সি-সেকশন আপনার এবং আপনার সন্তানের জন্য ক্ষতিকারক হতে পারে! কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে পড়ে দেখুন।

Baby through C-section

অনেক সময় প্রেগন্যান্ট মহিলারা বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার জন্য বাধ্য হন প্রসবের জন্য অপারেশন থিয়েটারে যেতে। কিন্তু অনেকেই স্বেচ্ছায় সি-সেকশনের পথ বেছে নেন। আর সত্যি কথা বলতে কি আপনি যদি ভেবে থাকেন যে সি-সেকশন হচ্ছে সহজ এবং কষ্টহীন পথ, তাহলে নিশ্চিত ভাবেই বলা যায় যে আপনি ভুল ভাবছেন। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই  স্বেচ্ছায় সি-সেকশন বেছে নেওয়ার মূল কারণ হল সচেতনতার অভাব।  

অতএব চটপট  সি-সেকশনের দিকে ঝুঁকে পড়ার আগে, এই বিষয়ে সঠিক ভাবে জেনে নেওয়াটা অত্যন্ত জরুরী। সি-সেকশনের বিষয়ে তেমনই কিছু জরুরী তথ্য দেওয়া রইল নিচে:

১। সি-সেকশন একটা খুব বড় অপারেশন।

সি-সেকশন হওয়া মানে আপনাকে জেনারেল বা লোকাল অ্যানেস্থেসিয়া দেওয়া হবে দেহ অবশ করতে। এরপর আপনার কোমরের নিচে ১০ থেকে ২০ সেন্টিমিটার লম্বা অংশ জুড়ে কাটা হবে ডেলিভারির জন্য। সি-সেকশনের পর আপনাকে কিছুটা সময় ক্যাথেটার ব্যবহার করতে হতে পারে ইউরিন পাস করানোর জন্য। আর সবচেয়ে বড় কথা; অপারেশনের পর থাকবে অসহ্য যন্ত্রণা।

২। মায়েদের প্রাণহানির আশঙ্কা প্রায় পাঁচগুণ বেড়ে যাওয়া।

টাইম ম্যাগাজিনের প্রকাশিত একটা লেখা অনুযায়ী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ইদানীং কালে সি-সেকশনের সংখ্যা অদ্ভুত ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। আর এর ফলে বেড়েছে জন্ম দেওয়ার সময় মায়েদের মৃত্যু। ২০০০ সালে যে’খানে ১,০০,০০০ শিশুর জন্ম প্রতি ১৮.৮ জন মায়ের মৃত্যু হত, সে’খানে ২০১৪ সালে দেখা গেছে ১,০০,০০০ শিশুর জন্ম প্রতি ২৩.৮ জন মায়ের মৃত্যু হয়েছে। অবশ্য এর পিছনে সেপসিস বা অতিরিক্ত রক্তপাতের মত কারণও রয়েছে।

৩। ভবিষ্যতে আবার প্রেগন্যান্ট হলে হতে পারে সমস্যা।  

একবার সি-সেকশন হলে ভবিষ্যতে আবার প্রেগন্যান্ট হলে দেখা দিতে পারে বিভিন্ন জটিলতা। সে ক্ষেত্রে ইউটেরাইন রাপচার, প্ল্যাসেন্টা পার্ভিয়া (যে’খানে প্ল্যাসেন্টা সার্ভিক্সকে ঢেকে দেয়) বা প্ল্যাসেন্টা অ্যাক্রেটা’র (প্ল্যাসেন্টার বিকৃত অবস্থান) মত গুরুতর  সমস্যা দেখা দিতে পারে।

