আদর্শ জীবনসঙ্গিনীর ১৪টা গুণ

আদর্শ স্ত্রী হওয়া কি আদৌ সম্ভব? আমরা বলি সম্ভব। এই প্রবন্ধে উল্লেখ রইল সেই ১৪গুণের যা একজন আদর্শ স্ত্রীয়ের মধ্যে থাকা উচিৎ। সে’গুলো পড়ে আপনি নিজেই ঠিক করে নিন আপনি নিজে কতটা আদর্শ জীবনসঙ্গিনী হয়ে উঠতে পেরেছেন। 

(Familyshare থেকে সংগৃহীত)

১। স্বামীর সাফল্যে আপনি উচ্ছ্বসিত হয়ে পড়েন। 

ওঁর প্রমোশন বা খেলাধুলোয় কোনও পুরষ্কার বা প্রথম বার মাটন কষা রান্না করতে পারা;  ওঁর ছোট বড় সমস্ত সাফল্যেই যদি আপনি গা ভাসাতে পারছেন কি? স্বামীর প্রতিটি সাফল্য যদি আপনার কাছে আপনার নিজের সাফল্যের মতই গুরুত্বপূর্ণ হয় তাহলে জানবেন যে আপনি ওঁকে সত্যিই ভালোবাসেন।  

২। নির্বিবাদে আপনি ওঁর প্রিয় সিনেমাগুলো একসঙ্গে বসে দেখেন (তা সে সিনেমা আদতে আপনার যতই খারাপ লাগুক না কেন)। 

ধরুন কোনও সিনেমা আপনি আগেই দেখে ফেলেছেন এবং দেখে আপনার অত্যন্ত বাজে লেগেছিল।  অথচ সেই সিনেমাটাই আপনার স্বামীর অত্যন্ত প্রিয়। আদর্শ সঙ্গিনী হিসেবে আপনি হাসিমুখেই বসে পড়বেন আপনার স্বামীর পাশে; সিনেমাটা আবার দেখতে। ওঁর হাততালির সঙ্গে তাল মেলাতেও কসুর করবেন না হয়ত; ভালোবাসা  ব্যাপারটাই এমন অনাবিল। 

৩। আপনার স্বামীই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। 

আপনার জীবনে সব চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আপনার স্বামীর। আপনার কেরিয়ার বা অন্যান্য শখ আপনার কাজে জরুরী হতে পারে কিন্তু ওঁর চেয়ে বেশি নয়। আপনার জীবনে আপনার বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়স্বজন এমনকি আপনার সন্তানের চেয়েও আপনার স্বামীর ভূমিকা বেশি। 

৪। আপনি নিজের কাজ নিজে সামলে নিতে পছন্দ করেন। 

আপনার বর আপনার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানুষ মানে এই নয় যে আপনার আর কোনও চিন্তা বা কাজ থাকতে পারে না। স্ত্রীর ভূমিকা ছাড়াও আপনাকে আরও অনেক দায়িত্ব পালন করতে হয়। স্বামীর পাশে আপনি থাকবেন ঠিকই, কিন্তু নিজের কাজগুলো একা হাতে সামলাতেও আপনার আপত্তি থাকার কথা নয়। আপনি একজন সম্পূর্ণা; সে’টা ভুললে চলবে না। 

৫। ওঁর প্রিয় খাবারগুলো আপনার রান্না করতে ভালো লাগে। 

রান্নায় আপনার শত বিরক্তি থাকুক বা আপনার রান্না যতই বিস্বাদ হোক, ওঁর প্রিয় খাবার রাঁধতে কোমর বেঁধে রান্না ঘরে ঢুকে পড়লেই ওঁ বুঝবে যে আপনি সত্যিই ওঁকে কতটা ভালোবাসেন। 

৬। আপনি ওঁকে হাসাতে পারেন। 

বৌয়ের সেন্স অফ হিউমর যে কোনও বরকেই ভালোবাসায় ঘায়েল করবেই। বরকে হাসাতে পারার মত ভালোবাসার সহজ টোটকা আর দু’টি নেই।

৭। ওঁর সিক্রেটগুলো আপনি আগলে রাখেন। 

আপনার উচিৎ নিজের বরের সমস্ত সিক্রেট সিআইএ’র তৎপরতায় আগলে রাখা। ওঁর গোপন গল্পগুলো যেন আপনার নিজের মাও না জানতে পারেন; অন্যান্য আত্মীয় বা বন্ধুবান্ধব তো নয়ই। গোপনীয়তা রক্ষা হচ্ছে বিশ্বাস অর্জনের প্রথম ধাপ, বিশেষত স্বামী স্ত্রীর সম্পর্কে। 

