দশ মিনিটেরও কম সময়ে তৈরি জলখাবার!

আপনার সকালের ব্যস্ততা আমাদের অজানা নয়। বিশেষত যখন ছেলেমেয়ের স্কুলে যাওয়ার আগের মুহূর্তের ছুটোছুটিতে আপনি যখন জেরবার।  খাওয়াদাওয়ার ব্যাপারে হাজার রকমের আবদার, স্কুলের টিফিন গুছিয়ে দেওয়া আর এ বাদে ঘরের অন্যান্য কাজ; এতকিছুর মধ্যে জলখাবার বানানোটা যুদ্ধের সমান হয় ওঠে। জলখাবারের পাতে চিরাচরিত ডিম সেদ্ধ, চিড়ে, উপমা, ইডলি আর দোসা তো আছেই। এ’খানে দেওয়া হল এমন কয়েকটা জলখাবারের রেসিপি যা বানানো সহজ আর বানাতে সময়ও কম লাগে। এই রেসিপিগুলো আপনার জলখাবার বানানোর গুরুভারও অনেকটা লাঘব করবে।

১। পীনাট বাটার আর জেলি দিয়ে টোস্ট।

আপনার ছেলে বা মেয়ে কি পীনাট বাটারের ভক্ত? তাহলে নিশ্চিন্তে টোস্টে পীনাট বাটার আর তার ওপর কিছুটা বেশি জ্যাম মাখিয়ে ওকে খেতে দিন। নিশ্চিত থাকুন; ও প্লেট সাফ করে দেবেই।

২। কলা আর নিউটেলা (Nutella) দিয়ে টোস্ট।

নিউটেলা খেতে ভালোবাসে না এমন শিশু আছে কি কোথাও? মনে হয় না। পাউরুটি অল্প সেঁকে নিয়ে তার ওপর নিউটেলা মাখিয়ে নিন। এর পর জুড়ে দিন কয়েক টুকরো কলা। অত্যন্ত সুস্বাদু হবে ব্যাপারটা।

৩। ঘরে তৈরি গ্র্যানোলা (granola)।

দোকান থেকে গ্র্যানোলা-বার কিনে আনা বন্ধ করে বাড়িতে সে’রকম কিছু বানিয়ে নিলে কেমন হয়? অল্প তেলে আপনার সন্তানের প্রিয় খাদ্যশস্য, মুড়ি, খেজুর বা অন্যান্য ড্রাই ফ্রুট একটা বড় পাত্রে করে চাপিয়ে দিন। তা’তে অল্প মধু মিশিয়ে ভালো করে নেড়ে নিন। মণ্ডটা জমাট বাঁধলে একটা প্লেটে নামিয়ে নিন এবং ঠাণ্ডা হতে দিন। এরপর একটা এয়ারটাইট পাত্রে দিন চারেক রেখে দিন। চারদিনের মাথায় পাত্র থেকে মণ্ডটা বের করে ছোট ছোট বার কেটে শিশুকে খেতে দিন। অথবা দুধের সঙ্গে মিশিয়েও খাওয়াতে পারেন।

৪। আগের দিন রাতের ওটস (Oats)।

এই ব্যাপারটাও বেশ সহজ, সরল এবং এ’তে রয়েছে প্রচুর প্রোটিন। একটা এয়ারটাইট পাত্রে ওট, দুধ , বাদাম আর কলার টুকরো রাখুন। এরপর পাত্রটা গোটা রাত রেফ্রিজারেটরে রেখে দিন। পরের দিন সকালে আরও দুধ আর ফলের সঙ্গে মিশিয়ে সার্ভ করুন। মিষ্টি স্বাদ যোগ করতে অল্প মধুও ছড়িয়ে নিতে পারেন।

৫। কলা আর ওটসের মিল্কশেক।

কলা আর ওটের জুড়ির কোনও তুলনাই হয় না। শুধু স্বাদের জন্যই নয়, আপনার শিশুর পেট দীর্ঘক্ষণ ভরা রাখতেও এই কম্বিনেশনের কোনও তুলনা হয় না। কলা, ওট আর মধু দুধের সঙ্গে ব্লেন্ড করে ঘন মিল্কশেক তৈরি করে নিন। অল্প দারুচিনি পাউডার, বাদাম আর ফলের কুচি মিশিয়ে নিলে স্বাদ আরও দুর্দান্ত হবে।

৬। দুধ আর টোস্ট।

আপনার শিশুটির খাওয়া নিয়ে বায়নার শেষ নেই? কিছুই ওর মুখে রুচছে না? তা’হলে স্কুলে যাওয়ার আগে ওকে স্রেফ টোস্ট গরম দুধে ডুবিয়ে খাইয়ে দিন। এমনি দুধের বদলে ফ্লেভার-যুক্ত দুধও ব্যবহার করতে পারেন, তা’তে অন্তত আপনার শিশুর দুধের প্রতি অনাগ্রহ কিছুটা কমতে পারে।  

Translated by Tanmay Mukherjee

loader