৪। সুস্থ হতে বেশি সময় লাগে।

সি-সেকশনের ক্ষেত্রে অপারেশনের ধাক্কা সামলানো যেমন কঠিন, তার চেয়েও কঠিন হচ্ছে অপারেশনের পর সুস্থ হয়ে ওঠার দিনগুলো। সি-সেকশনের পরেই কিছুদিন বেশ যন্ত্রণায় কাটাতে হয় মায়েদের। সি-সেকশনের মধ্যে দিয়ে যাওয়া যে কোনও মায়ের কাছে জিজ্ঞেস করলেই জানতে পারবেন সি-সেকশনের পরে ঠিক কতটা দুঃসহ যন্ত্রণা ভোগ করতে হয়। অপারেশনের ক্ষত সহজে সারতে চায় না আর তার ওপর যোগ হয় মলত্যাগ বা মূত্রত্যাগের সময় অসহ্য যন্ত্রণা, সংক্রমণের ভয়, পুঁজ জমা বা ক্রমাগত রক্তক্ষরণ। সি-সেকশন অপারেশনের পর শারীরিক ভাবে সুস্থ হয়ে উঠতে মায়েদের অনেকটা সময় লাগে।

৫। গর্ভে যমজ শিশু থাকলে অনেক সময় সি-সেকশনের প্রয়োজন হতে পারে।

যে’সব মায়েদের গর্ভে একের বেশি শিশু রয়েছে তাঁদের অনেক ক্ষেত্রে সি-সেকশনের সম্মুখীন হতে হয়।   এর মূল কারণ; এ ক্ষেত্রে গর্ভের শিশুরা অনেক সময় নর্মাল ডেলিভারির ধকল নিতে পারে না। থাকতে পারে অন্যান্য কোনও সমস্যা যার জন্য শিশুদের দ্রুত ডেলিভার করা জরুরী হয়ে উঠতে পারে। তাছাড়া গর্ভে শিশুদের অবস্থান কেমন, শিশুদের হার্টরেট অস্বাভাবিক কিনা, অ্যামনিওটিক ফ্লুয়িড যথেষ্ট রয়েছে কিনা, প্রসব সঠিক ভাবে এগোচ্ছে কিনা; এই সমস্ত বিষয়ের ওপরও নির্ভর করে মায়েদের সি-সেকশন করানোর প্রয়োজন কতটা।

৬। একবার সি-সেকশন হওয়া মানেই যে পরের বারও সি-সেকশনই হবে তার কোনও মানে নেই।

অনেক মহিলাদের ধারণা যে প্রথম বার শিশুর জন্মের সময় সি-সেকশন হওয়া মানে তাঁদের পরের ডেলিভারিগুলোও সি-সেকশনই হবে। তবে এই ধারণা আদৌ নির্ভুল নয়। সাধারণত দেখা যায় যে যদি শারীরিক অসুবিধার কারণে কারুর সি-সেকশন হয়ে থাকে, তাহলে তাঁর পরের ডেলিভারিও সি-সেকশনে হতে পারে। কিন্তু এমন অনেক মহিলা আছেন যারা প্রথম শিশুকে সি-সেকশনের মাধ্যমে জন্ম দিলেও, পরের শিশুর জন্মের ক্ষেত্রে তাঁদের নর্মাল ডেলিভারি হয়েছে। VBACর কথা শুনেছেন কি?

৭। সি-সেকশনের মাধ্যমে জন্ম হওয়া শিশুরা শ্বাসকষ্টে ভুগতে পারে।

সি-সেকশনে জন্মানো বেশির ভাগ শিশুরই জন্মের পর শ্বাসকষ্ট হতে  পারে। কারণ নর্মাল ডেলিভারির তুলনায় তাঁদের জন্ম ঘটে অত্যন্ত দ্রুত। সি-সেকশনের মাধ্যমে জন্মানো শিশুদের ভ্যাজিনাল ক্যানাল দিয়ে বেরিয়ে আসতে হয় না, জন্মের পর তাদের শ্বাসকষ্ট হওয়ার এ’টাই মূল কারণ।  

 

ফিচার ছবির সূত্র ঃ  reporterntv.ro

 

Transated by Tanmay Mukherjee

loader