুব ভালো মা হবে”।

প্রায়ই আমরা শুনতে পারি মায়েরা দুঃখ করে বলছেন যে তাঁর শিশুর জন্মের সময় তাঁকে শাশুড়ি মায়ের থেকে বিস্তর জ্ঞান শুনতে হয়েছে একজন আদর্শ মায়ের কর্তব্যের ব্যাপারে। তাঁদের অনুযোগ শাশুড়িরা নিজের মত করে সন্তান প্রতিপালনের জ্ঞান তাঁদের কাঁধে চাপিয়ে দিতে চেয়েছেন । কিন্তু ভেবে দেখুন, ঠিক এর উলটোটা হলে কত ভালো হত। শাশুড়িমায়েরা যদি বৌমাকে ব্যতিব্যস্ত করে না করে শুধু বলতেন যে “তুমি খুব ভালো মা হবে” তাহলে নতুন মা হিসেবে তাঁদের বৌমারা কী ভীষণ খুশি হতেন। আর প্রেগনেন্সির মত গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এ’টুকু মহিলারা আশা করতেই পারেন।

৩। “আমি তোমায় কী ভাবে সাহায্য করতে পারি”?

শুধু শারীরিক অসুবিধেই নয়, প্রেগনেন্সির সময় মায়েরা মানসিক ভাবেও নানা রকম উথালপাথাল অবস্থার মধ্যে দিয়ে যান। কখনও কখনও যোগ হয় মানসিক অবসাদও। প্রেগনেন্সি অনেক মহিলার ক্ষেত্রেই বেশ ভোগান্তির অভিজ্ঞতা হতে পারে। আর সেই সময় যদি শাশুড়ি মায়ের খিটখিটে মেজাজ বা নাক উঁচু স্বভাব বরদাস্ত করতে হয়, তাহলে ব্যাপারটা আরও জটিল হয়ে উঠবে। এই সময় মহিলারা শুধু শুনতে চান একটা সহজ স্নেহ-মাখানো কথা ; “আমি কি কোনও ভাবে তোমায় সাহায্য করতে পারি”? এ’টুকু শুনলেই প্রেগন্যান্ট মহিলারা খুশি হবেন। আর এই কথা যদি তিনি তাঁর শাশুড়িমায়ের থেকে শুনতে পান তাহলে তিনি নিশ্চিত ভাবেই আনন্দে রীতিমত আত্মহারা হয়ে উঠবেন।

৪। “তোমার যখনই দরকার পড়বে আমায় ডেকো” ।

প্রেগনেন্সির খবর পাওয়ার সময় অনেকেই অনেক কিছু করার প্রতিশ্রুতি দেয় কিন্তু কাজের বেলায় খুব কম লোককেই পাশে পাওয়া যায়। আর এই সময় পাশে কাউকে পেলে যে কোনও মহিলাই নিশ্চিন্ত বোধ করবেন। কত রকমের ইচ্ছে এই সময় মনে দেখা দিতে পারে; রাত্রে হঠাৎ কিছু খাওয়ার ইচ্ছে বা শিশুর জন্য কিছু কেনাকাটি করার ইচ্ছে বা কারুর কাঁধে মাথা রেখে সামান্য জিরিয়ে নেওয়ার ইচ্ছেটুকু। শাশুড়ি মায়েরা এই ইচ্ছাপূরণের সময় পাশে থাকলে বৌমারা আহ্লাদিত হবেন সে’টা বলাই বাহুল্য।

৫। “তোমার মাকে তোমার কাছে ডেকে নাও”।

এ’টা বলতে পারলে তো সোনায় সোহাগা। যে কোনও মহিলাই প্রেগনেন্সির দিনগুলোয় নিজের মায়ের সান্নিধ্য পেতে চাইবেন। আর শাশুড়িমায়ের থেকেই এই প্রস্তাব শুনতে পেলে যে কোনও বৌমাই ভীষণ খুশি হবেন কারণ এ’তে তাঁর প্রেগনেন্সির দিনগুলো অনেক সহজ হয়ে উঠবে। এই সময় সব মহিলাই একটু বাড়তি স্নেহ আর যত্নের আশা করেন আর দুই মাকে পাশে পাওয়ার চেয়ে স্বস্তির আর কিছুই হতে পারে না।

ফিচার ছবির সূত্র: Bollywoodshaadis.com

 

Translated by Tanmay Mukherjee

loader