পুরুষদের চোখে ব্রেস্ট ফীডিং কি নারীদের আকর্ষণ কম করে? আপনার ধারণা তেমন হলে এই লেখাটা পড়ে ফেলুন।

একজন স্বামী আমায় কী বলেছিলেন জানেন?

“আমি যখনই আমার স্ত্রীকে ব্রেস্টফীড করতে দেখি আমার মনের মধ্যে সমস্ত উত্তেজনা হারিয়ে যায়। আমাদের মেয়ের বয়স দু’বছর হয়ে যাওয়ার পরেও ও ব্রেস্টফীড করিয়ে যাচ্ছে এবং সে বিষয়ে আমার কোনও মতামত দেওয়ার অধিকার নেই। আমি জানি যে এই সিদ্ধান্তটা আমার ওর ওপরেই ছেড়ে দেওয়া উচিৎ এবং আমি সে’টাই করি। এ’তে আমাদের মেয়েও ভালোই থাকে। কিন্তু আমাদের যৌন-জীবন একদম আলুনি হয়ে পড়েছে। আমি আমার স্ত্রীকে ভালোবাসি, ওর স্বাধীনচেতা মনোভাবকে আর ওর মতামতগুলোকে সম্মান করি; কিন্তু ওকে এ’ভাবে দেখতে কিছুতেই ভালো লাগে না”।

যে পুরুষদের ভাবনাচিন্তা এই খাতেই বয়ে চলেছে, তাঁদের জন্য রইল এই খোলা চিঠি।

প্রিয় পুরুষ সিংহ,

আপনাদের অযৌক্তিক মতামতগুলো মাঝেমধ্যে শুনতে যে মন্দ লাগে তা নয়। এটাও অস্বীকার করছি না যে আপনাদের মতাদর্শ গতানুগতিক “তুমি নারী আমি পুরুষ” গোছের হাবভাব থেকে খেটেখুটে অনেকটা এগোতে পেরেছে। কিন্তু যেই আপনি বললেন যে “একজন মায়ের ব্রেস্টফীডিং তাঁকে আপনার কাছে কম আকর্ষক করে তোলে”, অমনি আপনি নির্লজ্জ অন্ধকারে হারিয়ে গেলেন।

মাতৃত্ব শুধু একটা সম্পর্কের নাম নয়, একজন মহিলাকে কে মা হিসেবে অনেক দিক সামলে উঠতে হয়। তিনি সন্তানের ধারক, শিশুর খাদ্যের সংস্থানও তিনি নিজে এবং নিজের সন্তানের সমস্ত চাহিদার যোগানও তাঁকেই দিতে হয়। এর ওপর যোগ হয় তাঁর ওপর চাপিয়ে দেওয়া বিভিন্ন সামাজিক চাহিদাগুলো। এ বাদে তাঁর শরীরে আসে অনেক পরিবর্তন যেগুলো সামাল দেওয়াও সহজ নয়। প্রত্যেক মাকেই অবিরত যুদ্ধ করে যেতে হয় যা’তে প্রতি মুহূর্তে তিনি নিজের সন্তানের প্রতি নিজের সেরাটা দিতে পারেন। আর এত কিছুর পর আপনার চাহিদা হচ্ছে সন্তানের খিদে মিটিয়ে তিনি আপনার জন্যে লাস্যময়ী হয়ে উঠবেন।

আপনি যে আপনার মতামত খোলাখুলি ভাবে জানানোর সাহস করেছেন তার জন্য আপনার সাধুবাদ অবশ্যই প্রাপ্য কিন্তু আপনার যৌন চাহিদা যেন আপনার বুদ্ধি বিবেচনাকে অকেজো না করে দেয়; সে’টা খেয়াল রাখবেন।

মনে রাখবেন যৌনতায় শরীরের চেয়েও মনের ভূমিকা অনেক বেশি। আপনার প্রিয় মানুষকে যদি সত্যিই ভালোবাসেন, যদি তাঁর ভাবনাচিন্তাগুলোকে সমর্থন করেন, সে ক্ষেত্রে বুঝবেন যে যৌনতা সেই ভালোবাসা প্রকাশের একটা উপায় মাত্র। কাজেই এর পর যদি আপনার মাথায় আবার সে সব উদ্ভট চিন্তা ভিড় করে তাহলে একটু ভেবে দেখবেন। আপনার স্ত্রীর অধিকারটুকু কেড়ে নেওয়ার কথা ভাবাটা সমীচীন নয়। এ’টা বুঝলেই আপনার স্ত্রীকে আপনার কম আকর্ষক কিছুতেই মনে হবে না। বিশ্বাস করুন।

শুভেচ্ছা জানবেন

ইতি

একজন মা (যে বিশ্বাস করে ব্রেস্টফীডিংটা তাঁর অধিকার)

এই কথাগুলো বলতে পেরে বেশ ভালো লাগছে। তবে বিজ্ঞানের দিকটাও সবার গোচরে আনা দরকার। এই ব্যাপারে ডাক্তাররা কী বলছেন?

খ্যাতনামা সেক্সোলজিস্ট ডাক্তার রজত ভোঁসলে এ সম্বন্ধে কী বলেছে জানেন?

“হ্যাঁ, আমি এই ধরণের ঘটনা নিজেও দেখেছি। স্বামীর ব্রেস্টফীডিং দেখে যৌনতায় অনীহা বোধ করার অনেক কারণ হতে পারে। ব্রেস্টফীডিং সম্বন্ধে তাঁর ধারণা বা বড় হয়ে ওঠার সময় ব্রেস্ট ফীডিংকে তিনি কী ভাবে দেখেছেন; এগুলোও থাকতে পারে তাঁর অনীহার পিছনে। এমন কি তাঁর নিজের মায়ের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপড়েনও ঠিক করে দিতে পারে তিনি ব্রেস্টফীডিংকে ঠিক কী ভাবে দেখছেন। কাজেই প্রত্যেকটা ঘটনাকে আলাদা করে বিচার করা দরকার”।

এই ধরনের অসুবিধের ক্ষেত্রে ডাক্তারেরা এই তিনটে উপদেশ দিয়ে থাকেন:

১। শিশুর জন্মের পর প্রথম মাস তিনেক বিশ্রাম নেওয়ার আদর্শ সময়। প্রাকৃতিক নিয়মেই এ সময়টা মায়ের শরীরকে সমস্তভাবে বিশ্রাম দেওয়া উচিৎ যা’তে সে তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে উঠতে পারে এবং নিজের সদ্যজাত সন্তানের যত্নে মন দিতে পারে।

২। শিশুর জন্মের ছ’মাসের মাথায় যদি স্ত্রী সুস্থ বোধ করেন এবং ইচ্ছে প্রকাশ করেন, তা’হলে দম্পতী যৌনমিলনের কথা ভাবতেই পারেন। তবে সে ক্ষেত্রেও গোটা ব্যাপারটা মসৃণ নাও হতে পারে, বিশেষত প্রথম বছর দুই। সে’টুকু মানিয়ে চলা অত্যন্ত দরকারি।

৩। এরপরেও যদি আপনার মনে হয় যে আপনার স্বামী কিছুতেই যৌনমিলনে আগ্রহ খুঁজে পাচ্ছেন না, সে ক্ষেত্রে থেরাপির সাহায্য নেওয়াটাই একমাত্র উপায়।

এ বিষয়ে আপনারা মায়েরা কী ভাবছেন? আমাদের লিখে জানান।

Translated by Tanmay Mukherjee

loader