৮। আপনি ওঁর বন্ধুদের পছন্দ করেন (এবং তাঁরাও আপনাকে পছন্দ করে)। 

আপনি এ’টা ভালোভাবেই জানেন যে আপনার বরের প্রিয় বন্ধুরা ওঁর সঙ্গে বহুদিন ধরে রয়েছে, ওঁর জীবনের সঙ্গে মিশে গেছে এই চরিত্রগুলো। আপনার ভালোবাসার মানুষটার বন্ধুবান্ধবকে মেনে নিতে পারাটা জরুরী।  আর নিজের বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে কিছুটা সময় যদি ওঁ কাটাতে চায় তাহলে আপনার আপত্তির কিছু থাকা উচিৎ নয়। আর ওঁর বন্ধুদের সঙ্গে আপনারও বন্ধুত্ব হয়ে গেলে তো কোনও কথাই নেই। 

৯। আপনার হয়ে ওঁ কিছু সিদ্ধান্ত নিতেই পারে।   

সংসারের জন্য কোনটা ভালো সে’টা হয়ত আপনিই সবচেয়ে ভালো বোঝেন, কিন্তু সংসারটা যখন দু’জনের তখন আপনার হয়ে কিছু কিছু সিদ্ধান্ত আপনার স্বামীও নিতেই পারেন। নতুন সোফাটা কোথায় রাখা হবে বা আজকের ডিনারের ব্যবস্থা কী হবে, এমন কিছু কিছু ব্যাপার ঠিক করার দায়িত্ব ওঁর ওপর ছাড়লে ক্ষতি নেই কিছু। এ’তে সংসারকে ওঁ সহজে আপন করে নিতে পাড়বে। আর মাঝেমধ্যে বরকে ‘সার্ভ’ করার সুযোগ দেওয়ার আইডিয়াটাও মন্দ নয়। 

১০। মাঝেমধ্যেই ছোটখাটো মেসেজ লিখে পাঠানো। 

টিফিন বাক্সে রেখে দেওয়া ছোট্ট ভালোবাসার চিরকুট।  অথবা আয়নার কোণে লিপস্টিকে লেখা কয়েকটা শব্দ। বা ওঁর পকেটে রেখে দেওয়া গোপন চিঠি; এ’গুলো যে কোন স্বামীর জন্যেই অমূল্য। আর কিছু না হোক হঠাৎ পাঠানো এসএমএসে বলা “আই লাভ ইউ”টুকুও আপনার বরকে রীতিমত বৌ-পাগল করে তুলতে পারে। 

১১। একটানা খিটখিট না করা। 

আপনি চান আপনার বর নিখুঁত হয়ে উঠুন, আপনি চান যা’তে তিনি অগোছালো না হয়ে পড়েন। এবং এই চাওয়াগুলো মন্দও নয়। তবে মনে রাখবেন আপনি ওঁর সঙ্গী, মা বা গার্জিয়ান নন। কাজেই একে অপরকে সাহায্য করে দু’জনে এগিয়ে যাবেন সে’টাই কাম্য। একে অপরকে ধমকে কাজ চালানোর চেষ্টা খুব একটা অভিপ্রেত নয়। একটানা ওঁর ভুলচুকগুলো নিয়ে খিটখিট করে গেলেই ওঁর পক্ষে নিজেকে শুধরে নেওয়া সম্ভব হবে না, এবং তা’তে আপনিও নিজেকে আদর্শ সঙ্গিনী হিসেবে প্রতিপন্ন করতে পারবেন না। 

১২। স্বামীর হয়ে প্রার্থনা। 

আপনি ঈশ্বর বিশ্বাসী হলে আপনার প্রার্থনায় যেন সবসময় আপনার স্বামীর মঙ্গলকামনা মিশে থাকে। স্বামীর ভালো মন্দের দিকে যেন সবসময় আপনার নজর থাকে।  এই সহজ ব্যাপারগুলোই যে কোনও সম্পর্কে মাধুর্য যোগ করে।   

১৩। ওঁর সঙ্গে কাটানো প্রতিটি মুহূর্ত আপনার কাছে মূল্যবান। 

দিনে কিছুটা সময় যেন আপনাদের একসঙ্গে নিভৃতে কাটে। তখন যেন আপনার মনোযোগ সম্পূর্ণ ভাবে ওঁর ওপরই থাকে, ফেসবুক বা ইন্সটাগ্রামে নয়। আপনাদের অন্তরঙ্গ মুহূর্তগুলোর মধ্যে থেকে টিভি বা ইন্টারনেট গোছের বিরক্তিকর উপাদানগুলো বাদ দেওয়াই ভালো। 

১৪। ভুল হতেই পারে কিন্তু  আপনি হাল ছাড়ার পাত্রী নন। 

মানুষ মাত্রই ভুল হয়, আপনি নিজে ভুল করতে পারেন, আপনার স্বামীরও ভুল হতেই পারে। আর ভুল সব সময় ছোটখাটো নাও হতে পারে। কিছু ভুলের জন্য সম্পর্কে চিড় ধরাটাও অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু একজন আদর্শ জীবন সঙ্গিনী সহজে হাল ছাড়ার পাত্রী নন। তিনি সবসময় চেষ্টা করবেন যাবতীয় ভুল অতিক্রম করে সম্পর্কটাকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে।    

Translated by Tanmay Mukherjee

loader