বাচ্চাকে মারধোর না করে শাসন করার ৫টা কার্যকরী উপায়।

(এই প্রবন্ধ  YourDOST থেকে সংগৃহীত)

সব বাবা মায়েরাই নিজের বাচ্চাদের প্রাণের চেয়েও বেশি ভালোবাসেন। কিন্তু কখনও কখনও তাঁদের এমন পরিস্থিতিতে পড়তে হয় যে ছেলেমেয়েকে কী ভাবে শাসন করলে কাজ হবে সে'টা বুঝে উঠতে না পেরে তাঁরা বাচ্চাদের মারধোর করে বসেন। ফ্যামিলি রিসার্চ ল্যাবরেটরির ডাক্তার মারে স্ট্রাউসের মতে মারধোর করা মানে বাচ্চাদের হিংস্র করে তোলা। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে যে যারা ছোটবেলায় নিয়মিত মারধোর খেয়েছে, বড় হয়ে তাঁরাই আত্মবিশ্বাসের অভাব আর ডিপ্রেশনে ভুগেছে।

তাহলে ছেলেমেয়েকে মারধোর না করে কী ভাবে শাসন করতে হবে? 

১। দৃঢ় ভাবে কথা বলুন। এবং শান্ত থাকুন। 

বাচ্চার কোনও ব্যবহারে হয়ত আপনি অত্যন্ত বিরক্ত বোধ করছেন বা ভীষণ রেগে গেছেন। আপনি চাইছেন ওর ভুলটা স্পষ্ট ভাবে ওকে বুঝিয়ে দিতে। কিন্তু দুম করে কিছু বলে ফেলার আগে নিজেকে শান্ত করুন। কোনও কিছু দৃঢ় ভাবে বলতে হলেই যে চিৎকার করতে হবে; তার কোনও মানে নেই। ওকে ঠাণ্ডা মাথায় বোঝান ওর ভুল ঠিক কোথায় ছিল। 

২। ওদের সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করুন। 

নিজের বাচ্চাকে বুঝতে সাহায্য করুন যে ওর নিজের জন্য কোনটা ভালো আর কোনটা মন্দ। অল্প বয়স থেকেই ও নিজের হয়ে সিদ্ধান্ত নিতে শিখুক। আর প্রতিটি সিদ্ধান্তের ঠিক বেঠিক দিকগুলো ওর কাছে স্পষ্ট করে দিন।  

৩। যুক্তিনির্ভর কথা বলুন। 

ছেলেমেয়ের সমীহ আদায় করে নেওয়া এক জিনিস, কিন্তু ওদের ঘাড়ে ভয়ের বোঝা চাপিয়ে দেওয়াটা সম্পূর্ণ অন্য ব্যাপার এবং সে'টা আদৌ অভিপ্রেত নয়। আপনার দায়িত্ব ওকে ওর ভুল শুধরে নিতে সাহায্য করা বা ঠিক বেঠিকগুলো ওকে চিনিয়ে দেওয়া। এ'তে ও আরও দায়িত্ববান হয়ে উঠবে। 

৪। ঝগড়া থেকে সরে আসুন। 

পরিস্থিতি এমনও হতে পারে যে আপনার বাচ্চা আপনার সঙ্গে অসম্মানজনক ব্যবহার করছে। সে ক্ষেত্রেও দরকার মাথা ঠাণ্ডা রাখার, মারধোর কিছুতেই করবেন না। যদি ঝগড়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়, কথা না বাড়িয়ে পাশ কাটিয়ে চলে যান। মাথা ঠাণ্ডা হলে আপনার ছেলে বা মেয়ে নিজেই এসে আপনার সঙ্গে কথা বলতে চাইবে। তখনকার আলোচনা বরং ফলপ্রসূ হতে পারে। 

৫। বাচ্চাকে আগে থেকে নিজের মতামত জানিয়ে রাখুন। 

অনেক সময় বাচ্চাদের বদমেজাজের পিছনে থাকে তাঁদের অসহায়তা, এ'টা আপনাকে বুঝতে হবে। কোনও অনাবশ্যক ঘটনা ঘটে যাওয়ার আগেই ওকে ঠিক ভুলগুলো বোঝাতে চেষ্টা করুন, ভালো মন্দের তফাৎটা ওর সামনে স্পষ্ট দিন। এ'ভাবে ও একদিকে যেমন নিজের দায়িত্ব সম্বন্ধে সচেতন হবে, তেমনি অন্যদিকে এ'টাও বুঝবে যে আপনার ওর প্রতি অগাধ বিশ্বাস রয়েছে। 

বাচ্চাকে শাসন করার সময় এমন কিছু করে বসবেন না যাতে ওর আত্মবিশ্বাস ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সঠিক শাসন বাচ্চাদের ভালোর জন্যেই জরুরী কিন্তু খেয়াল রাখবেন যাতে আপনার শাসনের চোটে ও আপনাকে ভয় পেতে না শুরু করে। আপনার প্রতি ওর বিশ্বাস যেন অটুট থাকে। 

Translated by Tanmay Mukherjee

loader