গৃহবধূ মায়েদের যে পাঁচটা কাজ একেবারেই করা উচিৎ নয়। একদমই নয়!

যেই সব মায়েরা গৃহবধু, তাঁরা গেরস্থালীর ব্যস্ততায় নিজের অজান্তেই বেশ কিছু বদ অভ্যাসের খপ্পরে পড়ে যান। বিশ্বাস করুন, বেশির ভাগ গৃহবধুদেরই এ'গুলোর সঙ্গে যুঝতে হয়। কাজেই সময় থাকতে সে অভ্যাসগুলোকে বিদেয় দিন, আর দেরী নয়।

(The Health Site থেকে সংগৃহীত)

১. বাসি খাবার খাওয়া:

'গত কাল রাতের দু'টো রুটি বেঁচে গেছে? নষ্ট না করে বরং রুটিগুলো আবার সেঁকে নিয়ে আমিই খেয়ে ফেলি", এমনটা আকছার শোনা যায়। অনেক মহিলাই নিজের স্বামী ও সন্তানের
জন্য টাটকা গরম খাবার বেড়ে দিলেও পুরনো বাসি খাবার নষ্ট হওয়ার ভয়ে নিজেই খেয়ে
ফেলেন। অথচ  আগের দিনের খাবার যদি কিছু বেঁচে গিয়েও থাকে, সে'টা খেতে হলে বাড়ির সকলের ভাগ করে খাওয়া উচিৎ।
ভুললে চলবে না যে রান্না করা খাবার ফ্রিজে রাখলেও তা'তে জীবাণু জমতে শুরু করে। এ ছাড়া দ্বিতীয় বার গরম করা
খাবারে বেশির ভাগ পুষ্টিই নষ্ট হয়ে যায়।

২. সর্বত্র যোগা প্যান্ট পরে ঘোরা:

যে
কোনও কাজে দৌড়োদৌড়ির সময় বা ছেলেমেয়েকে স্কুল থেকে আনার সময়, অনেক মায়েরাই যোগা প্যান্ট পরে বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়েন। হয়ত
আপনি ভীষণ ব্যস্ত, ঘরের কাজের বিস্তর চাপ আপনার মাথায় কিন্তু তবু
মনে রাখবেন যে পোশাক পালটে জিনস বা অন্যকিছু পরে নিতে বড় জোর মিনিট খানেক সময়
লাগে। যোগা প্যান্ট পরে ছেলেমেয়ের স্কুলে ছুটে যাওয়াটা কিন্তু মোটেই সমীচীন নয়।
অমন অযত্নে পরা পোশাকে আপনাকে দেখলে আপনার ছেলে বা মেয়েরও ভালো নাই লাগতে পারে।
তার ওপর আপনি ভাবুন যে আপনাকে ওই ভাবে দেখলে আপনার ছেলেমেয়ের স্কুলের টীচাররা কী
ভাববেন। প্রথম দেখার স্মৃতি মনে চিরকালের জন্য গেঁথে যায়, তাই বাইরে বেরোনোর সময় পোশাকের ব্যাপারে একটু যত্নশীল
হওয়াটা আপনার কর্তব্য। এ সমাজে মায়েদের জ্বালা কম নয়।

৩. চারপাশের ঘটনাপ্রবাহের সম্বন্ধে আদৌ ওয়াকিবহাল না থাকা:

স্বামী
সন্তানের যত্ন নেওয়া যেমন আপনার কর্তব্য তেমনি আপনার চারদিকের পৃথিবীটায়, ঘরে বাইরে কী কী ঘটছে;সে
সম্বন্ধেও আপনাকে সচেতন থাকতে হবে বইকি। খবরের কাগজ না পড়া, টিভি নিউজ না দেখা বা চারপাশের খবরাখবর সম্বন্ধে চোখ বুজে
থাকা একটা অমার্জনীয় ভুল যে'টা গৃহবধুরা
মাঝেমধ্যেই করে থাকেন। নিজেক সচেতন রাখাটা আপনার নিজের আত্মবিশ্বাস ও দৃষ্টিভঙ্গির
স্বচ্ছতার জন্য অত্যন্ত দরকারি। এবং তা না হলে আপনি ক্রমশ টের পাবেন যে বিভিন্ন
সামাজিক জমায়েত বা সোশ্যাল মিডিয়ার আলোচনা বা হোয়্যাটস্যাপ গ্রুপে আপনি ক্রমশ চুপ
করে যাচ্ছেন, আপনার আত্মবিশ্বাস ক্রমশ হারিয়ে যাচ্ছে।

৪. কর্মব্যস্ততার মধ্যে নিজের জন্য সময় বের না করতে পারা:
ঘরের
যাবতীয় কাজ এবং বাচ্চা সামলিয়ে হয়ত আপনার নিজের জন্য বিশেষ সময় পড়ে থাকে না।
কিন্তু তার মানে এ'টা কিছুতেই নয় যে আপনাকে শখ আহ্লাদ সব কিছু
ভুলে যেতে হবে। আপনার পরিবারের ভালোমন্দ দেখতে গিয়ে আপনি আপনার নিজের শখ আর
হবিগুলো ভুলে যাওয়াটা রীতিমত অন্যায় হবে।
যত
ব্যস্তই আপনি থাকুন, দিনের কিছুটা সময় অন্তত নিজের শখ আর হবিগুলোকে
নিয়ে কাটান। শপিং ভালোবাসেন? কিন্তু কেনাকাটি
মানেই আজকাল শুধু নিজের ছেলে বা মেয়ের জন্য খেলনা বা পোশাক কেনা?  এ'বার একবার স্রেফ নিজের জন্য কেনাকাটি করতে বেরিয়ে পড়ুন।
স্পা'তে যান, নিজেকে ভালোবেসে
নিজের ওপর একটু বাড়তি খরচ করুন। দেখবেন, দিব্যি লাগবে।

৫. অন্য কারুর ওপর নির্ভরশীল হওয়া:

গৃহবধূর
দায়িত্ব আর কাজের চাপ কম নয়। কিন্ত তবুও অনেক সময় দেখা যায় শুধু অর্থনৈতিক ভাবে নয়, শারীরিক ও মানসিক ভাবেও তিনি অন্যের ওপর নির্ভরশীল। নিজের
ছোটখাটো প্রয়োজনেও তিনি অন্যের মুখাপেক্ষী হয়ে বসে আছেন। সামান্য মুদিরর দোকান
থেকে কিছু আনতে হলেও তিনি পরিবারের কারুর সাহায্য প্রত্যাশা করছেন। মনের রাখবেন, একজন মানুষ হিসেবে আপনার নিজের আত্মবিশ্বাস অত্যন্ত দরকারি
এবং সম্পূর্ণ ভাবে পরনির্ভরশীল হয়ে আপনার পড়লে আত্মবিশ্বাস কমতে বাধ্য।

Translted by Tanmay Mukherjee

loader