ব্রেস্টফীড করানো মায়েরা নিজেদের ছোটখাটো কিছু ভুলের ফলে সম্মুখীন হতে পারেন বড়সড় ভোগান্তির!

১। ল্যাচিং (Latching) বা স্তনবৃন্ত শিশুর মুখে সঠিক ভাবে দিতে না পারা।

ব্রেস্ট ফীডিংয়ে এ’টা একটা গুরুতর সমস্যা, বিশেষত নতুন মায়েদের ক্ষেত্রে। ল্যাচিং সঠিক ভাবে না করতে পারলে স্তন্যপান করানোর অভিজ্ঞতা বেশ তিক্ত হতে পারে এবং বুকের দুধও কমে আসতে পারে। নিখুঁত ল্যাচিং না হলেই ব্রেস্টফীডিংয়ের সময় যন্ত্রণা অনুভূত হতে পারে, সঙ্গে কমে যেতে পারে দুধের পরিমাণ।

২। শিশুকে যথেষ্ট স্তন্যপান না করানো বা সময় মত ব্রেস্টমিল্ক পাম্প না করা।

শিশুকে যথেষ্ট স্তন্যপান না করালে বা সেই ব্রেস্টমিল্ক পাম্প করে বের না করলে, স্তন ভারী হয়ে আসে যার মূলে এক ধরণের প্রোটিনের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি যাকে বলে “ফীডব্যাক ইনহিবিটর অফ ল্যাকটেশন (Feedback Inhibitor of Lactation) বা FIL।  নিয়মিত স্তন্যপান বা পাম্প না করতে পারলে ব্রেস্টমিল্কের উৎপাদন ক্রমশ কমে আসে এবং বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এ’টা ঘটে মায়েরা টের পাওয়ার আগেই। কাজেই স্তন ভার হয়ে আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন না শিশুর ব্রেস্টফীডিং শুরু করতে। অনেকের ক্ষেত্রে স্তন ভার হয়ে আসার অনুভূতিটা খানিকক্ষণ পরেই স্তিমিত হয়ে আসে। কাজেই স্তনে অস্বস্তি অনুভব করার আগেই ব্রেস্টফীড করান বা ব্রেস্টমিল্ক পাম্প করে বের করে নিন।

৩। সদ্যজাত শিশুকে একটানা অনেকক্ষণ ঘুমোতে দেওয়া।

সদ্যজাত শিশুরা স্বভাবতই প্রায় গোটাদিন ঘুমিয়ে কাটায়। মায়েরাও সেই ঘুমন্ত শিশুর সারল্যে অভিভূত হয়ে পড়েন; তাঁদের মনে হয় তাঁদের আদুরে খোকা ও খুকু যতক্ষণ চায় ঘুমোক। কিন্তু অসুবিধে হচ্ছে, সদ্যজাত শিশুদের একটানা অনেকক্ষণ ঘুমোতে দেওয়া মানে আপনার ব্রেস্টমিল্কের পরিমাণ কমে আসা। কাজেই মায়েদের উচিৎ শিশুকে প্রত্যেক ঘণ্টা তিনেক অন্তর ঘুম থেকে তুলে বুকের দুধ দেওয়া, এ’তে ব্রেস্টমিল্ক কমে যাবে না এবং শিশুর স্বাস্থ্যও ভালো থাকবে। তবে ঘুমন্ত শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানো সহজ নয়, কারণ সে ক্ষেত্রে ল্যাচিং ঠিকঠাক নাও হতে পারে। অতএব শিশুকে জাগাতে ওকে কোলে নিয়ে কিছুক্ষণ ঘোরাঘুরি করতে পারেন বা ডাইপার চেঞ্জ করতে পারেন বা ওর সঙ্গে খেলাও করতে পারেন। প্রয়োজনে প্রতি ঘণ্টা তিনেক অন্তর পুরো ব্রেস্টমিল্ক একবারে না খাইয়ে দু’বারেও খাওয়ানো যেতে পারে।

৪। রাতের বেলা ব্রেস্টফীড না করানো।  

গোটাদিন শিশুকে সামাল দিয়ে বেশির ভাগ মায়েরাই রাতের দিকে অত্যন্ত ক্লান্ত বোধ করেন এবং অনেক ক্ষেত্রে বাবারা রাতে শিশুর দায়িত্ব নিজের কাঁধে নিয়ে থাকেন। কিন্তু রাতের বেলা শিশুকে একটানা ব্রেস্ট ফীড না করালে ব্রেস্টমিল্কের সরবরাহ কমে আসতেই পারে। এই পরিস্থিতিতে সব চেয়ে সহজ উপায় হচ্ছে শিশুর জন্য যতটা দরকার ততটুকু ব্রেস্টমিল্ক পাম্প করে একটা ফীডিং বোতলে রেখে দেওয়া। এ’তে আপনার বিশ্রামে বিঘ্ন ঘটবে না আবার শিশুর ব্রেস্টফীডিংয়েও ফাঁকি পড়বে না। রাতে তাড়াতাড়ি শুয়ে পড়লেও এ সমস্যার সুরাহা হতে পারে।

৫। সঠিক খাবারদাবার না খাওয়া ।

স্তন্যপান করানো মায়েদের জন্য সঠিক খাওয়াদাওয়ার গুরুত্ব অসীম, বিশেষত ব্রেস্টমিল্কের পরিমাণ ও সরবরাহ সঠিক রাখার জন্য। সদ্যজাত শিশুকে সামাল দিতে গিয়ে অনেক সময় মায়েরা নিজের ঘুম খাওয়ার প্রতি অবহেলা করে ফেলেন। কিন্তু এ’টা ভুললে কিছুতেই চলবে না যে মায়ের স্বাস্থ্যের সঙ্গে শিশুর স্বাস্থ্যের খুব নিবিড় যোগাযোগ আর সে কারণেই মায়ের খাদ্যাভ্যাস অত্যন্ত জরুরী একটা বিষয়।

ছবির সূত্র: enabledkids.ca

Translated by Tanmay Mukherjee

loader