শিশুরা তাদের বাবার এই দশটি বৈশিষ্ট্য তাদের শরীরে ধারণ করবে (মা’ র নয়)

শিশুরা স্বাভাবিক ভাবেই তাদের মা অথবা বাবার মতোই হবে, কিন্তু জিনেটিক সায়ন্টিস্টদের খোঁজ বলে যে এই দশটি বৈশিষ্ট্য শিশুরা তাদের বাবা ‘র থেকেই পায় ।

(১) চোখের বর্ণ অর্থাত্ রং: আপনার শিশুর চোখের রং কি হতে পারে? আপনার স্বামী’ র চোখের দিকে তাকান । সাধারণতঃ কৃষ্ণাভ যেমন কটা/বাদামি রংয়ের বেশি দেখা যায়। এখন বাবা মায়ের দুজনেরই যদি কটা হয় তবে শিশুর চোখের রং ও তাই হবে । কিন্তু যদি বাবার চোখের রং যদি নীল আর মায়ের যদি কটা হয় তবে শিশুর চোখের রং বাবার মতোই নীল রং হবার সম্ভাবনা বেশী।

(২) শিশুর ঠোঁট : আপনার শিশু কার ম’তো দেখতে হবে ভেবে যখনই আপনি আপনার শিশুর মুখের দিকে তাকাবেন, আপনার চোখ যেসব বৈশিষ্ট্য খুঁজবে তার একটা হবে শিশুর ঠোঁট। স্বাভাবিক ভরাট ঠোঁট একটা প্রবল বৈশিষ্ট্য। শিশুর বাবা যদি সেই ধরনের ঠোঁটের অধিকারি হনু তাহলে আপনার শিশুর ঠোঁটও তার বাবার মতোই হবে নিশ্চিত জেনে রাখুন।

(৩) চুলের রং ও তার ধরণ : শিশুর মাথার চুল কালো হবে না পিংগল, সোজা হবে না কোঁকড়া ?  তা কি বাবার মতোই হবে, যেমন চোখের রং বাবার মতো হয়। ঠিক তাই , বাবার মতোই হবার প্রবল সম্ভাবনা কারণ শিশুর চুল ও তার বিন্যাস তার বাবার ‘জিন’ অর্থাৎ বংশানুক্রমই প্রবল নির্নায়ক।

(৪) রসিকতা বোধ / কৌতুক প্রিয়তা : এখানে বংশানুক্রম থেকে ব্যক্তিগত বৈশিষ্ট্যের অবদান বেশি।  শিশুর বাবা যদি হাসিখুশি ও কৌতুক প্রিয় স্বভাবের অধিকারি হন, আপনার শিশু তার বাবার প্রতি স্বাভাবিক ভাবেই আকৃষ্ট হবে ও অনুসরণ করার চেষ্টা করবে। …

(৫)আপনার শিশুর শো’বার ধরণ বা ঘুমাবার অভ্যাস :  আপনার শিশু ঘুমাবার সময় যদি বিছানায় বার বার এ কাত ও কাত করতে করতে ঘুমায় তবে এটি অবশ্যই তার বাবার অভ্যাস থেকে এসেছে। শোবার ও ঘুমাবার ধরণ ধারণ সাধারণতঃ বংশানুক্রমিক। এরকম আছে যারা ঘুমিয়ে পড়লে ঢাক ঢোলের শব্দেও ঘুম ভাংগবেনা। গাঢ় নিশ্চিন্ত শান্তি ময় ঘুম। আর এক আছে অল্প ও পাতলা ঘুম বা অনিদ্রা জনিত ঘুম, দুটোই  বংশানুক্রমিক যা শিশু তার বাবার থেকে পাবার সম্ভাবনা বেশি।   

(৬) শারীরিক উচ্চতা ও ওজন : এই ব্যাপারটা বংশানুক্রমিক হবার প্রবল সম্ভাবনা। শিশুর বাবা যদি দীর্ঘ কায় ব্যক্তি হন তবে আপনার শিশু ও তাই হবে তবে মা যদি ছোটখাট চেহারার হন শিশু একেবারে বাবার মতো নাহলেও মোটামুটি বাবার মতোই হবার সম্ভাবনা এবং ওজনেও বাবার মতোই হবার খুব সম্ভাবনা।

(৭) একই রকমের হাত ও আংগুলের ছাপ: যদিও দুটো মানুষের আংগুলের ছাপ একই রকমের হওয়া অসম্ভব। কিন্তু বাবা ও তার সন্তানের হাত ও আংগুলের নমুনা বা পেটার্ণের মধ্যে একটা সাদৃশ্য তো থাকবেই আংগুলের ছাপের ও সামন্জস্য থাকবে ।

(৮) বিপদের ঝুঁকি নেবার প্রবৃত্তি : কৌতুক বা রসিকতা বোধ যেমন ব্যক্তিগত বৈশিষ্ট্যের মধ্যে আসে এবং বাবার সেই বৈশিষ্ট্য যেমন তার সন্তানের মধ্যেও বর্তায় তেমনি আরেক বৈশিষ্ট্য হলো বিপদের ঝুঁকি নেবার সাহস ও মানষিকতা । বাবার এই সাহস ও মানষিকতা থাকে, তাহলে তার সন্তানের মধ্যেও এই সাহস ও মানষিকতা দেখা যায় আর এটা থেকে তারা আনন্দ উপভোগ ও করে ।

(৯)   দাঁতের আকৃতি ও প্রকৃতি :  বাবার দাঁতের কোনও সমস্যা থাকলে যেমন দাঁতে পোকা লাগা (কভিটি) , উঁচু নিচু দাঁত বা দাঁতের মধ্যে ফাঁক  থাকলে, তার সন্তানের দাঁতও সেইরকমের হওয়া সম্ভব।

(১০)  গালে টোল পড়া : এক সৌন্দর্য বিশেষ :: শিশুরা হাসলে পরে তাদের ভরাট গালগুলোতে যে টোল পড়ে সেটা  কে দেখতে কার না ভালো লাগে ? শিশুর এই বিশেষ সৌন্দর্য টুকু তার বাবার থেকেই আসার সম্ভাবনা বেশি। খেয়াল করলেই দেখতে পাবেন যে শিশুর বাবার গালে ও ঐ বিশেষ ব্যাপারটা আছে।

আপনি হয়তো কখনো খেয়াল করেছেন যে আপনার শিশু টি হাসলে অথবা রেগে গেলে তার মুখের চেহারাটি আদল অনেকটা তার বাবার মুখের মতো হয়ে যায়। জিনেটিক সায়েন্টিষ্টরা আপনার দেখা এই সাদৃশ্যকে খোঁজার জন্য ইঁদুরের উপর পরীক্ষা নিরীক্ষা চালিয়ে দেখেছেন। ইঁদুরের উপর এইজন্য যে মানুষের জিনের ৯৯ শতাংশ ইঁদুরের জিনের অনুরূপ এবং তারা পরীক্ষা করে পেয়েছেন যে বাবার জিনের অধিকাংশই তার সন্তানের মধ্যে সুপ্ত অবস্থায় থাকে। সেজন্যই সাধারণত সন্তান তার বাবার মতো হবে এটাই স্বাভাবিক। এজন্যই বোধ হয় বলা হয় যে ” ঘুমিয়ে থাকে শিশুর পিতা সব শিশুদের অন্তরে “।

Translated by: Ramit Bhattacharjee

loader